📌 ৯/১১ আক্রমণের ২৫ বছর পর মার্কিন সিআইএ প্রকাশ করেছে প্রেসিডেন্টের দৈনিক গোয়েন্দা সংক্ষিপ্তসার নথি। এতে উঠে আসে ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদার সম্পর্কে ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মার্কিন নেতাদের জানানো তথ্য। নথিতে উল্লেখ রয়েছে, বিন লাদেনের জিহাদী নেটওয়ার্ক মার্কিন শহরে বিমান হামলার পরিকল্পনা করছিল।
৯/১১ আক্রমণের ২৫ বছর পর মার্কিন সিআইএ (সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি) প্রকাশ করেছে প্রেসিডেন্ট ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রস্তুতকৃত ৭১টি গোপন নথি। এতে উঠে আসে ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদার সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানানো তথ্য। সিআইএ পরিচালক জন রাটক্লিফ (John Ratcliffe) এই নথি প্রকাশকে ‘অত্যন্ত স্বচ্ছতার একটি কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এগুলো হলো মার্কিন ইতিহাসের বৃহত্তম প্রেসিডেন্টের দৈনিক গোয়েন্দা সংক্ষিপ্তসার নথির প্রকাশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭১টি গোপন নথি প্রকাশ: ১৯৯৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য প্রস্তুতকৃত ১০১ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করা হয়েছে।
- 📌 বিন লাদেনের হুমকি সম্পর্কে বারবার সতর্কতা: নথিতে উল্লেখ রয়েছে, বিন লাদেনের জিহাদী নেটওয়ার্ক মার্কিন শহরে বিমান হামলার পরিকল্পনা করছিল। এক নথিতে বলা হয়েছে, “বিন লাদেনের ‘প্রিয় বিকল্প’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মাটিতে ওয়াশিংটন আক্রমণ করা”।
- 📌 রেডিওঅ্যাক্টিভ ‘ডার্টি বোম্ব’ পরিকল্পনা: ১৯৯৯ সালের জুনে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিন লাদেনের কর্মীরা ‘ডার্টি বোম্ব’ তৈরির চেষ্টা করছিল।
- 📌 তালিবান বিন লাদেনকে হস্তান্তর করতে অস্বীকার: ১৯৯৮ সালের এপ্রিলের নথিতে বলা হয়েছে, তালিবান বিন লাদেনকে ‘আতিথ্য’ দিচ্ছিল এবং সোভিয়েত আক্রমণের সময় তার সহায়তায় ধন্যবাদী হওয়ায় তাকে নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ থেকে বাঁচাতে চেয়েছে।
- 📌 বিন লাদেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়: ২০০১ সালের গ্রীষ্মে প্রকাশিত একটি নথিতে বলা হয়েছে, বিন লাদেন “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে”।
📰 বিস্তারিত
সিআইএ প্রকাশিত নথিগুলোতে ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য সংগ্রহের একটি সম্পূর্ণ রেকর্ড রয়েছে। এতে বিন লাদেনের গতিবিধি, তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বিদেশে তার নেটওয়ার্ক এবং তার অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
নথিগুলোর মধ্যে একটি ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিন লাদেনের “প্রিয় বিকল্প” ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মাটিতে আক্রমণ করা। বিশেষ করে ওয়াশিংটন শহর। এছাড়াও, নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিন লাদেনের কর্মীরা রাসায়নিক, জীবাণু ও রেডিওঅ্যাক্টিভ অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছিল। ১৯৯৯ সালের জুন মাসের নথিতে বলা হয়েছে, বিন লাদেনের কর্মীরা বিস্ফোরক তৈরির পরীক্ষা করছিল যাতে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করা যায়।
এই নথিগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন সরকার বারবার সতর্কতা জানিয়েছিল। ১৯৯৮, ১৯৯৯ এবং ২০০০ সালে বেশ কয়েকটি নথিতে বলা হয়েছে যে, বিন লাদেনের জিহাদী নেটওয়ার্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে, ২০০১ সালের গ্রীষ্মে প্রকাশিত একটি নথিতে বলা হয়েছে, বিন লাদেন “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে”।
এছাড়াও, নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৯৮ সালের পূর্বে পূর্ব আফ্রিকার দূতাবাসে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে সতর্কতা জানানো হয়েছিল। একটি নথিতে বলা হয়েছে, “বিন লাদেনের নেটওয়ার্ক মার্কিন শহরে বিমান হামলার পরিকল্পনা করতে পারে”।
"এটি একটি অসাধারণ স্বচ্ছতার কাজ"
"বিন লাদেনের নেটওয়ার্ক মার্কিন শহরে একটি বিস্ফোরক-প্যাক করা বিমান উড়িয়ে দিতে পারে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক সিটি), আফগানিস্তান, পূর্ব আফ্রিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওসামা বিন লাদেন, জন রাটক্লিফ (সিআইএ পরিচালক), জর্জ ডব্লিউ বুশ (প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭১টি নথি, ১০১ পৃষ্ঠা, ২৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!