📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে নতুন হামলা পরিকল্পনা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন ছাড়া এই হামলা সম্ভব নয়। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে ব্যাপক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভান্ডার এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই হামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন ছাড়া এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো ধরনের হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে এবং সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে নতুন হামলা পরিকল্পনা করছে
- 📌 মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুতে আগের হামলার কারণে টান পড়েছে
- 📌 ইরানের সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব না হওয়ায় নতুন হামলার লক্ষ্য অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করে আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করা
- 📌 ট্রাম্পের দ্বিধা ও ইসরায়েলের নির্বাচনের কারণে হামলা স্থগিত হতে পারে
- 📌 ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তেল ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তা ও সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভান্ডার এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন ছাড়া এই হামলা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগের বড় হামলায় লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। উল্টো বিশ্বে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নড়বড়ে হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুতেও টান পড়েছে। কিছু মার্কিন পরিকল্পনাকারীর ধারণা, টানা তিন দিন ইরানে ব্যাপক পরিসরে তীব্র হামলা চালানো হতে পারে। এই হামলার লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতিকে এত বিপুল ক্ষয়ক্ষতি করা, যাতে তেহরান আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার একটি লক্ষ্য ছিল ইরানের সরকার পরিবর্তন করা। কিন্তু প্রায় আট মাসের সংঘাতের পরও ইরানের সরকার টিকে আছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন নৌ অবরোধও দেশটিকে গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে ইরানে নতুন করে যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের হিসাব, ট্রাম্পের দ্বিধা ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্বাচনের কারণে হামলা স্থগিত হতে পারে। নভেম্বরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, হাজারো মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান, বিশেষ বাহিনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা। ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহু হেরে গেলে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত তিনি কিছুদিন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা তাঁর জন্য কঠিন হতে পারে।
ইরানের বিশ্লেষক পেইমান সালেহি বলেছেন, যুদ্ধের মাধ্যমে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ানো। কারণ, এতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবলেও আঘাত করা হতে পারে।
"যুদ্ধ আমাদের বুঝিয়েছে, ট্রাম্পের ওপর চাপ তৈরির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ানো। কারণ, এতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান, সৌদি আরব, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, পিট হেগসেথ, পেইমান সালেহি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২৭ অক্টোবর, ২২ হাজার পাউন্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!