📌 দক্ষিণ আফ্রিকার বিদেশি-বিরোধী আন্দোলনের ভয়ে জিম্বাবুয়ের ১১৬,৬৭০ জন মানুষ দেশে ফিরেছে। তাদের মধ্যে অনেকের কাছে কাজ নেই, অর্থ নেই এবং সরকারের সহায়তা যথেষ্ট নয়। কিছু মানুষ নিজের দক্ষতা ব্যবহার করে ব্যবসা শুরু করলেও পুনর্বাসনের পথে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে
দক্ষিণ আফ্রিকার বিদেশি-বিরোধী আন্দোলনের ভয়ে জিম্বাবুয়ের লাখো মানুষ দেশে ফিরে এসেছে, কিন্তু পুনর্বাসনের পথে তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জিম্বাবুয়ের তথ্য মন্ত্রী জেমু সোডা জানান, জুন ৩০ তারিখের আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় থেকে ১১৬,৬৭০ জন জিম্বাবুয়ান দেশে ফিরে এসেছে। এর মধ্যে ৩৬,৯৪০ জন সরকারের সহায়তায় এবং ৭৯,৭৩০ জন নিজের খরচে দেশে ফিরেছেন। এছাড়াও, ৩৮,০৫৭ জন কর্মসংস্থানের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জিম্বাবুয়ের ৩০ বছর বয়সী সামান্থা চিমবুয়া** দক্ষিণ আফ্রিকায় থেকে দেশে ফিরে এসেছেন, কারণ বিদেশি-বিরোধী আন্দোলনের ভয়ে তিনি আর সেখানে নিরাপদভাবে থাকতে পারছিলেন না। তিনি বলেছেন, “আমি আর নিরাপদভাবে থাকতে পারছিলাম না। তারা আমাদের বাড়ি ঘেরাও করত, আমাদের দেশ ছেড়ে যেতে বলত। এটি ভয়াবহ ছিল।”
- 📌 **জুন ৩০ তারিখ** ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধভাবে থাকা বিদেশীদের জন্য একটি মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ, যা সরকার কর্তৃক আরোপিত হয়নি। তবে এই তারিখের আগে হাজারো বিদেশী দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
- 📌 **জিম্বাবুয়ের সরকার** বলছে, তারা ফিরে আসা লোকদের স্ক্রিনিং করছে এবং তাদের দক্ষতা ও প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করতে চাইছে। এছাড়াও, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মন্ত্রণালয় ফিরে আসা শিক্ষিত ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
- 📌 **সিডনি বুন্যা** দক্ষিণ আফ্রিকায় কাঠের কাজে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন, কিন্তু বিদেশি-বিরোধী আন্দোলনের কারণে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি নিজের বাড়িতে ব্যবসা শুরু করেছেন এবং এখন তার ব্যবসা তার পরিবারকে সমর্থন করছে এবং পাঁচজনকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে।
- 📌 **জিম্বাবুয়ের সরকারের তথ্য মন্ত্রী** জানান, ফিরে আসা লোকদের মধ্যে ৩৬,৯৪০ জন সরকারের সহায়তায় দেশে ফিরেছেন, আর ৭৯,৭৩০ জন নিজের খরচে দেশে ফিরেছেন।
📰 বিস্তারিত
জিম্বাবুয়ের সামান্থা চিমবুয়া ২০১৯ সালে দেশ ছেড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে কাজ পেয়েছিলেন, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা পেয়েছিলেন এবং তার দুই ছেলের জন্য ভালো শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু জুন ৩০ তারিখের আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি-বিরোধী আন্দোলনের কারণে তিনি আর সেখানে নিরাপদভাবে থাকতে পারছিলেন না। তিনি বলেছেন, “আমি আর নিরাপদভাবে থাকতে পারছিলাম না। তারা আমাদের বাড়ি ঘেরাও করত, আমাদের দেশ ছেড়ে যেতে বলত। এটি ভয়াবহ ছিল।”
জিম্বাবুয়ের তথ্য মন্ত্রী জেমু সোডা জানান, জুন ৩০ তারিখের আগে ১১৬,৬৭০ জন জিম্বাবুয়ান দেশে ফিরে এসেছেন। এর মধ্যে ৩৬,৯৪০ জন সরকারের সহায়তায় এবং ৭৯,৭৩০ জন নিজের খরচে দেশে ফিরেছেন। এছাড়াও, ৩৮,০৫৭ জন কর্মসংস্থানের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে। তবে ফিরে আসা লোকদের মধ্যে অনেকের কাছে কাজ নেই এবং অর্থের অভাব রয়েছে।
জিম্বাবুয়ের সরকার বলছে, তারা ফিরে আসা লোকদের স্ক্রিনিং করছে এবং তাদের দক্ষতা ও প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করতে চাইছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড্যানিয়েল গারওয়ে জানান, পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মন্ত্রণালয় ফিরে আসা শিক্ষিত ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এছাড়াও, কোম্পানিগুলোকে ফিরে আসা দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং পেশাদার প্রশিক্ষণ ও ব্যবসা শুরু করার জন্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সিডনি বুন্যা, যিনি জিম্বাবুয়ের জিম্বা থেকে ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন, সেখানে তিনি কাঠের কাজে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তিনি বলেছেন, “আমি কাঠের কাজে দক্ষতা অর্জন করেছিলাম এবং বড় বড় প্রকল্প পেয়েছিলাম। কিন্তু ২০২৬ সালে বিদেশি-বিরোধী আন্দোলনের কারণে আমি দেশে ফিরে এসেছি। আমি নিজের বাড়িতে ব্যবসা শুরু করেছি এবং এখন আমার ব্যবসা আমার পরিবারকে সমর্থন করছে এবং পাঁচজনকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে।”
জিম্বাবুয়ের খ্রিস্টান অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক রেভারেন্ড ইউসেনি সিবান্ডা বলেছেন, অনেক ফিরে আসা লোকেরা বিদেশে বছরগুলো কাটিয়েছে এবং দেশে ফিরে এসেছে কাজ ছাড়াই। অনেকের কাছে নিজের বাড়ি বা সম্পত্তি নেই, ফলে তারা কোনো পিছনে ফিরে আসার ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তিনি বলেছেন, “তারা দেশে ফিরে এসেছে এমন একটি দেশে যেখানে কাজ নেই এবং সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থাও যথেষ্ট নয় তাদেরকে সমর্থন করতে পারে না।”
"তারা দেশে ফিরে এসেছে এমন একটি দেশে যেখানে কাজ নেই এবং সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থাও যথেষ্ট নয় তাদেরকে সমর্থন করতে পারে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জিম্বাবুয়ে (মুতারে), দক্ষিণ আফ্রিকা (কোয়াজুলু-নাটাল, জোহানেসবার্গ, পোর্ট এলিজাবেথ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সামান্থা চিমবুয়া, রেভারেন্ড ইউসেনি সিবান্ডা, সিডনি বুন্যা, তথ্য মন্ত্রী জেমু সোডা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড্যানিয়েল গারওয়ে
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১৬,৬৭০ জন ফিরে এসেছেন, ৩৬,৯৪০ জন সরকারের সহায়তায়, ৭৯,৭৩০ জন নিজের খরচে, ৩৮,০৫৭ জন কর্মসংস্থানের জন্য নিবন্ধিত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!