📌 পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্গা বিসর্জনে শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা স্পর্শের অনুমতি দেবার নির্দেশ দিয়েছেন। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, এতে অস্পৃশ্যতার প্রথা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। শ্রমিকদের জীবিকা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সংকটের কথা উঠেছে আলোচনায়
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্গাপূজার বিসর্জনে শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা স্পর্শের অনুমতি দেবার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজনৈতিক দলগুলো। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, এতে অস্পৃশ্যতার প্রথা পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। কলকাতায় বুধবার থেকে শুরু হওয়া দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি দেখতে মুখ্যমন্ত্রী হুগলি নদীর তীরে বাবুঘাট পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্গা বিসর্জনে শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা স্পর্শের অনুমতি দেবার নির্দেশ দিয়েছেন।
- 📌 প্রতিমা বহন ও বিসর্জনের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের মধ্যে অনেক মুসলমান ও তফসিলি উপজাতিভুক্ত ব্যক্তি রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের ফলে তাদের জীবিকা বিপন্ন হতে পারে।
- 📌 কলকাতার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনঘাটে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ কাজ করেন। তাদের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী নয় এমন ব্যক্তিদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়।
- 📌 মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস ও সিপিএমের নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, হিন্দুধর্ম উদার এবং ছোঁয়াছুঁয়ির প্রথা ধর্মের সাথে সম্পর্কিত নয়।
- 📌 অস্পৃশ্যতার প্রথা ভারতের সংবিধানে নিষিদ্ধ হলেও সমাজে এখনো তা বিদ্যমান। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে জাতপাতের বিভাজন আবার মাথাচাড়া দিতে পারে।
📰 বিস্তারিত
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘এটা তো একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। উৎসব তো বটেই, কিন্তু সেটা সেকেন্ডারি। প্রাইমারি হচ্ছে ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষা।’ তিনি প্রতিমা বিসর্জনের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁর নির্দেশের মধ্যে কোনো সাম্প্রদায়িকতা নেই। ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার জন্যই এ ব্যবস্থা।’
দুর্গাপূজার বিসর্জনের সময় ভারী প্রতিমা বহন ও নদীতে নামানোর কাজে অনেক দিনমজুর ও শ্রমিক যুক্ত থাকেন। এসব শ্রমিকদের মধ্যে দরিদ্র মুসলমানদের পাশাপাশি আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এবং তফসিলি উপজাতিভুক্ত মানুষও রয়েছেন। অর্থের বিনিময়ে তারা দুর্গাসহ বিভিন্ন প্রতিমা বহনের কাজ করেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসরণ করলে এসব শ্রমিকের একাংশ কাজ হারাতে পারেন। এতে তাদের জীবিকার ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কলকাতা পৌর করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন বিসর্জনঘাটে এই শ্রমিকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যাঁরা সনাতন ধর্ম মানেন না, নির্দেশ কার্যকর হলে তাঁরা প্রতিমা স্পর্শ বা বহনের কাজে অংশ নিতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে বিকল্প কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশাসন এখনো স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দেয়নি।
"এতটা সংকীর্ণ কিন্তু হিন্দুধর্ম নয়, হিন্দুধর্ম উদার। আপনি কি ধর্ম দেখে দেখে, জাতপাত দেখে দেখে, দেখতে যাবেন, এ ছোঁবে, এ ছোঁবে না। শ্রীরামকৃষ্ণ এ কথা বলে যাননি। স্বামী বিবেকানন্দ এই হিন্দুত্ব দেখিয়ে যাননি।"
— তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ
সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেছেন, ‘আপনি আজকে বলছেন সনাতনীরা শুধু ঠাকুরকে স্পর্শ করতে পারবে, মুসলমান কৃষকেরা যে পদ্মফুল চাষ করেন, সেই পদ্মফুল বাদ দিয়ে সন্ধিপূজা হয় দুর্গাপূজায়?’ তিনি বলেন, যেকোনো উৎসবে সমস্ত ধর্মের মানুষ একসঙ্গে আনন্দ করেন, সেটাই হওয়া উচিত একটা সুস্থ সমাজে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, হুগলি নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শুভেন্দু অধিকারী (মুখ্যমন্ত্রী), কুণাল ঘোষ (তৃণমূল কংগ্রেস), শতরূপ ঘোষ (সিপিএম)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ অক্টোবর (বিসর্জনের শুরু), নানা ধর্মাবলম্বী শ্রমিকের সংখ্যা (অনুমানিক শতকরা ৩০-৪০%)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!