📌 রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন পুনরায় চালু ও মার্কিন বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। ইউরোপে রাশিয়ান গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু করলে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারবেন। তবে জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিরোধিতা করছে
রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনে মার্কিন বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে, যা ইউরোপে রাশিয়ান গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা উন্মোচন করছে। এই আলোচনা শান্তি চুক্তির পাশাপাশি ব্যবসায়িক সুযোগের দিকে নজর দিচ্ছে। পাঁচটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা কিরিল দিমিত্রিভ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনারের মধ্যে এই আলোচনা চলছে। কুশনার ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যস্থতা করার পাশাপাশি পুনরায় ব্যবসা-বাণিজ্য চালু করার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা দেখছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন পুনরায় চালু**: রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলছে, যেখানে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা রাশিয়ান গ্যাসের ইউরোপে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
- 📌 **মার্কিন ও রুশ কর্মকর্তাদের বৈঠক**: রাশিয়ার উপদেষ্টা কিরিল দিমিত্রিভ এবং মার্কিন বিশেষ দূত জারেড কুশনার মস্কো ও নিউইয়র্কে আলোচনা করেছেন।
- 📌 **ব্যবসা-বাণিজ্য শান্তির চাবিকাঠি**: কুশনার বিশ্বাস করেন, পুনরায় ব্যবসা-বাণিজ্য চালু করাই ইউক্রেন যুদ্ধে শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল উপায়।
- 📌 **জার্মানির বিরোধিতা**: জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নর্ড স্ট্রিম পুনরায় চালুর বিরোধিতা করছে, কারণ এটি রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করবে।
- 📌 **মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য পরিবর্তন**: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেন, তাহলে পাইপলাইন পুনরায় চালু হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর আগে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ করত। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের আগে জার্মানি রাশিয়ার গ্যাসের প্রায় ৫১ শতাংশই এই পাইপলাইন থেকে পেত। তবে রাশিয়া গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিলে পাইপলাইন দুটি অকেজো করে রাখা হয় এবং ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পানির নিচে বিস্ফোরণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই আলোচনা চলছে এমন সময়, যখন ইউরোপের পাঁচটি গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়া যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চায় না, বরং মার্কিন আলোচনার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়িক চুক্তি হাসিল করতে চাইছে। জার্মানির মতো ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া অন্যতম দেশটি রাশিয়ার হাইব্রিড হামলার শিকার হয়েছে। জার্মানির কিছু আইনপ্রণেতা বলেছেন, এই ধরনের ব্যবসায়িক চুক্তি ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে উৎসাহিত করবে এবং ইউরোপকে চড়া মূল্যে দিতে হবে।
জার্মানির অর্থনীতি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইউরোপে নর্ড স্ট্রিম ও রাশিয়ান গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং জার্মানি বিকল্প জ্বালানির পথ খুঁজে নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, পাইপলাইন পুনরায় চালুর জন্য সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যা সরকারের একেবারেই কাম্য নয়।
“যেকোনো চুক্তি অবশ্যই রাশিয়ার সঙ্গে ডিএফসি (ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমঝোতা হতে হবে এবং তা অবশ্যই মার্কিন করদাতা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থরক্ষা করতে হবে।”
এই আলোচনার পাশাপাশি, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান বাধাগুলোর কারণে মধ্যমেয়াদে এমন কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার করেন, তাহলে পাইপলাইন পুনরায় চালু হতে পারে। তবে আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে তা ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মস্কো, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, জার্মানি, ইউরোপ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কিরিল দিমিত্রিভ, জারেড কুশনার, ভ্লাদিমির পুতিন, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫১ শতাংশ (জার্মানির গ্যাস সরবরাহের অংশ), ৩১ শতাংশ (বিকল্প জ্বালানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!