📌 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী গ্রিনল্যান্ডে দুটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের উপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। চুক্তি সংযুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিষদে স্বাক্ষরিত হবে।
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করবে। এই চুক্তি সংযুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত হবে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে — একটি দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াকে এবং অন্যটি পূর্ব উপকূলের মেস্টার্সভিগে।
- 📌 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের সুরক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে "স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ" পাবে।
- 📌 চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে "বিপরীত শত্রু"দের সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা "সংবেদনশীল বিনিয়োগ" করতে বাধা দিতে পারবে।
- 📌 গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও অঞ্চলীয় অখণ্ডতাকে স্বীকৃতি দেয়।
- 📌 ডেনমার্কের বিদেশমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেছেন, চুক্তি উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা মজবুত করবে।
- 📌 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৫৮ সালে নারসারসুয়াকে স্থাপিত ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান (ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান) সামরিক ঘাঁটিকে পুনরায় চালু করবে।
- 📌 চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন।
- 📌 ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ন্যাটো সদস্য দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত ১৫০ জন সৈনিক প্রেরণ করেছিল।
📰 বিস্তারিত
গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান ও আর্কটিক অঞ্চলে এর গুরুত্বের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডে প্রচুর মৌলিক ধাতু রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রেয়ার-আর্থ মেটালস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার বক্তব্য ছিল যে, ওয়াশিংটন গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্ক থেকে অধিগ্রহণ করতে চায়। এর ফলে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সাথে আলোচনার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে আক্রমণ করবে না, বরং চুক্তি স্বাক্ষর করার চেষ্টা করবে। তিনি আরও বলেন, তিনি ইউরোপের আটটি দেশের বিরুদ্ধে ১০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করেছেন, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের চেষ্টা প্রতিবাদ করেছিল।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন ফেসবুকে একটি পোস্টে বলেছেন, “চুক্তিটি আমাদের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও অঞ্চলীয় অখণ্ডতাকে স্বীকৃতি দেয় এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের স্ব-নির্ধারণের অধিকারকে সম্মান করে।” তিনি আরও বলেছেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্ত, যা একটি কঠিন সময়ের পর। আমি চুক্তি স্বাক্ষর করতে এবং আমাদের নিরাপত্তা, স্বার্থ ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী।”
ডেনমার্কের বিদেশমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেছেন, “একটি অনিশ্চয়তার সময়ের পর, আমরা আশা করি যে একটি বাধ্যতামূলক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, যা আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিকের নিরাপত্তা মজবুত করবে এবং ন্যাটো ইউরোপের নিরাপত্তাকে সমর্থন করবে — ডেনমার্কের রাজ্যের লাল রেখা সম্মান করে।”
"চুক্তিটি আমাদের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও অঞ্চলীয় অখণ্ডতাকে স্বীকৃতি দেয় এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের স্ব-নির্ধারণের অধিকারকে সম্মান করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গ্রিনল্যান্ড (নারসারসুয়াক ও মেস্টার্সভিগ), ডেনমার্ক, নিউ ইয়র্ক (ইউএনজিএ)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট), জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন (গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী), লার্স লোক্কে রাসমুসেন (ডেনমার্কের বিদেশমন্ত্রী), মার্ক রুট (ন্যাটো প্রধান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২টি নতুন সামরিক ঘাঁটি, ১৫০ জন সৈনিক (ন্যাটো প্রেরণ), ১০ শতাংশ (বাণিজ্য শুল্ক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!