📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে সম্পর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং মার্কিন কংগ্রেসের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে সম্পর্ক আরও তীব্র করেছে। মার্কিন কংগ্রেস পাস করা নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার দুই দিন আগেই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে বলেছেন, “জাতীয় স্বার্থে” এই নিষেধাজ্ঞাগুলো স্থগিত করা প্রয়োজন। এই সিদ্ধান্ত মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং ইউক্রেনের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ শুল্কসহ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন, যা মার্কিন কংগ্রেস পাস করেছিল।
- 📌 ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞাগুলোকে “সম্পূর্ণ উপেক্ষা” করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তা “দুর্ভাগ্যজনক”।
- 📌 রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চেয়ে “সামলানো আরও কঠিন” বলে ট্রাম্পের মন্তব্য ইউক্রেনের সাথে সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।
- 📌 মার্কিন কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ারস তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপ “রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধের জন্য শাস্তি প্রদানের আইনের উদ্দেশ্যকে অগ্রাহ্য করেছে”।
- 📌 জেলেনস্কি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো “ব্যাপকভাবে সাহায্য করতে পারত” এবং রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারত।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন কংগ্রেস সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আইন পাস করে এবং ট্রাম্প তাতে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু শুক্রবার রাতে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে বলেন যে, রাশিয়ার অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তু করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো স্থগিত করা প্রয়োজন। এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর মধ্যে ছিল রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা (চীন ও ভারতসহ) থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা। এছাড়াও, রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মস্কোর ‘ছায়া নৌবহর’-এর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রাশিয়ার দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ এই পদক্ষেপকে “একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সত্যিকারের ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারের ওপর “গুরুতর ক্ষতি” করত। বরং অর্থনৈতিক সহযোগিতা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক।
এই পদক্ষেপের ফলে মার্কিন ডেমোক্র্যাটরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ভার্জিনিয়ার কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ারস এক্স-এ লিখেছেন, “পুতিনের কাছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আত্মসমর্পণ আবারও আমাদের ইউক্রেনীয় অংশীদারদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধের জন্য শাস্তি প্রদানের আইনের উদ্দেশ্যকে অগ্রাহ্য করেছে।”
জেলেনস্কি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো “ব্যাপকভাবে সাহায্য করতে পারত” এবং এই আইনটির উদ্দেশ্য ছিল “এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য রাশিয়ার ওপর সত্যিকারের কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা”। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনে শীত আসার আগে ব্ল্যাকআউট ঘটানোর চেষ্টা করছে। জেলেনস্কি বলেছেন, “মাঠ পর্যায়ে আসলে কী ঘটছে, তা আমেরিকার প্রত্যেকেরও দেখাটা গুরুত্বপূর্ণ।”
"জাতীয় স্বার্থে" — ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট
"সম্পূর্ণ উপেক্ষা" — ভলোদিমির জেলেনস্কি, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট
"সামলানো আরও কঠিন," — ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ওয়াশিংটন), ইউক্রেন (কিয়েভ), রাশিয়া (মস্কো), চীন, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভলোদিমির জেলেনস্কি, ভ্লাদিমির পুতিন, কিরিল দিমিত্রিয়েভ, ডন বেয়ারস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ শতাংশ শুল্ক, ১৫টি জ্বালানি স্থাপনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!