📌 ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাক থেকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহার সম্পন্ন করে মার্কিন বাহিনী। দীর্ঘ ২০ বছরের সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটলেও দেশটিতে নিরাপত্তা শূন্যতা ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর শক্তিশালীকরণের আশঙ্কা জাগ্রত হয়েছে। ইরান ও তাদের মিত্ররা এই প্রত্যাহারকে রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে
৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকে অবস্থিত সব সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নিয়ে মার্কিন বাহিনী চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটলেও দেশটিতে চরম নিরাপত্তা শূন্যতা সৃষ্টি ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্তিশালীকরণের আশঙ্কা জাগ্রত হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনী চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহার সম্পন্ন করে।
- 📌 ইরান ও তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা মার্কিন প্রত্যাহারকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছে।
- 📌 ইরাকে নিরাপত্তা শূন্যতা সৃষ্টি ও ইসলামিক স্টেট (আইএস) পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- 📌 ২০০৩ সাল থেকে শুরু করে মার্কিন বাহিনী ইরাকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ সেনা নিহত করেছে।
- 📌 ইরাকিদের মধ্যে মার্কিন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জনপ্রিয় হলেও নিরাপত্তা উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
২০০৩ সালে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে তৎকালীন ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহ দমন অভিযান চালানো হয়। প্রথমে সাদ্দাম-সমর্থকদের বিরুদ্ধে, পরে আল-কায়েদা ও পরবর্তীতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযানগুলো দেশটিতে ব্যাপক রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, যা আইএসের উত্থানের পথ তৈরি করে দেয়।
২০১১ সালের শেষ দিকে মার্কিন বাহিনী প্রথম দফায় ইরাক থেকে প্রত্যাহার শুরু করে। কিন্তু আইএসের তাণ্ডবে ২০১৪ সালে দেশটিতে ফিরে আসে মার্কিন বাহিনী। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী ইরাকি বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা করে। তবে এই যুদ্ধে আফগানিস্তান যুদ্ধের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
চলতি বছরে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনাকর সংঘাতের সময় ইরাকে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সাতজনই প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে গত জুলাইয়ে, যখন এরবিলের কাছে একটি ঘাঁটিতে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ধ্বংস করতে গিয়ে মারা যান এক মার্কিন সেনা সার্জেন্ট।
"মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ইরাকিদের মধ্যে জনপ্রিয় হলেও, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে। স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরাক (বিশেষত এরবিল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কিন বাহিনী, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (তৎকালীন), প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (বর্তমান প্রশাসন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ হাজার ৫০০ (মার্কিন সেনা নিহত), ১৮ জন (২০২৬ সালের ইরাক-সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!