📌 মিয়ানমারের জান্তা-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য থেইন্ট উইন থেটের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আগের মতো কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে না
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন মিয়ানমারের সামরিক জান্তা-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য থেইন্ট উইন থেটের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের বার্মা নীতির পরিবর্তন এবং সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আগের মতো কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 থেইন্ট উইন থেট নামের মিয়ানমারের নারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি তার বাবা থেইন উইন জাওর ব্যবসায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন না বলে দাবি করেছেন।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কারণ নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর ভূমিকা রাখছে না।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
- 📌 থেইন্ট উইন থেট যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে ব্যাহত হন। তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হন।
- 📌 মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের কারণে ১ লাখ মানুষ নিহত এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী থেইন উইন জাওর মেয়ে থেইন্ট উইন থেটের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কারণ নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেছেন, ‘বার্মার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে প্রশাসন নানা উপায় কাজে লাগাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতারণাকেন্দ্র দমন, মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বার্মার অভ্যন্তরীণ পরিবেশের উন্নয়ন এবং চলমান সহিংসতা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় শান্তিপ্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করা।’
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনর প্রশাসন মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। সামরিক জান্তাকে সহায়তার অভিযোগে কয়েকটি কোম্পানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। গত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় শ্বে বায়াইন ফিউ গ্রুপ অব কোম্পানিজ এবং এর প্রতিষ্ঠাতা থেইন উইন জাওর পরিবারকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিষ্ঠানটি সামরিক বাহিনীর পক্ষে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিতরণ করত। পরিবারটি জান্তা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত অন্তত ২০টি কোম্পানির মালিক।
থেইন্ট উইন থেটের আইনজীবী এরিক ফেরারি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে ব্যাহত হন। তিনি বলেন, ‘বাদীর মার্কিন ক্রেডিট কার্ডগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিদেশি ব্যাংক হিসাব সীমিত বা বন্ধ করা হয়েছে, কিংবা হিসাব খুলতে দেওয়া হয়নি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনাও শেষ করতে পারেননি।’
মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের কারণে ১ লাখ মানুষ নিহত এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাস্টিস ফর মিয়ানমার নামের একটি সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, ‘মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যখন বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বৃদ্ধি করছে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিল। এটা নিন্দনীয়।’
"এই সিদ্ধান্ত ‘প্রশাসনের এই মূল্যায়নেরই প্রতিফলন যে বার্মা-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত লক্ষ্য অর্জনে এই তালিকাভুক্তি আর কার্যকর ভূমিকা রাখছে না।' — মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক), মিয়ানমার (বার্মা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: থেইন্ট উইন থেট, থেইন উইন জাও, জো বাইডেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, এরিক ফেরারি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ নিহত, ৩৫ লাখ বাস্তুচ্যুত, ২০টি কোম্পানি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!