📌 আমেরিকার সেনাবাহিনী ইরানের ভূমি ও কাস্পিয়ান সাগর পথের অস্ত্র ও অর্থপ্রবাহ বন্ধের জন্য 'টাস্ক ফোর্স ইরন গেট' গঠন করেছে। গতকাল সোমবার ইরানের কেশম দ্বীপে দুটি বিস্ফোরণ ঘটে, যা মার্কিন-ইরান সংঘাতের চাপকে আরো তীক্ষ্ণ করেছে।
আমেরিকার সেনাবাহিনী ইরানের ভূমি ও কাস্পিয়ান সাগর পথের অস্ত্র ও অর্থপ্রবাহ বন্ধের জন্য একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠন করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্য প্রাচ্য কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা করেছে, তারা ইরানের ভূমি পথে অগ্রগত অস্ত্র ও অন্যান্য সরবরাহ বন্ধের জন্য 'টাস্ক ফোর্স ইরন গেট' গঠন করেছে। এই টাস্কফোর্সের লক্ষ্য হলো ইরানের সীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর পথে অগ্রগত অস্ত্র, দ্বৈত-উপযোগী প্রযুক্তি, নিষিদ্ধ পণ্য ও অবৈধ অর্থপ্রবাহ বন্ধ করা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের ভূমি ও কাস্পিয়ান সাগর পথের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের জন্য 'টাস্ক ফোর্স ইরন গেট' গঠন করেছে।
- 📌 গতকাল সোমবার ইরানের কেশম দ্বীপে দুটি বিস্ফোরণ ঘটে, যা মার্কিন-ইরান সংঘাতকে আরো তীক্ষ্ণ করেছে।
- 📌 মার্কিন সেনাবাহিনী গত জুলাই থেকে ইরানের বন্দর ব্লকেডে ১৪৭টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্য পথে পরিচালনা করেছে এবং ৫টি জাহাজকে অপারেশনাল করতে ব্যর্থ করেছে।
- 📌 মার্কিন সিনিয়র কর্মকর্তা মাইকেল মুল্রো বলেছেন, যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধে আরো বাড়তি পদক্ষেপ নেন, তাহলে লক্ষ্য হবে ইরানের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো।
- 📌 ইরানের বিপ্লবী গার্ডস নৌবাহিনী ঘোষণা করেছে, কেশম দ্বীপের নিকটে দুটি তেল ট্যাঙ্কার মাইনে আঘাত পেয়েছে এবং নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ থাকায় তারা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্য প্রাচ্য কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা করেছে, তারা ইরানের ভূমি পথে অগ্রগত অস্ত্র ও অন্যান্য সরবরাহ বন্ধের জন্য একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্কফোর্সের নাম 'টাস্ক ফোর্স ইরন গেট'। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেছেন, এই টাস্কফোর্স তাদের সমুদ্রে জোরালো ব্লকেডের সাফল্য বাড়াতে সাহায্য করবে। টাস্কফোর্স ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় অবস্থিত এবং মার্কিন সরকারের অন্যান্য সংস্থাসহ কাজ করবে। তাদের লক্ষ্য হলো ইরানের সীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর পথে অগ্রগত অস্ত্র, দ্বৈত-উপযোগী প্রযুক্তি, নিষিদ্ধ পণ্য ও অবৈধ অর্থপ্রবাহ বন্ধ করা।
মাইকেল মুল্রো, একজন সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, আল জাজিরার সাথে কথা বলেন, এই টাস্কফোর্সের কাজ হলো বুঝতে পারা যে কিভাবে অস্ত্র পৌঁছায় ইরানে এবং কিভাবে তা বন্ধ করা যায়। তিনি বলেন, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধে আরো বাড়তি পদক্ষেপ নেন, তাহলে লক্ষ্য হবে ইরানের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো। তিনি বলেন, 'অপারেশন ইপিক ফিউরি' মূলত সামরিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করত, কিন্তু এই নতুন পদক্ষেপের লক্ষ্য হবে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে তাদের ব্লকেডে ১৪৭টি বাণিজ্যিক জাহাজ অন্য পথে পরিচালনা করা হয়েছে এবং ৫টি জাহাজকে অপারেশনাল করতে ব্যর্থ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার, মার্কিন সামরিক বিমান গোলফ অবমানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ 'এম/ভি হুদা' এর পিছনের অংশে প্রিসিশন মিউনিশন ছুঁড়ে দিয়েছে। জাহাজের ক্রুকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে তারা লক্ষ্যবস্তু ত্যাগ করবে।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ ঘোষণা করেছে, কেশম দ্বীপে দুটি বিস্ফোরণ শোনা গেছে। এছাড়াও জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহরে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ শোনা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল কেশম দ্বীপে নতুন হামলার কথা স্বীকার করেছেন, কিন্তু তা 'মাইনর' বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তেহরান এখনও কাতার মধ্যস্থতায় আলোচনার আগ্রহ দেখাচ্ছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডস নৌবাহিনী ঘোষণা করেছে, কেশম দ্বীপের নিকটে দুটি তেল ট্যাঙ্কার মাইনে আঘাত পেয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলেছে, ট্যাঙ্কারগুলি নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ থাকায় একটি 'অসফল' অংশ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মাইন আঘাতের পরে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
"টাস্ক ফোর্স ইরন গেট ইরানের ভূমি পথে অগ্রগত অস্ত্র ও অন্যান্য সরবরাহ বন্ধের জন্য গঠিত হয়েছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কেশম দ্বীপ, জাস্ক, সিরিক, বন্দর আব্বাস, গোলফ অবমান, কাস্পিয়ান সাগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার, মাইকেল মুল্রো, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৭টি বাণিজ্যিক জাহাজ, ৫টি অপারেশনাল করতে ব্যর্থ জাহাজ, ২টি বিস্ফোরণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!