📌 ইয়েমেনের ১২ বছরের যুদ্ধে হুথি জোট, সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের জোট এবং আল-কায়েদার নিয়ন্ত্রণ এলাকার পরিবর্তন দেখানো হয়েছে। সানার অধিকার হারিয়ে সৌদি হস্তক্ষেপের পরও কোনো পক্ষ পুরো দেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি
ইয়েমেনের ১২ বছরের যুদ্ধে বিভিন্ন জোটের নিয়ন্ত্রণ এলাকার পরিবর্তন একটি স্পষ্ট মানচিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। এই যুদ্ধে দারিদ্র্য ও পুষ্টিহীনতার পাশাপাশি ক্ষমতার লড়াই চলতে থাকে। হুথি জোট (আনসার আল্লাহ) ২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সানা অধিকার করে নেয়ার পর থেকে দেশের নিয়ন্ত্রণ এলাকা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ইরানের সমর্থিত এই জোট ২০১৪ সালের জুলাই মাসে সরকার কর্তৃক চালু করা জ্বালানী সাবসিডি কাটার প্রতিবাদে জনগণের সমর্থন লাভ করে এবং সরকারের পদত্যাগের দাবি তোলে। এরপর তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি আলী আব্দুল্লাহ সালেহের সমর্থিত বাহিনীর সাথে জোট বেঁধে সামরিক অবস্থান এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান অধিকার করে। সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদ রাব্বু ম্যানসুর হাদি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদেনে পালিয়ে যান। হুথি-সালেহ জোটের বাহিনী আদেনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হাদি রিয়াদে আশ্রয় নেন। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরব হাদির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার পুনরুদ্ধারের জন্য সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। এরপর দশ বছর ধরে জোটের পরিবর্তন এবং যুদ্ধরেখার পরিবর্তন ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর** হুথি জোট সানা অধিকার করে নেয়ার পর থেকে ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ এলাকা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে
- 📌 **২০১৬ সালের শেষে** হুথি-সালেহ জোট সানা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে, যেখানে দেশের অধিকাংশ জনসংখ্যা বাস করে; সরকারি বাহিনী দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে
- 📌 **২০১৭ সালের ডিসেম্বর** সাবেক রাষ্ট্রপতি সালেহের মৃত্যুর পর হুথি জোট উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের অধিকাংশ এলাকা একা নিয়ন্ত্রণ করে
- 📌 **২০১৯ সালের মার্চে** হুথি জোট সানা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চভূমি নিয়ন্ত্রণ করে; সরকারি বাহিনী দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে
- 📌 **২০২২ সালে** সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত দক্ষিণী স্থানান্তর কাউন্সিল (এসটিসি) আদেন অধিকার করে এবং সরকারি বাহিনীর সাথে বেশ কয়েকবার লড়াই করে
- 📌 **২০২৩ সালের এপ্রিলে** সৌদি-হুথি আলোচনা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আশা জাগায়, কিন্তু ইয়েমেন এখনও বিভক্ত রয়েছে
📰 বিস্তারিত
ইয়েমেনের ১২ বছরের যুদ্ধে হুথি জোটের সাথে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ এলাকার পরিবর্তন একটি জটিল মানচিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই যুদ্ধে কোনো পক্ষই পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। হুথি জোট ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সানা অধিকার করে নেয়ার পর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ এলাকা উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত দক্ষিণী স্থানান্তর কাউন্সিল (এসটিসি) দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে তুলেছে।
২০১৬ সালের শেষে হুথি-সালেহ জোট সানা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে, যেখানে ইয়েমেনের অধিকাংশ জনসংখ্যা বাস করে। সরকারি বাহিনী দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে তাদের অবস্থান মজবুত করে। আল কায়েদা আরবীয় উপদ্বীপ (একাপ) দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় সরকারের কর্তৃত্বের চ্যালেঞ্জ দেয়।
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সাবেক রাষ্ট্রপতি সালেহের মৃত্যুর পর হুথি জোট উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের অধিকাংশ এলাকা একা নিয়ন্ত্রণ করে। কিছু সালেহের সমর্থক জোট পরিবর্তন করে এবং সরকারি বাহিনী দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে তোলে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপের পরেও হাদির সরকার পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
২০১৯ সালের মার্চে হুথি জোট সানা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চভূমি নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারি বাহিনী দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে তাদের অবস্থান মজবুত করে। স্টকহোম চুক্তি হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদাইদা শহরের বিরুদ্ধে সরকারি আক্রমণ বন্ধ করে দেয়, যা খাদ্য, জ্বালানী এবং সাহায্যের প্রধান প্রবেশদ্বার।
"হুথি জোটের সাথে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে কোনো পক্ষই পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এই যুদ্ধে দারিদ্র্য ও পুষ্টিহীনতা দেশের জনগণের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইয়েমেন (সানা, আদেন, হোদাইদা, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হুথি জোট (আনসার আল্লাহ), সাবেক রাষ্ট্রপতি আলী আব্দুল্লাহ সালেহ, আবদ রাব্বু ম্যানসুর হাদি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ বছর (যুদ্ধের দৈর্ঘ্য), ১০ বছর (সৌদি হস্তক্ষেপের পর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!