📌 ২৭ বছর পর খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) জয়নাল সরদারকে গ্রেপ্তার করেছে। ১৯৯৯ সালের হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এই আসামি ভারত ও কুয়েতে আত্মগোপনে থাকার পর গত রাত গ্রেপ্তার হন
২৭ বছর পর খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এরশাদ শিকদারের অন্যতম সহযোগী এবং হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জয়নাল সরদারকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে। ভারত ও কুয়েতে পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়লেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৭ বছর পর গ্রেপ্তার**: খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে জয়নাল সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- 📌 **হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা**: ১৯৯৯ সালের খুলনা রূপসা থানার হত্যা মামলায় জয়নালকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
- 📌 **মরদেহ গুমের পাঁচ বছরের সাজা**: আদালত তাকে মরদেহ গুমের অপরাধে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে।
- 📌 **জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত সাজা**: জরিমানা অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং মরদেহ গুমের অপরাধে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
- 📌 **আত্মগোপন থেকে গ্রেপ্তার**: ভারত ও কুয়েতে আত্মগোপনে থাকার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
📰 বিস্তারিত
বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার বংকুরা গ্রামের মৃত আহম্মদ আলী সরদারের ছেলে জয়নাল সরদারকে ১৯৯৯ সালে খুলনা জেলার রূপসা থানায় একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করার আদেশ দেওয়া হয়। একই রায়ে মরদেহ গুমের অপরাধে জয়নালকে পৃথকভাবে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ ছিল।
রায় ঘোষণার পর থেকেই জয়নাল সরদার পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ ও এসআরবি-৮ জানান, সাজা ঘোষণার পর জয়নাল সরদার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে দীর্ঘ সময় ধরে পরিচয় পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি দেশ ছেড়ে ভারত ও কুয়েতে অবস্থান নেন। সম্প্রতি গোপনে দেশে ফিরেছেন এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার ওপর নিবিড় নজরদারি শুরু করে এসআরবি। পরে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খুলনায় তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযান চালানো হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন আভিযানিক দলের সদস্যরা।
গ্রেপ্তার জয়নাল সরদারকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও সাজা পরোয়ানা বাস্তবায়নের জন্য খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এসআরবি-৮-এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া অফিসার) ওয়ালিদ হাসান মিঠু রোববার সকালে এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
"আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৮-এর যৌথ অভিযানিক দলের সদস্যরা তার ওপর নিবিড় নজরদারি চালিয়ে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জয়নাল সরদার (৫৫), ওয়ালিদ হাসান মিঠু, নিস্তার আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ বছর, ৫৫ বছর, ১০ হাজার টাকা, ৫ বছর, ৬ মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!