📌 যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ব্যাপক বিজয়ের পর মার্কিন শেয়ারবাজার থেকে একদিনে ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে গেছে। এআই খাতের সম্প্রসারণে রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা দ্রুত শেয়ার বিক্রি করছেন, যার ফলে নাসডাক সূচক ৫.৫ শতাংশ পতন করেছে। ডেটা সেন্টার নির্মাণে অনুমোদন পাওয়ার কঠিনতা এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সংকটে পড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ব্যাপক বিজয়ের পর মার্কিন শেয়ারবাজারে একদিনে ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে গেছে। এআই খাতের সম্প্রসারণে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও স্থানীয় বাধার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা দ্রুত শেয়ার বিক্রি করছেন, যার ফলে নাসডাক শেয়ারবাজারের সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ পতন করেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এই দরপতন ঘটে, যার ফলে নাসডাক-১০০ সূচকভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারমূল্য থেকে একদিনে ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার মুছে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন শেয়ারবাজার থেকে একদিনে হারিয়ে গেছে ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা নাসডাকের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ একদিনের দরপতন।
- 📌 ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী বিজয়ের পর এআই খাতের সম্প্রসারণে রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি বাড়িয়েছেন।
- 📌 ডেটা সেন্টার নির্মাণে অনুমোদন পাওয়ার কঠিনতা, উচ্চ সুদ এবং অর্থনৈতিক সংকট ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।
- 📌 নাসডাক কম্পোজিট সূচক ৬ অক্টোবরের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ১২ শতাংশ পতন করেছে, যা কারেকশন পর্যায়ে প্রবেশের সীমা অতিক্রম করেছে।
- 📌 চিপ নির্মাতা ও নিওক্লাউড প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে সর্বাধিক পতন হয়েছে, যেমন এনভিডিয়ার ৯ শতাংশ, অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের ১৭ শতাংশ।
- 📌 ডেটা সেন্টার নির্মাণের সঙ্গে জড়িত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোরও শেয়ার ১৪ শতাংশের বেশি পতন হয়েছে।
- 📌 ইউবিএসের বিশ্লেষকদের অনুমান, ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ শতাংশ নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ স্থগিত হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বড় ধরনের বিজয়ের পর এআই খাতের সম্প্রসারণে সম্ভাব্য বাধার আশঙ্কায় মার্কিন শেয়ারবাজার দরপতনের মুখে পড়েছে। নাসডাক শেয়ারবাজারের সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ পতন করেছে, যার ফলে নাসডাক-১০০ সূচকভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারমূল্য থেকে একদিনে ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে গেছে। এটি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক ঘোষণার পর থেকে নাসডাকের সবচেয়ে বড় একদিনের দরপতন।
বিনিয়োগকারীরা ডেটা সেন্টার নির্মাণে সম্ভাব্য বাধা, এআই অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা না পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ব্যাপক বিজয়ের ফলে এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক ও স্থানীয় চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার নির্মাণে অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। উচ্চ সুদের হার ও কঠোর আর্থিক পরিস্থিতির কারণে তহবিল সংগ্রহে সংকটে থাকা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো আরও চাপে পড়তে পারে।
নাসডাক কম্পোজিট সূচক গত ৬ অক্টোবরের রেকর্ড অবস্থান থেকে প্রায় ১২ শতাংশ পতন করেছে, যা কারেকশন পর্যায়ে প্রবেশের সীমা অতিক্রম করেছে। কোনো সূচক সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ১০ শতাংশ কমে গেলে তাকে কারেকশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বৃহস্পতিবারের পতনের মধ্য দিয়ে এআই খাতের শেয়ারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দরপতন হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সূচকটিতে ৫০০ পয়েন্টের বেশি পতন ঘটেছে।
জোন্স ট্রেডিংয়ের প্রধান বাজার কৌশলবিদ মাইকেল ও’রুর্ক বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের গভর্নর পদগুলোতে ব্যাপক বিজয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ডেটা সেন্টার নির্মাণ কার্যক্রমের গতি কমে যাওয়ার বিষয়টিই এখন বাজারের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার চিপ নির্মাতা ও নিওক্লাউড প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে। ফিলাডেলফিয়া এসই সেমিকন্ডাক্টর সূচক ১২ শতাংশ কমে ছয় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম কমেছে ৯ শতাংশ এবং অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের (এএমডি) ১৭ শতাংশ। নিওক্লাউড প্রতিষ্ঠান কোরউইভের শেয়ার ১০ শতাংশ এবং নেবিয়াসের ১৫ শতাংশ কমেছে।
"ডেটা সেন্টার নির্মাণ কার্যক্রমের গতি কমে যাওয়ার বিষয়টিই এখন বাজারের প্রধান আলোচ্য হয়ে থাকবে।"
ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। অ্যাপ্লায়েড ডিজিটাল, সাইফার ডিজিটাল ও আইরেনের শেয়ারের দাম ১৪ শতাংশের বেশি কমেছে। ডেটা সেন্টার নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও দরপতনের মুখে পড়েছে। জিই ভার্নোভার শেয়ার কমেছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং কনস্টেলেশন এনার্জির ২ দশমিক ৫ শতাংশ। বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারেও পতন হয়েছে, যেমন অ্যামাজন ও অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ করে কমেছে, মাইক্রোসফটের শেয়ার কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, নাসডাক শেয়ারবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাইকেল ও’রুর্ক (জোন্স ট্রেডিং), ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিনিয়োগকারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, ৫.৫ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ৯ শতাংশ, ১৭ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ৫০০ পয়েন্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!