📌 ১৯৪৯ সালে চীন কমিউনিস্টদের হাতে চলে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্তের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এবারও ঘটতে পারে। সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিহাসের এই ভুলের কারণে ৫৫ কোটি মানুষের দেশের ভাগ্য পরিবর্তিত হয়েছিল
১৯৪৯ সালে চীন কমিউনিস্টদের হাতে চলে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্তের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এবারও ঘটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ভুলের শিকার দেশ হিসেবে চীনকে বিবেচনা করা হয়। ইতিহাসের এই ভুলের কারণে ৫৫ কোটি মানুষের দেশের ভাগ্য পরিবর্তিত হয়েছিল। এ কারণেই চলতি সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চীনকে সমর্থন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্টরা বিজয়ী হলে ওয়াশিংটন চরম ধাক্কা খেল।
- 📌 স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদেরকে দোষারোপ করা হয়েছিল, যারা কমিউনিস্টদের সম্ভাব্য বিজয় সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
- 📌 ১৯৫০-এর দশকে চীনকে কেন্দ্র করে ‘হু লস্ট চায়না?’ বিতর্কের জন্ম নেয়, যা ‘রেড স্কেয়ার’ আন্দোলনের অংশ ছিল।
- 📌 ৫৫ কোটি মানুষের দেশে কমিউনিস্টদের ক্ষমতা দখল আটকে দিতে পারত যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু সফল হয়নি।
- 📌 নিক্সনের সফরের সময় ‘সাংহাই কমিউনিকে’-এর মাধ্যমে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা হয়।
📰 বিস্তারিত
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র চিয়াং কাই-শেকের জাতীয়তাবাদীদের সমর্থন দিয়েছিল। রুজভেল্ট প্রশাসন ধরে নিয়েছিল যে চীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ‘বিগ ফোর’ ক্ষমতার একটি হয়ে উঠবে। কিন্তু ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৯ সালের গৃহযুদ্ধে মাও সে–তুংয়ের নেতৃত্বাধীন চীনা কমিউনিস্টরা বিজয়ী হলো। ওয়াশিংটন চরম ধাক্কা খেল। যে আন্দোলনকে তারা সামান্যই পাত্তা দিয়েছিল, তা প্রিয় চিয়াংকে টেনে নামাল।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদেরকে দোষারোপ করা হয়েছিল, যারা কমিউনিস্টদের সম্ভাব্য বিজয় সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। তারা সঠিক অনুমান করলেও মাওয়ের শাসনের প্রকৃতি বুঝতে ভুল করেছিলেন। ইয়ানআনের শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা দেখে মুগ্ধ হয়ে কর্মকর্তারা মাওয়ের সর্বগ্রাসী রূপটি দেখতে ব্যর্থ হন। ফলে পরবর্তী সময়ে প্রায় সাত কোটি চীনা নাগরিক হত্যা ও দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছিল।
১৯৭২ সালে নিক্সন ও কিসিঞ্জারের কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ‘হু লস্ট চায়না?’ বিতর্কের সমাপ্তি ঘটে। চীন আর ‘হারিয়ে যাওয়া’ কোনো দেশ ছিল না; বরং সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার মতো ভূরাজনৈতিক চালের ঘুঁটিতে পরিণত হয়েছিল।
"চীন একটিই এবং তার রাজধানী বেইজিং’—এই সংকেত দিয়ে নিক্সন ও কিসিঞ্জার তাইওয়ান সম্পর্কে অস্পষ্ট সমঝোতা সৃষ্টি করেছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (ওয়াশিংটন), চীন (বেইজিং, ইয়ানআন), ভিয়েতনাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সি চিন পিং, ডোনাল্ড ট্রাম্প, মাও সে–তুং, চিয়াং কাই-শেক, রিচার্ড নিক্সন, হেনরি কিসিঞ্জার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ কোটি (চীনের জনসংখ্যা), ৩৭ গুণ (চীনের জনসংখ্যা ভিয়েতনামের চেয়ে বেশি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!