📌 যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি ২০২৭-এর নিবন্ধন আবার শুরু হতে যাচ্ছে আদালতের নির্দেশে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিবন্ধন শুরু করতে বলা হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশিরা এবার আবেদন করতে পারবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) বা গ্রিন কার্ড লটারি ২০২৭-এর নিবন্ধন আবার শুরু হতে যাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত ১৪ অক্টোবর নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করতে। তবে বাংলাদেশিরা এবার আবেদন করার সুযোগ পাবেন কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার আদালত মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ডিভি-২০২৭ নিবন্ধন শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।
- 📌 ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নিবন্ধন স্থগিত ছিল।
- 📌 ৫৫ হাজার ডাইভারসিটি ভিসা বরাদ্দ থাকলেও নির্বাচিত ব্যক্তির পরিবারও আওতায় আসে, ফলে প্রতিবছর ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি নির্বাচিত হন।
- 📌 ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকবে ভিসা আবেদনের সময়সীমা।
- 📌 আইনি প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল ও আইনজীবী কার্টিস মরিসন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতের নির্দেশ পেয়েছে।
- 📌 ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই—আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে।
- 📌 বাংলাদেশিরা এবার আবেদন করতে পারবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) কর্মসূচি ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে চালু হয়। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠানো দেশের নাগরিকদের জন্য স্থায়ী বসবাসের সুযোগ তৈরি করা। মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবারের সদস্য বা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে অভিবাসনের সুযোগ থাকলেও, এই ব্যবস্থায় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক বা পেশাগত যোগাযোগ থাকলে সুবিধা পেতে পারে। ডাইভারসিটি ভিসা সেই ব্যবস্থার বাইরে অপেক্ষাকৃত কম অভিবাসী পাঠানো দেশের নাগরিকদের জন্য একটি আলাদা সুযোগ তৈরি করে। প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার ডাইভারসিটি ভিসা বরাদ্দ থাকে, তবে এই সংখ্যা মূল আবেদনকারীদের জন্য নয়। নির্বাচিত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানও ওই তালিকার আওতায় থাকেন। ফলে প্রতিবছর ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ডিভি আবেদনকারী হিসেবে নির্বাচিত হন।
২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সে কারণে নিবন্ধনের সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে। তবে নির্বাচিতদের ভিসা আবেদনের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাখার কথা বলা হয়েছিল। আইনি প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল ও আইনজীবী কার্টিস মরিসন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশ পেয়েছে। তাদের যুক্তি ছিল, নিবন্ধনের সুযোগ না খুললে আবেদনকারী থাকবে না এবং কার্যত ডিভি-২০২৭ কর্মসূচিই অকার্যকর হয়ে যাবে। আদালত সেই যুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দিয়েছে।
ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। নির্বাচিত হওয়ার পরও আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রধান আবেদনকারীর কমপক্ষে উচ্চমাধ্যমিক সমমানের শিক্ষা থাকতে হবে অথবা নির্দিষ্ট কর্মঅভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা আগের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ ডিভি লটারি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের জন্য আবেদন করার একটি সুযোগ তৈরি করে। লটারিতে নাম ওঠার পরও ভিসা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত আইনি ও প্রশাসনিক শর্ত পূরণ করতে হয়।
"নিবন্ধনের সুযোগ না খুললে আবেদনকারী থাকবে না, লটারি আয়োজন করা যাবে না এবং কার্যত ডিভি-২০২৭ কর্মসূচিই অকার্যকর হয়ে যাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ক্যালিফোর্নিয়া), বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইনজীবী কার্টিস মরিসন, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ হাজার (ডাইভারসিটি ভিসা বরাদ্দ), ১৪ অক্টোবর (আদালতের নির্দেশ), ১ অক্টোবর-৩০ সেপ্টেম্বর (ভিসা আবেদনের সময়সীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!