📌 কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত এলাকায় ১০০টি কিশোর গ্যাং ইয়াবা পাচার ও লুটের কাজে জড়িয়ে পড়েছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই গ্যাংগুলো মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা ইয়াবার চালানগুলো পাচার ও লুট করে। স্থানীয় পুলিশের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি কম হওয়ায় এই অপরাধের চক্র বেড়ে চলেছে
কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা পাচারের মূল শক্তি হয়ে উঠেছে ১০০টি কিশোর গ্যাং। গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই গ্যাংগুলো মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা ইয়াবার বড় চালানগুলো পাচার ও লুট করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্য মতে, নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদম সীমান্তের জঙ্গলাকীর্ণ ৪৫টি পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত মাদক পাচার চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১০০টি কিশোর গ্যাং** জড়িয়ে পড়েছে কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা পাচার ও লুটের কাজে।
- 📌 **৪৫টি সীমান্ত পয়েন্ট** (স্পষ্টভাবে ৫৮, ৫৭, ৫৬, ৫৩, ৫২, ৫১, ৫০, ৪৯, ৪৮, ৪৭, ৪৬, ৪৪, ৪৩, ৪২, ৩৬, ৩৫, ৩৪, ৩৩ ও ৩১ নম্বর পিলার) দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা আসছে।
- 📌 **৫-১০ জন কিশোর-যুবক** নিয়ে গঠিত প্রতিটি গ্যাংয়ের সদস্যরা **১২ থেকে ২৫ বছর** বয়সী। তাদের কাছে **অস্ত্রশস্ত্র**ও রয়েছে।
- 📌 **৬টি ডাকাত দল** রয়েছে রামুর গর্জনিয়া, ঈদগড় ও নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে।
- 📌 **গত ১ মাসে ৫০টির বেশি ইয়াবা লুটের ঘটনা** ঘটেছে বান্দরবান ও কক্সবাজারের বিভিন্ন গ্রামে।
- 📌 **পুলিশের অভিযোগ**, সীমান্ত এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি কম হওয়ায় এই অপরাধের চক্র বেড়ে চলেছে।
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা পাচারের মূল শক্তি হয়ে উঠেছে ১০০টি কিশোর গ্যাং। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, এই গ্যাংগুলো মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা ইয়াবার বড় চালানগুলো পাচার ও লুট করে। বিশেষ করে নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদমের জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় ৪৫টি পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত মাদক পাচার চলছে।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য মতে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদম এবং কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও চকরিয়া উপজেলায় এই কিশোর গ্যাংগুলো ইয়াবা কারবারিদের মূল শক্তি হয়ে উঠেছে। তাদের ভয়ে স্থানীয়রা কেউ এ অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। প্রতিটি গ্যাংয়ে ৫ থেকে ১০ জন কিশোর-যুবক থাকে, যাদের বয়স ১২ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত। তাদের কাছে অস্ত্রশস্ত্রও রয়েছে।
সূত্র জানায়, রামুর গর্জনিয়া, ঈদগড় ও নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে অন্তত ছয়টি ডাকাত দল রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে আসা ইয়াবার চালানগুলো জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে পাচারে সহায়তা করে। বিশেষ করে তারা কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অপেক্ষমাণ বড় বড় পাচারকারী গডফাদারদের বুঝিয়ে দেয় চালানগুলো। বিজিবিকে ফাঁকি দিতে ৫ থেকে ১০ বার ইয়াবার চালান হাতবদল হয়।
সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত মোটরবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বা হেঁটে যায় পাচারকারীরা। বস্তা বা ছোট পুঁটলিতে লুকিয়ে ইয়াবা নিয়ে যায় তারা। আবার অনেক ক্ষেত্রে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক কারবারিদের কাছ থেকে ইয়াবা লুট করে নিয়ে যায়। অবৈধ কাজ হওয়ায় এসব লুটের ঘটনায় মাদক কারবারিরা কোনো অভিযোগও করতে পারেন না।
কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা ইয়াবা পাচারের সময় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। মাঝেমধ্যে নিজেরা বিক্রির কাজ করে। যদি পাচারের কাজ করে লাভ না হয়, তখন তারা ইয়াবা লুটে জড়ায়। গত ১ মাসে অন্তত ৫০টির বেশি ইয়াবা লুটের ঘটনা ঘটেছে বান্দরবান ও কক্সবাজারের বিভিন্ন গ্রামে, যেমন ঈদগড়, বাইশারী, মৌলভীকাটা, তিতারপাড়া, ফাক্রিকাটা, আদর্শগ্রাম, দৌছড়ি, তুলাতলী, কাউয়ারখোপ, তুলাতলী-২, দোছড়ি, বালুবাসা, হাজিরপাড়া, ক্যায়জারবিলসহ আরও অনেক এলাকায়।
"পুলিশ আসলে বেকায়দায়। কারণ সীমান্ত এলাকা অনেক দূরে। পুলিশ লোকালয়ে কাজ করে, সীমান্তে নয়।" — নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মো. মোজাম্মেল হক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত এলাকা (নাইক্ষ্যংছড়ি, আলীকদম, রামু, উখিয়া, চকরিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মো. মোজাম্মেল হক, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০টি কিশোর গ্যাং, ৪৫টি সীমান্ত পয়েন্ট, ৫-১০ জন সদস্য প্রতি গ্যাং, ১২-২৫ বছর বয়স, ৫০টি+ ইয়াবা লুটের ঘটনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!