📌 জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করেছে, ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। শক্তিশালী এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে
জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করেছে, প্রশান্ত মহাসাগরে তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙ্গে যেতে পারে। শক্তিশালী এল নিনোর কারণে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অতীতের কোনো রেকর্ডের চেয়ে বেশি। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২১ অক্টোবর বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে — যা অতীতের রেকর্ডের চেয়ে বেশি।
- 📌 ডিসেম্বর মাসে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
- 📌 এল নিনোর কারণে দক্ষিণ আফ্রিকাতে বন্যার ঝুঁকি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে খরা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি, এবং লাতিন আমেরিকাতে অতিবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
- 📌 জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কর্মকর্তা টম ফ্লেচার বলেছেন, এল নিনো ‘ধ্বংসাত্মক শক্তির’ সমান এবং এর ফলে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি মানুষ খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারেন।
- 📌 ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানান, এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি অতীতের এল নিনোর তুলনায় আরও বেশি — যা আগে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বুধবার (২১ অক্টোবর) একটি নতুন মৌসুমি পূর্বাভাস প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। ডিসেম্বর মাসে এই পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি অতীতের কোনো রেকর্ডের চেয়ে বেশি। আগে শক্তিশালী এল নিনোর সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের এল নিনো বিশেষভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠলে এর প্রভাব খাদ্য উৎপাদন, পানির সরবরাহ, জনস্বাস্থ্য, আবাসন ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণবিষয়ক সমন্বয়ক টম ফ্লেচার এবারের এল নিনোকে ‘ধ্বংসাত্মক শক্তির’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার সতর্কতা, লাতিন আমেরিকা, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। ফ্লেচারের আশঙ্কা, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ আরও তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে খরাপ্রবণ অঞ্চল, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী এবং আগে থেকেই খাদ্যসংকটে থাকা মানুষেরা বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন।
"সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ করা অতীতের রেকর্ডে তাপমাত্রার এমন বৃদ্ধি দেখা যায়নি। এর আগে শক্তিশালী এল নিনোর সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল। নতুন পূর্বাভাস সেই মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, লাতিন আমেরিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সেলেস্তে সাউলো (ডব্লিউএমও মহাসচিব), টম ফ্লেচার (জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (তাপমাত্রা বৃদ্ধি), ৫ কোটি (খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!