📌 ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ১৫ বছর বয়সী কিশোরী লামিয়া আক্তারকে স্বামী ও শ্বাশুড়ি নির্যাতন করে মৃত্যুর পর লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। পরিবার দাবি করেছে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বামী রনিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় মাত্র ১৫ বছর বয়সী একটি কিশোরীর মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিশোরী লামিয়া আক্তারকে তার স্বামী ও শ্বাশুড়ি নির্যাতন করে মৃত্যুর পর লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। পরিবার দাবি করেছে, নির্যাতনে মৃত্যুর পর লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যাওয়া স্বামী রনি শেখের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫ বছর বয়সী লামিয়া আক্তারকে তার স্বামী ও শ্বাশুড়ি নির্যাতন করে মৃত্যুর পর লাশ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পালিয়ে যায়।
- 📌 মৃত্যুর কারণ হিসেবে পরিবার দাবি করেছে, লামিয়াকে গলাটিপে মেরে ফেলা হয়েছে এবং তার গলায় ও মুখে মারধরের আঘাত ছিল।
- 📌 রনি শেখ নামে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন লাশ রেখে পালিয়ে যায়, পরিবার তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায়।
- 📌 ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
- 📌 লামিয়া ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদি সাহাপাড়া গ্রামের লিটু মাতুব্বরের মেয়ে ছিলেন।
📰 বিস্তারিত
মাত্র ১৫ বছর বয়সী লামিয়া আক্তার গত ২০ জুলাই তার প্রেমিক রনি শেখের সঙ্গে পালিয়ে যায় এবং তাদের বিয়ে হয়। এরপর দুই পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নেয়। মাত্র এক সপ্তাহ আগে তারা ভাড়া বাসায় সংসার শুরু করে। কিন্তু সংসার শুরু করার পর থেকেই লামিয়াকে তার স্বামী ও শ্বাশুড়ি নির্যাতন শুরু করে। লামিয়ার নানা আব্দুল ওয়াদুদ খালাসি বলেন, ‘আমার নাতনিকে গলাটিপে মেরে ফেলা হয়েছে। ওর গলায় হাতের আঙ্গুলের দাগ ও মুখে মারধরের আঘাত রয়েছে। ওরে মেরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছে বলে আমাদের খবর দেয় রনির মা।’
গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে লামিয়ার মৃতদেহ দেখতে পায়। তারা জানান, হাসপাতালে মৃতদেহ রেখে পালিয়ে গেছে তার স্বামী রনি শেখ। আজ সোমবার মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। দুপুরে হাসপাতালের মর্গের সামনে বসে থাকতে দেখা যায় পরিবারের সদস্যদের।
লামিয়া ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদি সাহাপাড়া গ্রামের লিটু মাতুব্বরের মেয়ে ছিলেন। তিনি স্থানীয় মুনসুরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই বিদ্যালয়ের যাওয়া আসার সময় গ্যারেজ মিস্ত্রী রনি শেখের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। রনি একই উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার সোবহান শেখের ছেলে।
"আমার নাতনিকে গলাটিপে মেরে ফেলা হয়েছে। ওর গলায় হাতের আঙ্গুলের দাগ ও মুখে মারধরের আঘাত রয়েছে। ওরে মেরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছে বলে আমাদের খবর দেয় রনির মা।"
এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবি জানান লামিয়ার পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া স্বামী রনিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সকালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে আসলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন হবে। এ ছাড়া পরিবারের কেউ এখনো অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভাঙ্গা উপজেলা, ফরিদপুর; মুনসুরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, হামিরদী ইউনিয়ন, মহেশ্বরদি সাহাপাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লামিয়া আক্তার, আব্দুল ওয়াদুদ খালাসি, রনি শেখ, মো. মিজানুর রহমান (ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ বছর (লামিয়ার বয়স), ২ মাস (বিয়ের পর), ১০ টা (রাত), ২০ জুলাই (বিয়ের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!