📌 যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যাংক অব আমেরিকাকে অর্থপাচার ও অবৈধ লেনদেন শনাক্ত করতে ব্যর্থতার জন্য ১২০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে। ব্যাংকটি ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছিল, যার মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের লেনদেন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থপাচার ও অবৈধ অর্থায়নের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার জন্য ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ব্যাংকটি ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য সরকারকে জানায়নি, যার মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের লেনদেন জাতীয় নিরাপত্তা ও অবৈধ অর্থায়নের ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যাংক অব আমেরিকাকে অর্থপাচার প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য ১২০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে — এটিই মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম জরিমানা।
- 📌 ব্যাংকটি ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছিল, যার মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের লেনদেন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
- 📌 চীনা অর্থপাচারকারী নেটওয়ার্কের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য লেনদেন ও দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের সাথে যুক্ত বাণিজ্যিক অর্থপাচার শনাক্ত করতে ব্যাংক ব্যর্থ হয়েছিল।
- 📌 ব্যাংক অব আমেরিকা স্বীকার করেছে, তারা ব্যাংক সিক্রেসি অ্যাক্টের বিধান লঙ্ঘন করে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল।
- 📌 জরিমানার পরিণামে ব্যাংকটির ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পূর্বেই শেয়ারপ্রতি নিট আয় প্রায় ১৭ সেন্ট কমবে।
- 📌 রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ৪৭৫টি ঘটনায় ওএফএসি ব্যাংককে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলার জরিমানা করেছে।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ঘোষণা করে যে, ব্যাংক অব আমেরিকা অর্থপাচার ও অবৈধ অর্থায়নের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যর্থ করার জন্য ১২০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এটিই মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম জরিমানা। তিনি বলেন, “এত বড় একটি ব্যাংক অর্থপাচার প্রতিরোধ ও নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হলে তা শুধু ব্যাংকটির নিজস্ব গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না, পুরো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থারও বড় ঝুঁকি তৈরি করে।”
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক অব আমেরিকা ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য সরকারকে জানায়নি। এর মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের লেনদেন জাতীয় নিরাপত্তা ও অবৈধ অর্থায়নের ঝুঁকি তৈরি করেছিল। ব্যাংকটি চীনা অর্থপাচারকারী নেটওয়ার্কের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য লেনদেন ও দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের সাথে যুক্ত বাণিজ্যিক অর্থপাচার শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
ব্যাংক অব আমেরিকা জানিয়েছে, তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার পথে এগিয়ে গেছে। তবে জরিমানার পরিণামে ব্যাংকটির ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পূর্বেই শেয়ারপ্রতি নিট আয় প্রায় ১৭ সেন্ট কমবে। ব্যাংকটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলে ১২০ কোটি ডলারের এমন একটি ব্যয় দেখানো হবে, যার ওপর কর ছাড় পাওয়া যাবে না। এছাড়া, ব্যাংকটি বলেছে, তারা ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী নিয়োজিত করে এবং বিপুল সম্পদ বরাদ্দ দিয়েছে সংশোধনমূলক কার্যক্রমে।
জরিমানার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর (ওসিসি) ৭৫ কোটি ডলার আরোপ করেছে, যা ওসিসির ইতিহাসে সর্বোচ্চ জরিমানা। ওএফএসি জানিয়েছে, ব্যাংক অব আমেরিকার সঙ্গে তাদের ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের সমঝোতা হয়েছে। রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, মাদকদ্রব্য এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচির সম্ভাব্য ৪৭৫টি লঙ্ঘনের ঘটনায় এই সমঝোতা করা হয়েছে। ওএফএসি বলেছে, ব্যাংক অব আমেরিকার লঙ্ঘনগুলোকে ‘গুরুতর নয়’ বলে বিবেচনা করায় সমঝোতার অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ১৬ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
"এত বড় একটি ব্যাংক অর্থপাচার প্রতিরোধ ও নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি শুধু ব্যাংকটির নিজস্ব গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে পুরো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা অবৈধ অর্থায়নের বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে।"
"নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার পথে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি এবং তা সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত, মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২০ কোটি ডলার (জরিমানা), ৫০০ কোটি ডলার (সন্দেহজনক লেনদেন), ১০০ কোটি ডলার (ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন), ১৭ সেন্ট (শেয়ারপ্রতি নিট আয় কমে যাওয়া), ৭৫ কোটি ডলার (ওসিসি জরিমানা), ১ কোটি ১৬ লাখ ডলার (ওএফএসি সমঝোতা), ৪৭৫টি (নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!