📌 শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সিস্টেমের পাইলট প্রকল্প শুরু করবে। চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা মিলিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ। প্রথমে নির্বাচিত জেলা-উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হবে, পরে সম্প্রসারিত হবে সারাদেশে
বাংলাদেশে চাকরির সুযোগ ও চাহিদা মিলিয়ে নেওয়ার জন্য জেলা-উপজেলা পর্যায়ে একটি নতুন এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সিস্টেমের পাইলট প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। প্রথমে নির্বাচিত জেলা ও উপজেলায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে, পরে সারাদেশে এটি সম্প্রসারিত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় ঘোষিত এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সিস্টেমের পাইলট প্রকল্প শুরু হবে জেলা-উপজেলায়।
- 📌 ৬৪টি জেলা ও ৫০৩টি উপজেলার মধ্যে প্রথমে নির্বাচিত এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে, পরে সম্প্রসারিত হবে সারাদেশে।
- 📌 চাকরিপ্রার্থীরা তাদের শিক্ষা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার তথ্য নিবন্ধন করবে, প্রতিষ্ঠানগুলো শূন্য পদের তথ্য দিবে।
- 📌 ৩০ শতাংশ দক্ষতার ঘাটতি থাকলেও এই সিস্টেমের মাধ্যমে চাকরির সুযোগ ও চাহিদা মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
- 📌 আইএলও ও বিবিএস যৌথভাবে শ্রমবাজারের চাহিদা সম্পর্কে গবেষণা করছে।
- 📌 প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনের উপস্থিতিতে পাইলট প্রকল্পের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের শ্রমবাজারে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে তথ্যের অমিল দূর করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব কামরুন নাহার জানান, প্রথমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত জেলা ও উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম চলমান। প্রথম অবস্থায় আমরা পাইলট কার্যক্রম শুরু করব। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি উপজেলা কিংবা জেলা পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু হতে পারে।’
গত এপ্রিল মাসে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এখনো পাইলট প্রকল্পের জন্য জেলা বা উপজেলার তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এই উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সরকারের পরিকল্পনা হলো, প্রথমে নির্বাচিত এলাকায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরে ধাপে ধাপে অন্য এলাকাগুলোকে এর আওতায় আনা।
এই সিস্টেমের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শূন্য পদ ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার তথ্য দিতে পারবে। এরপর প্রার্থীদের যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে পদের প্রয়োজনীয়তা মিলিয়ে উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে বের করার ব্যবস্থা থাকবে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ১০টি শিল্প খাত নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর খাতগুলোতে এই ঘাটতি তুলনামূলক বেশি।
এই উদ্যোগের সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও যুক্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে লেবার ডিমান্ড সার্ভে নিয়ে কাজ করছে। এতে বিভিন্ন খাতে কী ধরনের কর্মীর চাহিদা রয়েছে, কী দক্ষতা প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা বাড়তে পারে, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক এপ্রিল ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলেছে, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে চাপ তৈরি করছে। সংস্থাটি বাংলাদেশে আরও বেশি ও ভালো বেতনের চাকরি তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছে। আনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান ও আংশিক বেকারত্ব এখনো বড় সমস্যা। তরুণ ও নারীরা শ্রমবাজারে বেশি সমস্যার মুখে রয়েছেন।
"কার্যক্রম চলমান। প্রথম অবস্থায় আমরা পাইলট কার্যক্রম শুরু করব। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি উপজেলা কিংবা জেলা পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু হতে পারে। আমরা আশা করছি, পরবর্তী মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনের উপস্থিতিতে পাইলট কার্যক্রমের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে (পাইলট প্রকল্প)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামরুন নাহার (সহকারী সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪টি জেলা, ৫০৩টি উপজেলা, ৩০ শতাংশ দক্ষতার ঘাটতি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!