📌 জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আইরিন খান রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের ঘাটতি রয়েছে
জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বান মোতাবেক রোহিঙ্গা সংকটের অবসান ঘটাতে রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে একটি রোডম্যাপ প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা**কে সহায়তা ও প্রত্যাবাসনের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ব্যর্থ হচ্ছে বলে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান সতর্ক করেছেন।
- 📌 **৯ বছর ধরে শিবিরে বসবাস** করছেন রোহিঙ্গারা, প্রতি বছর **৩০ হাজার শিশু** জন্ম নিচ্ছে শিবিরে।
- 📌 **২৩ সেপ্টেম্বর** জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান **পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের** প্রস্তাব দিয়েছিলেন রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে।
- 📌 **মিয়ানমার সরকারকে** দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চাইছেন বাংলাদেশ।
- 📌 **জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরাষ্ট্র**গুলোর দায়িত্ব বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, **১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে** আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্ক থেকে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “সহায়তা কমে যাচ্ছে, মানবিক সহায়তাও হ্রাস পাচ্ছে। রোহিঙ্গারা **৯ বছর ধরে শিবিরে বসবাস** করছে, সেখানে প্রতি বছর **৩০ হাজার শিশু** জন্ম নিচ্ছে। তারা যাবে কোথায়? শিবিরে **৯ বছর** থাকা অনেক দীর্ঘ সময়।”
রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গারা **নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে** মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, **বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা** এবং রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের ঘাটতি রোহিঙ্গা সংকটের অবসান ঘটাতে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা সমস্যার উৎস মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, মিয়ানমার সরকারকে তার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং তাদের জনগণকে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।”
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে **২৩ সেপ্টেম্বর** অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, “সহমর্মিতা থেকে মূল কারণ ও এর সমাধান খোঁজার দিকে, প্রতিশ্রুতি থেকে পদক্ষেপের দিকে এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে তা অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।” তিনি **পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের** প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন।
"প্রকৃতপক্ষে যে বিষয়টি ব্যর্থ হচ্ছে তা হলো, প্রথমত, এই ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে সহায়তা করার আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার; দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করা এবং তৃতীয়ত, এই জনগোষ্ঠীর জন্য একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (জাতিসংঘ সদর দপ্তর), বাংলাদেশের শিবির (রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাষ্ট্রদূত আইরিন খান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ লাখ রোহিঙ্গা, ৯ বছর, ৩০ হাজার শিশু, ২৩ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!