📌 সিএনএনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসে মার্কিন ক্রেতারা অর্থের বিনিময়ে ফিলিপাইনের শিশুদের যৌন নির্যাতনের কনটেন্ট কিনতেন এবং সরাসরি নির্দেশনা দিতেন। ২০১৫-২০২৩ সালের মধ্যে মার্কিন ক্রেতারা ৭০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ খরচ করে এই অপরাধে অংশ নেন
যুক্তরাষ্ট্রের সিএনএনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ফিলিপাইনের শিশুদের অনলাইনে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় মার্কিন ক্রেতাদের সরাসরি ভূমিকা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ক্রেতারা অর্থের বিনিময়ে শিশুদের ওপর নির্যাতনের নির্দেশ দিতেন এবং ক্যামেরার সামনে ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেন। ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত এই অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্টের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে বসে মার্কিন ক্রেতারা ফিলিপাইনের শিশুদের যৌন নির্যাতনের কনটেন্টের জন্য ৭০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ পরিশোধ করেছেন (২০২০-২০২২)।
- 📌 ফিলিপাইনে প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে প্রায় একজন শিশু এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে — মোট প্রায় পাঁচ লাখ শিশু।
- 📌 মার্কিন ক্রেতারা ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি শিশুদের নির্যাতনের ধরন নির্দেশনা দিতেন।
- 📌 রেমন্ড লি শ্যাভেজ নামে এক মার্কিন নাগরিকের কাছে ১৫টি সরাসরি সম্প্রচারসহ পাঁচ হাজার ছবি-ভিডিও ছিল।
- 📌 ফিলিপ অ্যান্ড্রু টার্নার ২৯ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ দিয়েছিলেন এবং নির্যাতনের নির্দেশনা দিতেন।
- 📌 ফিলিপাইনে এক ভুক্তভোগীর বোনকে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও মার্কিন ক্রেতা ক্রিস লি সেকম্যানকে মাত্র ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের ৯০ শতাংশ কর্মকর্তা অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানান্তরিত হওয়ায় শিশু নির্যাতনের তদন্ত ব্যাহত হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সিএনএনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ফিলিপাইনের শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনায় মার্কিন ক্রেতাদের ভূমিকা বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ক্রেতারা হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে বসে অর্থের বিনিময়ে শিশুদের ওপর নির্যাতনের নির্দেশ দিতেন এবং ক্যামেরার সামনে ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেন। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মার্কিন ক্রেতারা এ ধরনের কনটেন্টের জন্য ৭০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ পরিশোধ করেছেন।
ফিলিপাইনের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মার্কিন ক্রেতারা এ ধরনের অপরাধের কনটেন্টের জন্য ৭০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ পরিশোধ করেছেন। পার্সটুডে ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশনের হিসাব অনুযায়ী, ফিলিপাইনে প্রায় পাঁচ লাখ শিশু এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে — যা দেশটির প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে প্রায় একজন।
অনুসন্ধানে আলোচিত একটি মামলায় রেমন্ড লি শ্যাভেজ নামে এক মার্কিন নাগরিকের কাছে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত পাঁচ হাজারেরও বেশি ছবি ও ভিডিও ছিল। তিনি অন্তত ১৫টি সরাসরি সম্প্রচারও কিনেছিলেন। অন্যদিকে, মেরিল্যান্ডের আরেক মার্কিন নাগরিক ফিলিপ অ্যান্ড্রু টার্নার এ ধরনের নেটওয়ার্কে ২৯ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ দিয়েছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভিডিও কলে তিনি নির্যাতনের ধরন সম্পর্কে নির্দেশনা দিতেন।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনা আরও মর্মান্তিক। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক নারী জানান, মাত্র আট বছর বয়স থেকে আত্মীয়দের মাধ্যমে তিনি নির্যাতনের শিকার হন। কখনো কখনো মাঝরাতে তাকে ঘুম থেকে তুলে মার্কিন ক্রেতাদের জন্য ক্যামেরার সামনে হাজির করা হতো। একই পরিবারের আরেক শিশুর ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছিল মাত্র পাঁচ বছর বয়সে।
"শুধু ফিলিপাইনের স্থানীয় মধ্যস্থতাকারীদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়; অর্থদাতা ও অপরাধের সংগঠকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেমন্ড লি শ্যাভেজ, ফিলিপ অ্যান্ড্রু টার্নার, ক্রিস লি সেকম্যান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ লাখ ডলার (মার্কিন ক্রেতাদের খরচ), ১৫টি সরাসরি সম্প্রচার, ২৯ হাজার ডলার, ৩৩ বছর কারাদণ্ড (ফিলিপাইন), ১০ বছর কারাদণ্ড (যুক্তরাষ্ট্র)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!