📌 ইরান যুদ্ধে মার্কিন বোমারু বিমান ইউরোপের বিভিন্ন ঘাঁটি ব্যবহার করেছে। ব্রিটেনের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে বি-১বি ও বি-৫২ বিমান সরাসরি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। জার্মানির রামস্টাইন, পর্তুগালের লাজেস ও গ্রিসের সুদার ঘাঁটি সহায়তা নেটওয়ার্কে ভূমিকা পালন করেছে। ব্রিটিশ পুলিশ ইরান-সংলগ্ন সন্ত্রাসবিরোধী ঘটনার তদন্ত চলছে
ইরান যুদ্ধে মার্কিন বোমারু বিমান ইউরোপের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে সরাসরি হামলা চালিয়েছে। ব্রিটেনের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে বি-১বি ও বি-৫২ বিমান সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের অভিযান পরিচালনা করেছে। ইউরোপের অন্যান্য ঘাঁটি যেমন জার্মানির রামস্টাইন, পর্তুগালের লাজেস ও গ্রিসের সুদা মার্কিন সহায়তা নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে যুদ্ধবিমান পরিবহন, জ্বালানি সরবরাহ ও মেরামতে ভূমিকা পালন করেছে। ব্রিটিশ পুলিশের তদন্তে ইরান-সংলগ্ন সন্ত্রাসবিরোধী ঘটনার সাথে জড়িত পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যদিও তাদের পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি** থেকে মার্কিন বি-১বি ও বি-৫২ বিমান সরাসরি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে — ১৩ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৮টি বোমারু বিমান মোতায়েন ছিল, যার মধ্যে ১২টি বি-১বি ও ৬টি বি-৫২।
- 📌 **ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম** ইরানের জড়িত থাকার "জোরালো প্রমাণ" দেখিয়েছেন, কিন্তু ইরান অস্বীকার করেছে।
- 📌 **ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা**ে পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেফতার করা হয় — তাদের মধ্যে একজন পুলিশকে ফোন করেছিল।
- 📌 **ইরান** ঘোষণা করেছে যে, মার্কিন বোমারু বিমান ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলো হবে "বৈধ লক্ষ্যবস্তু"।
- 📌 **জার্মানি, পর্তুগাল ও গ্রিসের ঘাঁটি** যুদ্ধবিমান পরিবহন, জ্বালানি সরবরাহ ও মেরামতে সহায়তা করেছে, কিন্তু ফ্রান্স ও স্পেন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
- 📌 **যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাহিনীর ১/৫ অংশ** ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরিত হয়েছিল, যেখানে আকাশপথে সহায়তা ও জ্বালানি সরবরাহের ভূমিকা ছিল।
- 📌 **ব্রিটেন** প্রাথমিকভাবে হামলায় অংশ নেয়নি, কিন্তু ১ মার্চ লন্ডন ওয়াশিংটনের অনুরোধে ঘাঁটি ব্যবহারে সম্মতি দিয়েছে, যা "প্রতিরক্ষামূলক" হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
📰 বিস্তারিত
ইরান যুদ্ধে মার্কিন বোমারু বিমান ইউরোপের বিভিন্ন ঘাঁটি ব্যবহার করে সরাসরি হামলা চালিয়েছে। ব্রিটেনের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যেখানে ৬ মার্চ থেকে মার্কিন বি-১বি ল্যান্সার ও ৯ মার্চ থেকে বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়েছিল। এই ঘাঁটি থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছিল। ১৩ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৮টি বোমারু বিমান মোতায়েন ছিল, যার মধ্যে ১২টি বি-১বি ও ৬টি বি-৫২। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কিন বলেছেন, যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ১,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল কমান্ড সেন্টার, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও ইরানের গোয়েন্দা অবকাঠামো।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ইরানের জড়িত থাকার "জোরালো প্রমাণ" দেখিয়েছেন, কিন্তু ইরান অস্বীকার করেছে। ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায় পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে একজন পুলিশের জরুরি নম্বরে ফোন করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল "বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি" নেওয়ার সন্দেহে। তবে পরবর্তীতে তাদের সবাইকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। ইরান ঘোষণা করেছে যে, মার্কিন বোমারু বিমান ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলো হবে "বৈধ লক্ষ্যবস্তু"।
ইরান যুদ্ধে ইউরোপের অন্যান্য ঘাঁটি যেমন জার্মানির রামস্টাইন, পর্তুগালের লাজেস ও গ্রিসের সুদা মার্কিন সহায়তা নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে যুদ্ধবিমান পরিবহন, আকাশে জ্বালানি সরবরাহ, মেরামত ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ভূমিকা পালন করেছে। তবে ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পোল্যান্ডভিত্তিক সেন্টার ফর ইস্টার্ন স্টাডিজের মতে, ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরিত সামরিক সম্পদের পরিমাণ ছিল মোট মার্কিন বাহিনীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
ব্রিটেন প্রাথমিকভাবে হামলায় অংশ নেয়নি, কিন্তু ১ মার্চ লন্ডন ওয়াশিংটনের অনুরোধে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহারে সম্মতি দিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার এই অনুমতিকে "প্রতিরক্ষামূলক" হিসেবে বর্ণনা করেছে, কিন্তু ইরানের অভ্যন্তরে পরিচালিত হামলার কারণে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
"জোরালো প্রমাণ" রয়েছে ইরানের জড়িত থাকার।
"ইরানে বোমা হামলার জন্য ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলো হবে 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু'।
"এটি মিত্রদের এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের সমষ্টিগত প্রতিরক্ষার কাঠামোর মধ্যে একটি সীমিত, 'প্রতিরক্ষামূলক' ব্যবস্থা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রিটেন (ফেয়ারফোর্ড), জার্মানি (রামস্টাইন), পর্তুগাল (লাজেস), গ্রিস (সুদা), যুক্তরাষ্ট্র, ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, জেনারেল ড্যান কিন, পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮টি বোমারু বিমান (১২টি বি-১বি, ৬টি বি-৫২), ১,০০০+ লক্ষ্যবস্তু, ২৩-২৫ বছর বয়সী পাঁচজন গ্রেফতারকৃত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!