📌 জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না এবং কোনো চাপে মাথা নত করবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে 'সন্ত্রাসী' বলে বর্ণনা করার জবাবে বলেছেন, ইরানই সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভাষণ দিতে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না এবং কোনো চাপে মাথা নত করবে না। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের দিনের ভাষণকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, ইরানকে 'সন্ত্রাসী' বলে বর্ণনা করা হলো ইতিহাসের অন্যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান কখনো মাথা নত করবে না এবং কোনো চাপে আত্মসমর্পণ করবে না — জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান
- 📌 ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে 'সন্ত্রাসী' বলে অভিহিত করার জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, 'আমরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছি' — তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি ও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করেন
- 📌 পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পেজেশকিয়ান দাবি করেন, ইরানের প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি — তিনি বলেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে কর্মসূচি পরিচালনা করেনি
- 📌 হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা ঘোষণা করে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান প্রণালিটির আশপাশে 'শক্তিশালী প্রতিবেশী' দেখতে চায়, কিন্তু যারা ইরানের জনগণের ওপর 'নিরাপত্তাহীনতা' চাপিয়ে দিচ্ছে তাদেরকে প্রতিরোধ করবে
- 📌 জাতিসংঘ অনুসন্ধানী মিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার 'যুক্তিসংগত ভিত্তি' রয়েছে ইরানে স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় সামরিক হামলায় — যা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষ্য ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না এবং কোনো চাপে মাথা নত করবে না। পেজেশকিয়ান বলেন, 'তারা বুঝেছে যে ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যায় না। আমরা কখনো মাথা নত করব না কিংবা হাঁটু গেড়ে বসব না।' তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে 'সন্ত্রাসী' বলে বর্ণনা করার জবাবে বলেন, 'আমরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছি।'
পেজেশকিয়ান ভাষণের শুরুতেই ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খামেনি ২০২৩ সালের ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের সময় তেহরানে বিমান হামলায় নিহত হন। এরপর তিনি হামলায় নিহত শিশুদের ছবিও দেখান। জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী মিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার 'যুক্তিসংগত ভিত্তি' রয়েছে ইরানে স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় সামরিক হামলায়। এই হামলাগুলো যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে বলে মিশনটি উল্লেখ করেছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি। তিনি দাবি করেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে কর্মসূচি পরিচালনা করেনি। তিনি বলেন, 'শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ইরানের অগ্রগতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।' তবে পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহ রয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান প্রণালিটির আশপাশে 'শক্তিশালী প্রতিবেশী' দেখতে চায়। তবে তিনি বলেন, যারা ইরানের জনগণের ওপর 'নিরাপত্তাহীনতা' চাপিয়ে দিচ্ছে তাদেরকে প্রতিরোধ করবে। তিনি জানান, ইরান কখনোই হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা স্বীকার করবে না।
"আমরা কখনো মাথা নত করব না কিংবা হাঁটু গেড়ে বসব না। ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো সম্ভব নয়। তারা বুঝেছে, আমরা কখনো আত্মসমর্পণ করব না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ, নিউ ইয়র্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাসউদ পেজেশকিয়ান (ইরানের প্রেসিডেন্ট), ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট), আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ সেপ্টেম্বর (ভাষণের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!