📌 জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের আগে রোহিঙ্গা নেতারা বাংলাদেশে ১০ বছরেরও বেশি বাস্তুচ্যুতি শেষ করার জন্য সময়ভিত্তিক রোডম্যাপের দাবি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে রোহিঙ্গা নেতারা বাংলাদেশে দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাস্তুচ্যুত জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সময়ভিত্তিক রোডম্যাপের দাবি জানিয়েছেন। কক্সবাজারের উখিয়া জামতলী ১৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এই দাবি উত্থাপিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রোহিঙ্গা নেতারা** দাবি করেছেন, ১০ বছরের বাস্তুচ্যুতি শেষ করতে হবে এবং অনির্দিষ্টকালীন শিবির জীবন বন্ধ করতে হবে
- 📌 **প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান** ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের অনুষ্ঠানে দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য রোডম্যাপের আহ্বান জানিয়েছেন
- 📌 **১৪ লাখ রোহিঙ্গা** বর্তমানে ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন, যার মধ্যে ৭ লাখেরও বেশি ২০১৭ সালের আগস্টে পালিয়ে এসেছিলেন
- 📌 **রোহিঙ্গা নারী নেতা সাজিদা বেগম** বলেছেন, নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ না তৈরি হলে সংকট আরও দীর্ঘ হবে
- 📌 **মৌলভী সাইদ উল্লাহ** বলেছেন, রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে বসবাস করছেন, এ অবস্থা অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়
📰 বিস্তারিত
রোহিঙ্গা নেতারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করলেও সংকটের সমাধানে কোনো প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। তারা দাবি করেছেন, শুধু সহমর্মিতা বা প্রতিশ্রুতি নয়, প্রত্যাবাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। জাতিসংঘের চলমান সাধারণ পরিষদের অধিবেশন রোহিঙ্গা সংকটকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে বলে তারা মনে করেন।
মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে ২০১৭ সালের আগস্টে সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর ২০২৪ সাল থেকে আরও প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা নতুন করে অনুপ্রবেশ করেছে। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং নোয়াখালীর ভাসানচরের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে কমপক্ষে ১৪ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।
ইউসিআরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মৌলভী সাইদ উল্লাহ বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা শিবিরে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে বসবাস করছেন। অনির্দিষ্টকাল শিবিরে রেখে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এখন রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’
রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ রফিক বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বহুবার কথা বলেছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা এখনো শিবিরেই রয়েছি। এবার প্রত্যাবাসনের একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়ভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।’
সমাবেশে বক্তারা আরও দাবি করেছেন, প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি আশ্রয়শিবিরে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার বিচার এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
"দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে বসবাস করছেন। অনির্দিষ্টকাল শিবিরে রেখে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এখন রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।"
"রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বহুবার কথা বলেছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা এখনো শিবিরেই রয়েছি। এবার প্রত্যাবাসনের একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়ভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার (উখিয়া জামতলী ১৫ নম্বর আশ্রয়শিবির), গাজীপুর (শ্রীপুর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মৌলভী সাইদ উল্লাহ, মোহাম্মদ রফিক, সাজিদা বেগম, নুরুজ্জামা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮১তম (জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ), ১৫ (আশ্রয়শিবির নম্বর), ২৩ (সেপ্টেম্বর), ৭ লাখ (রোহিঙ্গা), ৩৩টি (আশ্রয়শিবির), ১৪ লাখ (রোহিঙ্গা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!