📌 যেমেনের সানা শহরে বসবাসকারী ৫০ বছর বয়সী রাজা গিরসানের শ্বাসপ্রশ্বাসে জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের কারণে দেশের বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় তিনি বিদেশে চিকিৎসা পেতে পারছেন না। হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাসকারী ৪ লাখেরও বেশি রোগী বিদেশে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য আটকে পড়েছে।
যেমেনের সানা শহরে বসবাসকারী ৫০ বছর বয়সী রাজা গিরসানের শ্বাসপ্রশ্বাসে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তার কণ্ঠনালীতে জটিলতা এবং শ্বাসরোধের কারণে তিনি একটি নেকল ডিভাইসের উপর নির্ভরশীল। এই ডিভাইসটি প্রতিমাসে ১০০ ডলার খরচে প্রতিস্থাপন করতে হয়। সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় তিনি বিদেশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে পারছেন না। তার কন্যা নুরান আল-সালাওয়ি বলেছেন, “ডিভাইসটি তার শ্বাসপ্রশ্বাসে কিছুটা সহায়তা করে, কিন্তু এটি তাকে অনেক বছর ধরে ক্লান্ত করে তুলেছে এবং তার বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেয়েছে। তিনি শেষমেশ চিকিৎসা পেতে বিদেশ যেতে চায় বা মৃত্যুকে স্বাগত জানাতে বসেছেন।”
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সানা শহরের ৫০ বছর বয়সী রাজা গিরসান** তার শ্বাসরোধের কারণে একটি নেকল ডিভাইসের উপর নির্ভরশীল, যা প্রতিমাসে ১০০ ডলার খরচে প্রতিস্থাপন করতে হয়।
- 📌 **হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাসকারী ৪ লাখেরও বেশি রোগী** বিদেশে চিকিৎসা পেতে বিমানবন্দর বন্ধের কারণে আটকে পড়েছে, যার মধ্যে ২৫০,০০০ জনের চিকিৎসা বিদেশেই প্রয়োজন।
- 📌 **১,৬০০ প্রকার ওষুধের মধ্যে ১২টি ক্যান্সার ওষুধ** যেমেনে প্রবেশ নিষিদ্ধ, যার ফলে ১,২৫,০০০ ক্যান্সার রোগী ওষুধের সংকটে পড়েছেন।
- 📌 **থ্যালাসেমিয়া ও হিমোলিটিক অ্যানিমিয়া রোগীদের** ৪০,০০০ জনেরও বেশি লোকের চিকিৎসা উপকরণের সংকট রয়েছে।
- 📌 **সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর** ২০১৬ সাল থেকে বন্ধ থাকায় রোগীরা বিদেশে চিকিৎসা পেতে পারছেন না।
- 📌 **আদেন বিমানবন্দর**ও হামলার শিকার হয়েছে, যার ফলে রোগীরা চিকিৎসা পেতে আরো বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
📰 বিস্তারিত
রাজা গিরসান ২০০৬ সাল থেকে মিশর ও ভারতের হাসপাতালে ছয়টি সার্জারি করেছেন। কিন্তু তার অবস্থা এখনও খারাপ। তিনি আরেকটি জটিল সার্জারি করতে বিদেশ যেতে চান। কিন্তু সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় তিনি বিদেশ যেতে পারছেন না। তিনি সানা হাইয়ার মেডিকেল কমিটিতে নিবন্ধিত ছিলেন, যা বিদেশে চিকিৎসার জন্য বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করে। কিন্তু বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় তিনি সাত বছর ধরে বিমান টিকিট পেতে পারেননি।
সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০১৬ সাল থেকে বন্ধ ছিল। ২০২২ সালের মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে একটি সীমিত বিমান পরিষেবা চালু হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে ইসরায়েলের বিমান হামলায় বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জুলাই মাসে সৌদি আরবের সহায়তায় যেমেন সরকারের বাহিনী বিমানবন্দরের একমাত্র কাজে লাগানো রানওয়েকে আক্রমণ করে। এখন পর্যন্ত সানা থেকে কোনো নিয়মিত বিমান যাত্রা শুরু হয়নি।
আদেন বিমানবন্দর, যেমেন সরকারের স্বীকৃত সরকারের আসন, হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকার রোগীদের জন্য অন্যতম বিকল্প। কিন্তু এই বিমানবন্দরও হামলার শিকার হয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে দুটি মিসাইল আদেন বিমানবন্দরে আঘাত হানে। ১৬ অক্টোবর, একটি মিসাইল একটি যেমেনিয়া বিমানকে কায়রো যাত্রার জন্য প্রস্তুত থাকা অবস্থায় ৫০০ মিটার দূরত্বে আঘাত হানে।
হুথি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি বলেছেন, “বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ৪ লাখেরও বেশি রোগী আটকে পড়েছে, যার মধ্যে ২৫০,০০০ জনের চিকিৎসা বিদেশেই প্রয়োজন। এছাড়াও, ১,২৫,০০০ ক্যান্সার রোগী ওষুধের সংকটে পড়েছেন।” তিনি আরও বলেছেন, “এই অবস্থায় ১,৬০০ প্রকার ওষুধের মধ্যে ১২টি ক্যান্সার ওষুধ প্রবেশ নিষিদ্ধ। এছাড়াও, থ্যালাসেমিয়া ও হিমোলিটিক অ্যানিমিয়া রোগীদের ৪০,০০০ জনেরও বেশি লোকের চিকিৎসা উপকরণের সংকট রয়েছে।”
"ডিভাইসটি তার শ্বাসপ্রশ্বাসে কিছুটা সহায়তা করে, কিন্তু এটি তাকে অনেক বছর ধরে ক্লান্ত করে তুলেছে এবং তার বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেয়েছে। তিনি শেষমেশ চিকিৎসা পেতে বিদেশ যেতে চায় বা মৃত্যুকে স্বাগত জানাতে বসেছেন।"
"এটি ১,৬০০ প্রকার ওষুধের মধ্যে ১২টি ক্যান্সার ওষুধ প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সানা (হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকা), আদেন (যেমেন সরকারের আসন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাজা গিরসান (৫০ বছর বয়সী রোগী), নুরান আল-সালাওয়ি (রাজা গিরসানের কন্যা), আনিস আল-আসবাহি (হুথি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০০,০০০ (রোগী), ২৫০,০০০ (বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজনীয় রোগী), ১,৬০০ (ওষুধের প্রকার), ১২ (ক্যান্সার ওষুধ), ৪০,০০০ (থ্যালাসেমিয়া ও হিমোলিটিক অ্যানিমিয়া রোগী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!