📌 যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাসের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সি চিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের অংশ হিসেবে এই ঘোষণা করা হয়, যেখানে ট্রাম্প ও সি চিনপিংয়ের বৈঠকে তাইওয়ান, ইরান ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাসের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছে। এই বিরতি আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, যা পূর্বে ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের ঘোষণায় এই তথ্য জানানো হয়। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিং শুধু ছোট ছোট সমঝোতায় না গিয়ে আরও বড় একটি বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করেছে। এই সময়সীমা বাড়ানো তাদের আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি ১০ নভেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আগামী দুই মাসের জন্য কার্যকর থাকবে।
- 📌 চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে পৌঁছানোর পরই এই বিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে তাকে স্বাগত জানান।
- 📌 ১১ বছর পর প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো বিদেশি নেতাকে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে স্বাগত জানান। সর্বশেষ ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পোপ ফ্রান্সিসকে সেখানে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
- 📌 সি চিনপিংয়ের সফরে বাণিজ্য ছাড়াও তাইওয়ান, ইরান ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বড় ধরনের কোনো চুক্তি বা অগ্রগতি আসার সম্ভাবনা কম।
- 📌 চীনের দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়’। তবে কোনো নির্দিষ্ট বাণিজ্য চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি।
- 📌 বাণিজ্যবিরতি বাড়ানো বিশ্ববাজারের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে, কারণ ২০২৫ সালের শুল্কযুদ্ধে শুল্ক তিন অঙ্কের পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এআই নিরাপত্তা ও জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। শেনঝেনে এআই নিরাপত্তা বিষয়ে আবার বৈঠক হবে।
- 📌 বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ট্রাম্প ও সি চিনপিংয়ের মধ্যে তাইওয়ান, ইরান ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাসের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছে। এই বিরতি আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের ঘোষণায় এই তথ্য জানানো হয়। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিং শুধু ছোট ছোট সমঝোতায় না গিয়ে আরও বড় একটি বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এই সময়সীমা বাড়ানো তাদের আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর দিনই এই বাণিজ্যবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা এলো। বুধবার ওয়াশিংটনে পৌঁছালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে গিয়ে তাকে স্বাগত জানান। ১১ বছর পর প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো বিদেশি নেতাকে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে স্বাগত জানান। সর্বশেষ ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পোপ ফ্রান্সিসকে সেখানে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
স্বাগত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ও সি চিনপিং এবং তাদের স্ত্রীরা করমর্দন করেন, কয়েক মিনিট কথা বলেন এবং ছবি তোলেন। এ সময় সামরিক ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে, কামানের গোলা ছোড়া হয় এবং একটি বি-১ সামরিক বোমারু বিমান মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায়। সি চিনপিং প্রায় তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন।
বাণিজ্যবিরতি বাড়ানোকে এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে দেখা হলেও বড় ধরনের কোনো চুক্তি বা অগ্রগতির প্রত্যাশা কম। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ছাড়াও প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান নিয়ে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে। চীনা দূতাবাসের বিবৃতিতে সি চিনপিং বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়’। তবে ওই বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট বাণিজ্য চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি।
বাণিজ্যবিরতি বাড়ানো বিশ্ববাজারের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। ২০২৫ সালের শুল্কযুদ্ধে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক তিন অঙ্কের পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পরে কয়েক দফা আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ শুল্ক কমিয়ে একটি অস্থায়ী বাণিজ্যবিরতিতে যায়। তবে নতুন করে দুই মাস সময় পাওয়ার অর্থ এই নয় যে দুই দেশের বাণিজ্যসংক্রান্ত বিরোধ মিটে গেছে। শুল্ক ও বাণিজ্য সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বিরল-পৃথিবী খনিজ, কম্পিউটার চিপ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের বিরোধ রয়েছে।
"চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।"
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এআই নিরাপত্তা ও জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে চীনের শেনঝেনে এআই নিরাপত্তা বিষয়ে আবার বৈঠক হবে। বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, যেখানে অ্যাপলের টিম কুক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যানের মতো ব্যবসায়ী নেতাদের থাকার কথা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওয়াশিংটন (যুক্তরাষ্ট্র), বেইজিং (চীন), জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ, শেনঝেন (চীন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, সি চিনপিং, স্কট বেসেন্ট, বারাক ওবামা, পোপ ফ্রান্সিস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ জানুয়ারি (বিরতির শেষ তারিখ), ১০ নভেম্বর (পূর্বের বিরতির শেষ তারিখ), ১১ বছর (জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে স্বাগতের ইতিহাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!