📅 ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

বিদেশি লজিস্টিকস কোম্পানির ইকুইটি ৪৯% করার প্রস্তাবের বিরোধিতা: সিএসআর গোলটেবিলে বাফা-মান্না-ফজল হুদা

বিদেশি লজিস্টিকস কোম্পানির ইকুইটি ৪৯% করার প্রস্তাবের বিরোধিতা: সিএসআর গোলটেবিলে বাফা-মান্না-ফজল হুদা

📷 ছবি: দেশজোগ

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 সিএসআর গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ে ৬০:৪০ থেকে ৫১:৪৯ ইকুইটি কাঠামো শিথিল করলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে — সিএসআর নিয়মবিরোধী, ৬টি প্রস্তাব সাকিব আনোয়ার, বাফা সভাপতি আরিফুল আহসান ১২৫০ সদস্যের ৮০% বিদেশি নিয়ন্ত্রণের তথ্য।

ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ের মতো লজিস্টিক খাতে বিদেশি যৌথ মালিকানার কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দিলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে — কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের মুনাফা দেশ থেকে নিয়ে যাবে ওইসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান, আর এই খাতে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ নষ্ট হবে তরুণদের। বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে 'লজিস্টিকস খাতে দেশীয় বিনিয়োগ সুরক্ষা ও নীতি সংস্কার' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ কথা বলেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা — আয়োজক বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ (সিএসআর)।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • এনবিআর ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং বিধিমালা সংশোধন করছে — বর্তমান ৬০:৪০ ইকুইটি কাঠামো শিথিল করে ৫১:৪৯ করার প্রস্তাব, এমনকি ১০০% বা ৪০% এর অধিক বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়নের পথ খোলার উদ্যোগ বিবেচনাধীন।
  • ২০১৫ সালে নতুন লাইসেন্সে শতভাগ বিদেশি মালিকানা অনুমোদন হয়েছিল, পরে যৌথ উদ্যোগে বিদেশি অংশ ৪৯% থেকে ৪০%-এ নামানো হয়।
  • সিএসআর নির্বাহী পরিচালক সাকিব আনোয়ার জানান — ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং স্বল্প সম্পদভিত্তিক সেবাশিল্প, শাখা কার্যালয়ের জন্য মাত্র ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আনতে হয় — এটি বিনিয়োগ নয়, অফিস পরিচালনার ব্যয়।
  • সিএসআর-এর ৬টি প্রস্তাব: ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং, শিপিং এজেন্সি, সিঅ্যান্ডএফ ও কুরিয়ার এক্সপ্রেসে অভিন্ন ৬০:৪০ ইকুইটি কাঠামো; বিদেশি অংশীদারত্বযুক্ত লাইসেন্সধারীর জন্য ৫-১০ মিলিয়ন ডলার অবরুদ্ধ হিসাব সংরক্ষণ ও ৪০% দুই বছরে গুদাম/সরঞ্জাম/পরিবহনে বিনিয়োগ।
  • বাফা সভাপতি মো. আরিফুল আহসান: ১,২৫০ সদস্যের মধ্যে ১৩টি বিদেশি মালিকানা ও ৩০-৩৫টি যৌথ মালিকানা — তারা ৮০% ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে, বাকি ২০% দেশীয় প্রতিষ্ঠান।
  • নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, সংসদ সদস্য ফজল হুদা — সবাই দেশীয় সুরক্ষার পক্ষে।
  • ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ে দেশি কোম্পানিকে সুরক্ষা দিতে বিদেশি কোম্পানির জন্য কঠোর নিয়মনীতি রয়েছে।

মূল প্রবন্ধে সিএসআরের নির্বাহী পরিচালক সাকিব আনোয়ার বলেন, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং বিধিমালা সংশোধন করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) — বর্তমানে যৌথ মালিকানায় বিদেশি কোম্পানির সর্বোচ্চ সীমা ৪০ শতাংশ, বিধিমালা সংশোধনের খসড়ায় ৬০:৪০ ইকুইটি কাঠামো শিথিল করে ৫১:৪৯ করার প্রস্তাব রয়েছে। সাকিব আনোয়ার বলেন, ইতিমধ্যে শিপিং এজেন্ট ও কাস্টমস এজেন্ট বিধিমালায় ৬০:৪০ থেকে ৫১:৪৯ অনুপাতে প্রণয়ন করা হয়েছে — আইসিডি ও অফ-ডকে ৪৯ শতাংশ মালিকানার সুযোগ পেয়েছে বিদেশি প্রতিষ্ঠান, এখন লজিস্টিকস খাতে যে মান স্থির হবে তা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সেবা খাতেও অনুকরণীয় হয়ে উঠবে।

