📌 সিরাজগঞ্জের কলেজছাত্র কামরুল ইসলাম অনিক ২২ বছর বয়সে বাবার পরিচয় পেতে আদালতে লড়াই করছেন। তার দাবি, জন্মের পর থেকে বাবা খুরশিদ জিন্নাহ তার পরিচয় স্বীকার করেননি। মা হাফিজা খাতুনের সঙ্গে আইনি লড়াই চলছে ডিএনএ পরীক্ষা পর্যন্ত
সিরাজগঞ্জের তেলকুপি গ্রামের কলেজছাত্র কামরুল ইসলাম অনিক ২২ বছর বয়সে বাবার পরিচয় পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। জন্মের পর থেকে বাবা খুরশিদ জিন্নাহ তার পরিচয় স্বীকার করেননি, যা তার জীবনে গভীর আঘাত ছেড়ে গেছে। অনিকের মা হাফিজা খাতুনের সঙ্গে আদালতে দায়ের করা মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২২ বছর বয়সেও বাবার পরিচয় পায়নি সিরাজগঞ্জের কলেজছাত্র কামরুল ইসলাম অনিক। তার দাবি, জন্মের পর থেকে বাবা খুরশিদ জিন্নাহ তার পরিচয় স্বীকার করেননি।
- 📌 ২০০৪ সালে জন্মগ্রহণ করলেও অনিকের বাবা খুরশিদ জিন্নাহ তার খোঁজ নেননি। মা হাফিজা খাতুনের সঙ্গে আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি।
- 📌 আইনি লড়াই চলছে ৩ বছর। হাফিজা খাতুনের দাবি, মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হলেও শুনানির তারিখ নির্ধারিত হলেও পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি।
- 📌 শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহ সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার রহমতগঞ্জ মহল্লার আব্দুর রউফ মনিরের ছেলে। তিনি গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
- 📌 মা হাফিজা খাতুন অভিযোগ করেন, খুরশিদের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পরও তিনি তার দ্বিতীয় বিয়েকে মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু গর্ভপাত চাপ দিলে তিনি রাজি হননি।
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার তেলকুপি গ্রামের কলেজছাত্র কামরুল ইসলাম অনিক ২২ বছর বয়সে বাবার পরিচয় পেতে আদালতে লড়াই করছেন। তার দাবি, জন্মের পর থেকে বাবা খুরশিদ জিন্নাহ তার পরিচয় স্বীকার করেননি। অনিকের মা হাফিজা খাতুনের সঙ্গে আদালতে দায়ের করা মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
অনিকের জন্ম হয় ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে। তার মা হাফিজা খাতুনের দাবি, খুরশিদ জিন্নাহ ওরফে কার্বন তার বাবা। খুরশিদ গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার রহমতগঞ্জ মহল্লার আব্দুর রউফ মনিরের ছেলে। হাফিজা খাতুনের কথায়, সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে। আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকতেই স্থানীয় মাতব্বরদের নিয়ে সালিশের মাধ্যমে তাকে তালাক দেন খুরশিদ। এরপর থেকে মা ও সন্তানের আর কোনো খোঁজ নেননি তিনি।
অনিকের মামা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি নিজে কাজি ডেকে এনে কার্বনের সঙ্গে হাফিজার বিয়ে দিয়েছিলাম। বিয়ের দিন তার পরিবারকে ডেকে এনেছিলাম। তারা কৌশলে তাকে নিয়ে যায়। তার পরিবার বিয়ে মেনে নেয়নি।’ অনিকের শৈশবের কথা বলতে গিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার ভাগনের জন্য কষ্ট হয়। শিশু অবস্থায় সবাই যখন বাবা ডাকে, অনিক তখন তার বাবাকে পায়নি। আমার মেয়েরা আমাকে ডাকে, সেটা দেখে অনিকও আমাকে বাবা ডাকে। অনেকবার ধমক দিয়ে বলেছি, আমি তোমার মামা। কিন্তু সে এখনো আমাকে বাবা বলেই ডাকে।’
অনিকের বাবা খুরশিদ জিন্নাহ অভিযোগের বিষয়ে জানতে বলা হলে তিনি বলেন, ‘যেটা আদালতে গড়িয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত আদালতই দেবে। আমার সঙ্গে কথা বলে লাভ নেই।’ অনিকের মা হাফিজা খাতুন বলেন, ‘এত দিন নিজের পরিচয়ে ছেলেকে বড় করেছি। এখন ছেলের পিতৃপরিচয় দরকার। এ জন্য ২০২২ সালে সিরাজগঞ্জ আদালতে কামরুল ইসলাম অনিককে বাদী করে মামলা করেছি।’
"আমি বড় হয়েছি, বাবার পরিচয়টা লাগে। কোথাও গিয়ে পরিচয় দিতে পারি না।" — কামরুল ইসলাম অনিক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা, তেলকুপি গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামরুল ইসলাম অনিক, হাফিজা খাতুন, খুরশিদ জিন্নাহ, আব্দুর রাজ্জাক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ বছর (বয়স), ২০০৪ (জন্মবছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!