📌 ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে ইতিহাস বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারকারী সোহেল রানা (নীলফামারী) চূড়ান্ত নিয়োগ গেজেটে বাদ পড়লেন। পরিবার বলছে, ‘অভাবের সংসারে কষ্ট করে পড়াশোনা করলাম, এখন কেন আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে?’ সরকারের কাছে মানবিক বিবেচনা চাইছে তারা
৪৯তম বিশেষ বিসিএসে ইতিহাস বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারকারী সোহেল রানা (২৪) নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান। তবে চূড়ান্ত নিয়োগ গেজেটে তার নাম না থাকায় পরিবার ও নিজে হতাশায় ভুগছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত গেজেটে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও সোহেলের নাম তালিকায় ছিল না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে ইতিহাস বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারকারী সোহেল রানা (২৪) চূড়ান্ত গেজেটে বাদ পড়লেন
- 📌 গত ১১ নভেম্বর পিএসসি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ৬৮৩টি পদে ৬৬৮ জন মনোনীত হলেও গেজেটে তার নাম ছিল না
- 📌 সোহেলের মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘অভাবের সংসারে কষ্ট করে পড়াশোনা করলাম, এখন কী দোষ আমার ছেলের?’
- 📌 সোহেলের বাবা আবু হোসেন বলেন, ‘১০ মাস পর গেজেট প্রকাশিত হলেও ছেলের নাম না থাকায় আমরা ভেঙে পড়েছি’
- 📌 সোহেল বলেন, ‘আমার পরিবার বা আমি কোনো অপরাধে জড়িত নই, তাহলে কেন আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে?’
📰 বিস্তারিত
সোহেল রানা নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের কৃষক আবু হোসেনের ছেলে। তিনি ২০১৪ সালে সোনারায় সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং ২০১৬ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক (সিজিপিএ ৩.৫৪) এবং স্নাতকোত্তর (সিজিপিএ ৩.৫৬) সম্পন্ন করেছেন তিনি।
সোহেলের মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘অভাবের সংসারে কত কষ্ট করে পড়াশোনা করাইছি। আল্লাহ জানে কেন এমন হয়েছে আমার ছেলের সাথে। এত কষ্ট করে পড়াশোনা করার পর একটা চাকরিতেই বাদ পড়লাম। কেন বারে আমার বাবাটার কী দোষ যে আমার ছেলের নাম বাদ দিয়েছে?’
সোহেলের বাবা আবু হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করিয়েছি। সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও শুধু এই আশায় তাকে পড়াশোনা করিয়েছি। জমি-জায়গা বিক্রি করে তাকে এতদূর নিয়ে এসেছি। কিন্তু গতকালের খবর শুনে আমরা ভেঙে পড়েছি। যে ছেলে এত কষ্ট, পরিশ্রম ও মেধার মাধ্যমে বিসিএসে উত্তীর্ণ হলো, শেষ পর্যন্ত গেজেটে তার নাম নেই—এটা একজন বাবা হিসেবে মেনে নেওয়া আমার জন্য খুবই কষ্টের।’
সোহেল রানা বলেন, ‘৪৯তম বিসিএসে প্রথম স্থান অধিকার করার পর ১০ মাস পর গেজেট প্রকাশিত হলেও আমার নাম ছিল না। কেন আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটিও আমি জানি না। সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশনে যদি কোনো অপরাধের তথ্য থাকে, তাহলে সেটি উল্লেখ করা হয়। কিন্তু আমার পরিবার বা আমি কোনো অপরাধে জড়িত নই। আমি সরকারের কাছে মানবিক বিবেচনা চাইছি। এত বছরের পরিশ্রম যেন এভাবে শেষ না হয়।’
"যদি প্রকাশ না হয়, তাহলে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো পথ নেই। আমার বাবা-মা, ভাই-বোন বা পরিবারের সবার সামনে এই মুখ নিয়ে দাঁড়ানোর সাহস আমার নেই। গতকালের ফলাফলের পর সবাই হতভম্ব হয়ে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নীলফামারী সদর উপজেলা, সোনারায় ইউনিয়ন, কুখাপাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোহেল রানা, শাহিদা বেগম, আবু হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৯তম বিসিএস, ৬১১ জন নিয়োগ, ৬৮৩টি পদ, ৬৬৮ জন মনোনীত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!