সাকিব আনোয়ার বলেন, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার কোনো জাহাজ বা বিমানের মালিক নন — পণ্য প্রেরক ও পরিবহন মাধ্যমের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। এই ব্যবসায় প্রবেশে প্রকৃত খরচ কার্যত শূন্য — শাখা কার্যালয়ের ক্ষেত্রে বিডার অনুমোদনের পর দুই মাসের মধ্যে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আকারে আনতে হবে, এটিই একমাত্র মূলধনি শর্ত — এটি বিনিয়োগ নয়, অফিস পরিচালনার ব্যয়। তিনি বলেন, "এজেন্সি ব্যবসায় দেশীয় মালিকানা বাধ্যতামূলক করার নজির বাংলাদেশে নতুন নয় — যেখানে এটা করা হয়েছে সেখানেই সক্ষমতা, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বেড়েছে। সেই তুলনায় ৬০ শতাংশের দাবি অত্যন্ত মধ্যপন্থী, এটি বিদেশি অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে না — কেবল নিয়ন্ত্রণ দেশীয় হাতে রাখে।"

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, "ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠান প্রায় কোনো বিনিয়োগ না করেই মুনাফা নিয়ে যাচ্ছে। তবু দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন যৌথ উদ্যোগে বিদেশি অংশ ৬০ শতাংশ থেকে ৪৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হচ্ছে — এটা সারপ্রাইজিং।"

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সভাপতি মো. আরিফুল আহসান বলেন, "আমাদের সংগঠনে ১,২৫০ সদস্যের মধ্যে ১৩টি বিদেশি মালিকানা ও ৩০-৩৫টি যৌথ মালিকানার রয়েছে — তারাই ৮০ শতাংশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে, বাকি ২০ শতাংশ করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান। অথচ বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ বলতে কিছুই নেই।"

সংসদ সদস্য ফজল হুদা বলেন, "নওগাঁ থেকে কারওয়ান বাজারে এক ট্রাক আলু আনতে খরচ হয় ৩০ হাজার টাকা। নওগাঁ থেকে রেললাইন নির্মাণে বিনিয়োগ করতে চাইলে আমরা শতভাগ মালিকানার বিদেশি কোম্পানিকে স্বাগত জানাব — কিন্তু ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ে কেন কাগজ বেঁচে খাবেন? ভারত ও শ্রীলঙ্কায়ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ে দেশি কোম্পানিকে সুরক্ষা দিতে বিদেশি কোম্পানির জন্য কঠোর নিয়মনীতি রয়েছে।"

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএইএবি) সভাপতি কবির হোসেন বলেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগের দরকার আছে, তবে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং খাতে বিদেশি বিনিয়োগের দরকার নেই — একই অফিস, লোক ও জ্ঞান নিয়ে কার্যকর পরিচালনা করে বিদেশি কোম্পানি, এত দিন দেশীয় এজেন্টরা কাজটি করত — পার্থক্য কিছু নেই। আরআইএফ লাইনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ের লাইসেন্স হস্তান্তর করা যায় না ও অভিজ্ঞতা ছাড়া কাউকে লাইসেন্স দেওয়া হয় না — তাই নতুন প্রজন্ম এই ব্যবসায় আসছে না, আশির দশকে তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা পণ্য রপ্তানি করতে অনেকে মিলে জাহাজ ভাড়া করতেন, তারপর দেশীয় উদ্যোক্তারা ধীরে ধীরে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ের ব্যবসা গড়ে তোলেন — এই উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে সুরক্ষা দিতে হবে।

আইনজীবী এম সাকিবুজ্জামান বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেই স্থানীয় এজেন্টরা দৌড়ের ওপর থাকেন — ব্যবসা ও রাজনীতি এক হয়ে যাওয়ায় বিদেশি ক্রেতা-প্রতিষ্ঠান দুশ্চিন্তায় থাকেন, এ জন্য ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং খাতে করপোরেট সংস্কৃতি গড়ে তোলা দরকার। বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহসভাপতি এ টি এম আজিজুল আকিল বলেন, "বিদেশি বিনিয়োগ নাকি বাণিজ্য কোনটা চান সেটি পরিষ্কার করতে হবে — বিনিয়োগ আনতে হলে সহজ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে, আমাদের দেশে অনেক মানুষ ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ে কম টাকা লাগে, তাই এই খাত সুরক্ষিত রাখতে হবে।" আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান, দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, ঢাকা স্ট্রিমের পরামর্শক সম্পাদক হাসান মামুন, আইসিএবির সাবেক সহসভাপতি মাহমুদ হুসাইন প্রমুখ — সঞ্চালনা করেন মাহমুদ অ্যান্ড সবুজ কোম্পানির অংশীদার সবুজ এইচ চৌধুরী।

যাচাই অবস্থা: ✓ যাচাইকৃত (নির্ভরতা স্কোর: 80%)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