📌 ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থানে ৯টি বিমান হামলা চালায়, যার মধ্যে টাইজ গভর্নরেটের ধুবাব ও আল-মাসরাখ জেলায় আক্রমণ হয়। হুথিরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫ সিভিলিয়ানকে হত্যা করে, যার মধ্যে ৫ বছর বয়সী একটি মেয়ে, এবং ১৭ জন আহত হয়। আন্তর্জাতিক কমিটি অব দ্য রেড ক্রস সতর্ক করে দেয় যে মধ্যপ্রাচ্যে সিভিলিয়ানরা যুদ্ধের খরচ বহন করছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থানে ৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এই আক্রমণগুলো টাইজ গভর্নরেটের ধুবাব ও আল-মাসরাখ জেলায় পরিচালিত হয়, যেখানে সরকারি বাহিনী হুথিদের সামরিক সরঞ্জাম ও অবস্থান লক্ষ্য করে। হুথি-বিরোধী টাইজ মিলিটারি অ্যাক্সিস মিডিয়া সেন্টার জানায়, আল-শাকাব এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুথিরা এখনও লড়াই করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী টাইজ গভর্নরেটে ৯টি বিমান হামলা চালায়, যার মধ্যে ৫টি ধুবাব জেলায় ও ৪টি আল-মাসরাখ জেলায়
- 📌 হুথিরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাইজে ৫ সিভিলিয়ান নিহত করে, যার মধ্যে ৫ বছর বয়সী একটি মেয়ে, এবং ১৭ জন আহত হয়
- 📌 হুথিরা টাইজে ১৮০টিরও বেশি প্রজেকটাইল নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে ৭টি বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়
- 📌 ইয়েমেনে ২০১৪ সাল থেকে চলমান যুদ্ধে হুথিরা ২০২২ সালের ইউনাইটেড নেশন্স-সহায়ক শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করে
- 📌 ইরানের সমর্থিত হুথিরা সেপ্টেম্বর মাসে মোচা ও বাব আল-মন্দেব স্ট্রেটের মায়ুন দ্বীপ দখল করে
- 📌 ইয়েমেনে ১৪ জন নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়, যার মধ্যে অনেকেই শিশু — ইউনাইটেড নেশন্সের তথ্য অনুযায়ী
- 📌 হুথিরা সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানবন্দর ও তেল সংস্থায় মিসাইল আক্রমণ চালায়, যার ফলে ১৪ জন নিহত হয়
- 📌 জার্মান ক্যান্সলার ফ্রেডেরিক মের্জ সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে ফোন করে ইরানকে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়
📰 বিস্তারিত
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ১২ অক্টোবর রবিবার টাইজ গভর্নরেটের ধুবাব ও আল-মাসরাখ জেলায় হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থানে ৯টি বিমান হামলা চালায়। এই আক্রমণগুলো সরকারি বাহিনীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ টাইজ মিলিটারি অ্যাক্সিস মিডিয়া সেন্টার দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে। হুথি-বিরোধী বাহিনী ও হুথিরা আল-শাকাব এলাকায় এখনও লড়াই করছে, যা টাইজের দক্ষিণে অবস্থিত।
ইয়েমেনের নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডম জানায়, হুথিরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাইজে ৫ সিভিলিয়ানকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে একটি ৫ বছর বয়সী মেয়ে। এছাড়াও, ১৭ জন সিভিলিয়ান আহত হয়েছেন। সংস্থাটি হুথিরা বাসস্থান এলাকায় শেলিং চালিয়ে ৭টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা আরও জানায়, হুথিরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাইজে ১৮০টিরও বেশি প্রজেকটাইল নিক্ষেপ করেছে।
ইয়েমেনের যুদ্ধ ২০১৪ সালে শুরু হয় যখন হুথি বিদ্রোহীরা সানা দখল করে সরকারকে সানা থেকে পালাতে বাধ্য করে। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক গठবন্ধন ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন করার জন্য হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সালে ইউনাইটেড নেশন্স-সহায়ক শান্তি চুক্তি যুদ্ধে কিছুটা শান্তি আনলেও, ইরানের সমর্থিত হুথিরা ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সৌদি আরবের বন্দর ও বাব আল-মন্দেব স্ট্রেটে নৌব্লকেড ঘোষণা করে।
সেপ্টেম্বর মাসে হুথিরা মোচা ও বাব আল-মন্দেব স্ট্রেটের মায়ুন দ্বীপ দখল করে। এই দ্বীপটি স্ট্রেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। ইয়েমেনে যুদ্ধের ফলে ২০২৬ সালের আগস্ট মাস থেকে ৪৬ জন সিভিলিয়ান নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে অনেকেই শিশু। ইউনাইটেড নেশন্সের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইয়েমেনে ২০০,০০০ জনেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
হুথিরা সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানবন্দর ও তেল সংস্থায় মিসাইল আক্রমণ চালায়, যার ফলে ১৪ জন নিহত হয়। এই আক্রমণগুলো আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হয়। সৌদি আরবের শক্তি মন্ত্রী প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই হামলার কারণে কাতার এয়ারওয়েজ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্ল্যাগ ক্যারিয়ার ইমিরেটস সৌদি আরব ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
জার্মান ক্যান্সলার ফ্রেডেরিক মের্জ সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে ফোন করে মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি ইরানকে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং ইরানকে অঞ্চলকে অস্থির করার জন্য দোষারোপ করেন। মিশরীয় বিদেশ মন্ত্রী বাদর আবদেল আত্তি গলফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এর সাথে বৈঠক করেন।
"সিভিলিয়ানরা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক কার্যক্রমের কারণে অগ্রহণযোগ্য মূল্য দিচ্ছে। ইয়েমেনে মৃত্যু, বাস্তুচ্যুতি এবং সিভিলিয়ান অবকাঠামোতে ক্ষতি — বিশেষ করে আদেন ও সানা শহরে — দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সিভিলিয়ান অবকাঠামোতে বারবার আঘাত হানে এবং জীবন হারায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাইজ গভর্নরেট (ইয়েমেন), ধুবাব ও আল-মাসরাখ জেলা, আল-শাকাব এলাকা, মোচা, বাব আল-মন্দেব স্ট্রেট, মায়ুন দ্বীপ, সানা, আদেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী, হুথি বিদ্রোহীরা, টাইজ মিলিটারি অ্যাক্সিস মিডিয়া সেন্টার, ইয়েমেন নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডম, মিরজানা স্পোলজারিক (রেড ক্রস), ফ্রেডেরিক মের্জ (জার্মান ক্যান্সলার), মোহাম্মদ বিন সালমান (সৌদি ক্রাউন প্রিন্স), বাদর আবদেল আত্তি (মিশরীয় বিদেশ মন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯টি বিমান হামলা, ৫ সিভিলিয়ান নিহত (৫ বছর বয়সী মেয়ে সহ), ১৭ জন আহত, ১৮০টি প্রজেকটাইল, ৭টি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি, ৪৬ সিভিলিয়ান নিহত (আগস্ট থেকে), ১৩০ জন আহত, ২০০,০০০+ বাস্তুচ্যুত, ১৪ জন নিহত (সৌদি বিমানবন্দর আক্রমণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!