📌 বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যার মামলায় ৭ বছর পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। হাইকোর্টের রায় অনুমোদিত হলেও আপিল বিভাগে শুনানি অগ্রাধিকার পায়নি। অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অসম চুক্তি ও পানি আগ্রাসনের বিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করার কারণে বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর পরও বিচারিক রায় কার্যকর হয়নি। মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে আনা হয়েছে, কিন্তু আপিল বিভাগে শুনানি অগ্রাধিকার পায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার বাবা চকবাজার থানায় মামলা করেন।
- 📌 পুলিশ তদন্তে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ২৫ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়।
- 📌 ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
- 📌 ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে রায়ের অনুমোদন নথি পৌঁছায়, কিন্তু আপিল বিভাগে শুনানি অগ্রাধিকার পায়নি।
- 📌 অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, ‘রায় দ্রুত কার্যকর হওয়া উচিত। সমাজে এমন নির্মম ঘটনা আর ঘটার সাহস কেউ না পায় সে বার্তা যেতে হবে।’
- 📌 আসামিরা আপিল বিভাগে মামলা দায়ের করেছেন। আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেছেন, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ উদ্যোগ নিতে হবে।’
- 📌 আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে আর কোনো আবরার হত্যা না হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো র্যাগিংমুক্ত রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
📰 বিস্তারিত
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিবির সন্দেহে আবরারকে নির্যাতন করে হত্যা করেছিল। মামলায় পুলিশ বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ২৫ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করে।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত ২০ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। আদালতের রায়ে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আবরার ফাহাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। বিচারিক আদালতের রায় অনুমোদনের জন্য ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে নথি পৌঁছায়।
হাইকোর্টের রায় অনুমোদিত হলেও আসামিরা আপিল করে। গত বছরের ১৬ মার্চ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা হয়। পরে ৩ মে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে আসামিরা আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘আপিল বিভাগে মামলা তারিখের ক্রমানুসারে শুনানি হয়ে থাকে। তবে প্রধান বিচারপতি চাইলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে পারেন।’
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, ‘আমরা কোনো মামলায় বিলম্ব ঘটাতে চাই না। এই মামলা যখনই শুনানি শুরু হবে আমরা কোনো মুলতবি চাইব না। মানুষ দেখতে চায়, রায় দ্রুত কার্যকর হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে একটি বার্তা যাওয়া উচিত যে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ভিন্নমতের ব্যক্তিদের ওপর এমন নির্মম ঘটনা যাতে কেউ ঘটানোর সাহস না পায়।’
আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ সন্তুষ্টি জানিয়ে বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে যেন আর কোনো আবরারকে জীবন দিতে না হয়। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে পারে, তা নিশ্চিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে র্যাগিংমুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।’
“আমরা কোনো মামলায় বিলম্ব ঘটাতে চাই না। এই মামলা যখনই শুনানি শুরু হবে আমরা কোনো মুলতবি চাইব না। মানুষ দেখতে চায়, রায় দ্রুত কার্যকর হয়েছে। রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে একটি বার্তা যাওয়া উচিত যে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ভিন্নমতের ব্যক্তিদের ওপর এমন নির্মম ঘটনা যাতে কেউ ঘটানোর সাহস না পায়।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বুয়েট (ঢাকা), চকবাজার থানা (ঢাকা), হাইকোর্ট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবরার ফাহাদ, বরকত উল্লাহ, রুহুল কুদ্দুস কাজল, আজিজুর রহমান দুলু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ বছর, ২৫ জন নেতা-কর্মী, ২০ জন মৃত্যুদণ্ড, ৫ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৭ অক্টোবর ২০১৯
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!