📌 'নাজা' নামের ৮০ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্র ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের 'স্পেশাল জুরি প্রাইজ' জিতেছে। এই চলচ্চিত্রে ইসরায়েলি সেনারা গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের 'পদ্ধতিগতভাবে' হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এআই-চালিত লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ব্যবস্থা 'ল্যাভেন্ডার' সম্পর্কে উন্মোচিত হয়েছে, যা দূর থেকে হত্যার নির্দেশ দেয়
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে সর্বদীর্ঘ ২৫ মিনিট ধরে দর্শকরা স্ট্যান্ডিং ওভেশন দিয়ে সম্মান জানিয়েছেন ‘নাজা’ নামের একটি রোমহর্ষক প্রামাণ্যচিত্রের। এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংবাদিক ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোর। ‘নাজা’ চলচ্চিত্রে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা গাজা যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ‘পদ্ধতিগতভাবে’ হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, যা বিশ্বের সামনে একটি অদ্ভুত সত্য উন্মোচন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অস্কারজয়ী পরিচালক ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের নির্মিত ‘নাজা’ প্রামাণ্যচিত্র ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ‘স্পেশাল জুরি প্রাইজ’ জিতেছে এবং দর্শকদের ২৫ মিনিট ধরে স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেয়েছে — এযাবৎকালের সর্বদীর্ঘ।
- 📌 ২৪ জন ইসরায়েলি সেনা ও কর্মকর্তা গোপন পরিচয় রক্ষায় কথা বলেছেন, তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, ‘গাজায় শিল্পকারখানায় উৎপাদনের মতো ব্যাপক হত্যাকাণ্ড’ চালানো হয়েছিল।
- 📌 ‘ল্যাভেন্ডার’ নামের এআই-চালিত ব্যবস্থা গাজার টেলিযোগাযোগ নজরদারি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে, যেখানে ইসরায়েলি সেনারা দূর থেকে হামলা পরিচালনা করত।
- 📌 সাক্ষাৎকারদাতারা বলেছেন, হত্যার পর সেনারা ‘নাজা, নাজা, হোয়াট এ ফান!’ বলে উৎফুল্ল হয়ে উঠত, যা তাদের ‘অত্যন্ত আনন্দদায়ক’ কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
- 📌 ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাসের হাসপাতালে ২০২৫ সালে ২০ জন বেসামরিক লোকের হত্যাকাণ্ডের জন্য ‘তথ্য অনুযায়ী’ সতর্কতা দাবি করলেও, সেখানে পাঁচজন সাংবাদিকের মৃত্যু ঘটে, যার মধ্যে রয়টার্সের একজন সাংবাদিকও ছিলেন।
📰 বিস্তারিত
‘নাজা’ প্রামাণ্যচিত্রের নামকরণ করা হয়েছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার ব্যবহৃত একটি হিব্রু শব্দ থেকে, যা ‘কোলাটেরাল ড্যামেজ’ বা বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির সম্ভাব্য সংখ্যা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এই চলচ্চিত্রে ২৪ জন ইসরায়েলি সেনা ও কর্মকর্তা গোপন পরিচয় রক্ষায় কথা বলেছেন, যারা গাজায় যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত পরিকল্পনা ও পরিচালন ব্যবস্থায় জড়িত ছিলেন। তারা স্বীকার করেছেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে ‘পদ্ধতিগতভাবে’ ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
চলচ্চিত্রে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনারা গাজায় ‘হত্যাকাণ্ডের কারখানা’-এর মতো কাজ করতেন। তারা বলেছেন, ‘এটা অনেকটা ভিডিও গেমের মতো, কারণ সবকিছুই দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়’। এআই-চালিত ‘ল্যাভেন্ডার’ ব্যবস্থা গাজার টেলিযোগাযোগ নজরদারি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে। সাক্ষাৎকারদাতারা বলেছেন, সেনারা দূর থেকে হামলা পরিচালনা করার পর ‘নাজা, নাজা, হোয়াট এ ফান!’ বলে উৎফুল্ল হয়ে উঠত।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সতর্ক ছিল বলে দাবি করলেও, ২০২৫ সালে নাসের হাসপাতালে তাদের হামলায় ২০ জন বেসামরিক লোকের মৃত্যু হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। কিন্তু সেখানে পাঁচজন সাংবাদিকের মৃত্যু ঘটে, যার মধ্যে রয়টার্সের একজন সাংবাদিকও ছিলেন।
"গাজায় হত্যাকাণ্ডের ব্যবস্থাগুলো দেখতে কেমন ছিল এবং সেগুলো কীভাবে কাজ করত—তা যতটা সম্ভব বিস্তারিতভাবে জানা ছিল আমাদের লক্ষ্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব, গাজা, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইউভাল আব্রাহাম, র্যাচেল সোর, ২৪ জন ইসরায়েলি সেনা ও কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ মিনিট (চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য), ২৫ মিনিট (স্ট্যান্ডিং ওভেশন), ২৪ জন (সাক্ষাৎকারদাতা), ২০ জন (নাসের হাসপাতালে মৃত্যু), ৭৩ হাজার (গাজায় মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!