📌 যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আইসিসির সাবেক বিচারপতি নাভি পিল্লাই নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক ও কার্যক্ষমতায় বাধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞা আইসিসির কার্যক্রমকে সরাসরি প্রভাবিত করবে না, তবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আইসিসির লেনদেনে বাধা সৃষ্টি করবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
- 📌 নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো আইসিসির সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বন্ধ করতে বাধ্য হবে, যার ফলে ব্যাংকিং, বিমা ও সফটওয়্যার সেবা প্রত্যাহার হতে পারে।
- 📌 মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসিকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না।
- 📌 আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের শাসনকে দুর্বল করবে।
- 📌 নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ ও আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
- 📌 আইসিসির রেজিস্ট্রার ওসভালদো জাভালা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ব্লকিং মেকানিজম’ ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের মূল কারণ হলো ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা।
- 📌 আইসিসি বিশ্বের ১২৫টি দেশের সদস্য, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ ও ন্যাটোর বেশিরভাগ সদস্য রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
আইসিসির সাবেক বিচারপতি নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজকে দুর্বল করাই এ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য। তবে আদালতের তদন্ত, বিচারপ্রক্রিয়া ও অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা দীর্ঘদিনের। এর আগেও আদালতের কয়েকজন কৌঁসুলি ও বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে এবারের পদক্ষেপে আদালতকে সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না। এ কারণেই আজ যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।’
আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভের অন্যতম কারণ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা। এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির অতীত তদন্ত নিয়েও ওয়াশিংটনের আপত্তি রয়েছে। আদালত অবশ্য জানিয়েছে, ওই তদন্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কিছু লেনদেনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে, যার মাধ্যমে আইসিসির টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং আদালতের আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এর ফলে ব্যাংক হিসাব বন্ধ, বিমা সেবা প্রত্যাহার এবং সফটওয়্যার সরবরাহ বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আইসিসির রেজিস্ট্রার ওসভালদো জাভালা গিলার চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একটি ‘ব্লকিং মেকানিজম’ ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানান। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বহির্দেশীয় প্রভাব থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মার্কো রুবিও বলেন, ‘হয় আইসিসি তাদের হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে বন্ধ করে দেব। আমরা আশা করি, আমাদের মিত্ররা—যাদের অনেকেই আইসিসির সদস্য এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য মার্কিন সেনাদের ওপর নির্ভরশীল—আদালটিকে নিয়ন্ত্রণে আনবে।’
"আমরা এমনভাবে পদক্ষেপটি সাজিয়েছি, যাতে আইসিসির সদস্য দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন উদ্বেগের সমাধান দিতে পারে। এসব উদ্যোগ সফল না হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওয়াশিংটন (যুক্তরাষ্ট্র), দ্য হেগ (নেদারল্যান্ডস), ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফগানিস্তান, ইসরাইল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কো রুবিও, নাজহাত শামীম খান, ওসভালদো জাভালা গিলার, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২৫টি দেশ (আইসিসির সদস্য), ৯ অক্টোবর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!