📌 ২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। বিচারিক আদালতে মাত্র ১৭ কার্যদিবসে রায় দেওয়া হলেও আপিল বিভাগে মামলাটি ৯ বছর ধরে ঝুলে আছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির মধ্যে একজন পলাতক, অন্যরা আপিলের অপেক্ষায় রয়েছে
২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক আদালতে মাত্র ১৭ কার্যদিবসে রায় দেওয়া হলেও আপিল বিভাগে মামলাটি ৯ বছর ধরে ঝুলে আছে। সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের এই শিশুকে চুরির অভিযোগে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীদের একজন মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও ক্ষোভের ঝড় উঠে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত শিশুর বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে।
- 📌 বিচারিক আদালতে মামলার বিচার শেষ হয় মাত্র ১৭ কার্যদিবসে, কিন্তু আপিল বিভাগে মামলাটি ৯ বছর ধরে ঝুলে আছে।
- 📌 হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেও আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়নি।
- 📌 চার আসামির মধ্যে একজন পলাতক জাকির হোসেন পাভেল আহমদ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে তিনজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
- 📌 হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ, ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট ১৩ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
📰 বিস্তারিত
২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে শিশু রাজনকে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত শিশুর বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে। হত্যাকারীদের একজন মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও ক্ষোভের ঝড় উঠে। দ্রুত তদন্ত শেষে বিচারিক আদালতে মামলার বিচার শেষ হয় মাত্র ১৭ কার্যদিবসে।
২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট পুলিশ ১৩ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দায়ের করে। বিচারিক আদালতে মামলার শুনানি শুরু হয় সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে। ১৭ কার্যদিবসের বিচার শেষে ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর আদালত রায় ঘোষণা করে। চার আসামি কামরুল ইসলাম, ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও পলাতক জাকির হোসেন পাভেল আহমদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কামরুলের সহযোগী নূর মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং কামরুলের তিন ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুলাল আহমদ ও আয়াজ আলীকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলায় অভিযোগপত্রে ১৩ জন আসামি থাকলেও বিচারিক আদালতে ১০ জনের সাজা হয় এবং তিনজন খালাস পায়।
বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স যায় হাইকোর্টে। ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। ১৯ কার্যদিবসে শুনানি শেষ হয় এবং ১১ এপ্রিল রায়ের দিন ধার্য করা হয়। সেদিন হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের চার আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তিন আসামির সাত বছর করে এবং দুই আসামির এক বছর করে কারাদণ্ডও বহাল থাকে। তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া নূর মিয়ার সাজা কমিয়ে ছয় মাস করা হয়।
"রাজনকে হারানোর কষ্ট কোনো দিন শেষ হবে না। এত বছর হয়ে গেলেও ভুলতে পারিনি। বিচার হয়েছে, কিন্তু মামলাটি এখনো শেষ হয়নি। যারা ছেলেকে মেরেছে তাদের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত হোক।"
হাইকোর্টের রায়ের পর রাজনের বাবা শেখ মো. আজিজুর রহমান আলম বলেছিলেন, তিনি রায়ে সন্তুষ্ট এবং দ্রুত আসামিদের দণ্ড কার্যকর দেখতে চান। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তার মা লুবনা আক্তার ছেলের হত্যার বিচার দাবি করে আসছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমার পুয়া (ছেলে) চোর না। এ কথা সারা এলাকার মানুষ জানে। আমি ছেলে হত্যার উচিত বিচার চাই।’’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট সদর উপজেলা, কান্দিগাঁও ইউনিয়ন, বাদেআলী গ্রাম, কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ সামিউল আলম রাজন (নিহত শিশু), শেখ মো. আজিজুর রহমান আলম (বাবা), লুবনা আক্তার (মা), কামরুল ইসলাম, ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল, জাকির হোসেন পাভেল আহমদ (আসামি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ বছর (আপিল বিভাগে ঝুলে থাকা), ১৭ কার্যদিবস (বিচার শেষ), ১৩ জন (আসামি), ৪ জন (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত), ১ জন (পলাতক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!