📌 ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও লোহিত সাগরের উপকূল দখল করে নিয়েছে। তাদের সামরিক অগ্রযাত্রা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হুতিরা কারা? তাদের মূল দাবি কী? বিস্তারিত জানুন
ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের নতুন তীব্রতা সৃষ্টি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা দখল করেছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে শুরু করে মোকা বন্দরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসার ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হুতি বিদ্রোহীরা** ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও লোহিত সাগরের ১৩০ কিলোমিটার উপকূল দখল করেছে, যার ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে
- 📌 **হুতিরা** ইয়েমেনের শিয়া জাইদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী ‘আনসার আল্লাহ’ সংগঠনের যোদ্ধা, যাদের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার
- 📌 তাদের **মূল দাবি** হলো সৌদি আরবের অবরোধের অবসান, পুরো ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ ও দেশের তেল-গ্যাস থেকে রাজস্বে অংশগ্রহণ
- 📌 **২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে** হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করে এবং তাদের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালায়
- 📌 **ইরান** হুতিদের ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে তাদের শক্তিশালী করেছে, যা জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন
📰 বিস্তারিত
হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন। তাদের আনুষ্ঠানিক নাম ‘আনসার আল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর অনুসারী’। প্রতিষ্ঠাতা **হুসেইন আল-হুতি**র নাম থেকেই ‘হুতি’ নামটি এসেছে। ১৯৯০-এর দশকে সংগঠনটির উত্থান ঘটে এবং ২০০৪ সাল থেকে তার ভাই **আবদুল মালিক আল-হুতি** কার্যত নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
২০০০-এর দশকের শুরুতে তারা প্রেসিডেন্ট **আলি আবদুল্লাহ সালেহ**র সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। তাদের অন্যতম দাবি ছিল উত্তর ইয়েমেনে নিজেদের ঘাঁটি এলাকায় অধিক স্বায়ত্তশাসন। ২০১১ সালের আরব বসন্তের গণ-অভ্যুত্থানের পর সালেহ ক্ষমতা ছাড়লে হুতিরা শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং রাজধানী সানা দখল করে নেয়। বর্তমানে তারা ইয়েমেনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় দেশের মোট জনসংখ্যার **৭০ থেকে ৮০ শতাংশ** বসবাস করে।
২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হুতিরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে লোহিত সাগরের উপকূল দখল করেছে। তারা দাবি করেছে, সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের লক্ষ্য নয়। তবে তাদের সামরিক কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
"সৌদি আরব ও পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে হুতিদের ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র সরবরাহ করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইয়েমেন (উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও লোহিত সাগর উপকূল), বাব আল-মান্দেব প্রণালি, মোকা বন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হুসেইন আল-হুতি (প্রতিষ্ঠাতা), আবদুল মালিক আল-হুতি (নেতা), আলি আবদুল্লাহ সালেহ (সাবেক প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ লাখ ৫০ হাজার (হুতি যোদ্ধা), ১৩০ কিলোমিটার (উপকূল দখল), ৭০-৮০% (ইয়েমেনের জনসংখ্যা তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!