📌 জাতিসংঘের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্বসংস্থাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও মহাশক্তির স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে জাতিসংঘের ভূমিকা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করা, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্থাটির অস্তিত্বের প্রশ্ন উঠছে
জাতিসংঘের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্বসংস্থাটির অস্তিত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২৪ অক্টোবর এই দিনে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের সনদ কার্যকর হয়ে বিশ্বসংস্থাটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা ও লিগ অব নেশনসের ব্যর্থতার পর এই সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থতা, ভূরাজনৈতিক বিভাজন, জলবায়ুসংকট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে জাতিসংঘের ভূমিকা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর লিগ অব নেশনসের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি গঠিত হয়েছিল।
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের প্রচেষ্টায় ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল জাতিসংঘের সনদ স্বাক্ষরিত হয়, কিন্তু তিনি সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
- 📌 লিগ অব নেশনসের ব্যর্থতার মূল কারণ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের অভাব, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সর্বসম্মতির প্রয়োজনীয়তা ও আগ্রাসীদের শাস্তির কার্যকর ব্যবস্থার অভাবে।
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান ১৯৪৫ সালের ১৬ এপ্রিল কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের স্মরণ করে বলেছিলেন যে, যুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিতে হবে।
- 📌 বর্তমান সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগ জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা সংস্থাটির অস্তিত্বের প্রশ্ন উঠিয়ে দিচ্ছে।
- 📌 জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া।
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠার পেছনে ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা ও লিগ অব নেশনসের ব্যর্থতা। লিগ অব নেশনস ১৯১৯ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত হয়েছিল, কিন্তু জার্মানি, ইতালি ও জাপানের সামরিক আগ্রাসন থামাতে ব্যর্থ হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের অভাব ছিল লিগ অব নেশনসের প্রধান দুর্বলতা। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট লিগ অব নেশনসের সাথে যুক্ত হওয়ার চুক্তি বাতিল করে, যা সংস্থাটিকে দুর্বল করে তোলে।
১৯৪১ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দিলে, অক্ষশক্তি-বিরোধী জোটের নেতারা নিজেদের ‘ইউনাইটেড নেশনস’ হিসেবে উল্লেখ করতে শুরু করেন। ১৯৪৩ সালের শেষের দিকে ইরানের তেহরানে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট, যুক্তরাজ্যের উইনস্টন চার্চিল ও সোভিয়েত ইউনিয়নের জোসেফ স্টালিন যৌথ ঘোষণা জারি করেন। এই ঘোষণায় বলা হয় যে, জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানো হবে।
ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের মৃত্যুর ঠিক চার দিন পর, ১৯৪৫ সালের ১৬ এপ্রিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তিনি ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের স্মরণ করে বলেন, যুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, শুধু জার্মানি ও জাপানকে পরাজিত করা যথেষ্ট নয়, বরং একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার নেতৃত্বও দিতে হবে।
১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘের সনদ কার্যকর হয়। এই দিনটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বিশ্বসংস্থাটির কার্যক্রম। ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের বহু বছরের প্রচেষ্টার ফলেই এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে তিনি সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি, কারণ তিনি ১৯৪৫ সালের ১২ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।
"কেবল জার্মানি ও জাপানকে পরাজিত করাই যথেষ্ট নয়; বরং এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার নেতৃত্বেও যুক্তরাষ্ট্রকে সামনে থাকতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট, হ্যারি এস ট্রুম্যান, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮১ (জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী), ১৯৪৫ (জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা), ২৪ (অক্টোবর), ১৬ (এপ্রিল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!