📌 ভারতে রাজনৈতিক আন্দোলন ও বিক্ষোভের সময় নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি চেয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সংযমের আহ্বান জানানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও আইনজীবীরা
ভারতে রাজনৈতিক আন্দোলন ও বিক্ষোভের সময় নির্বিচার আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সময় আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দাবি করে সংস্থাটি বিবৃতি জারি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত ও নির্বিচার আটক ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানায়
- 📌 দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও আইনজীবী নেহা বোরা
- 📌 সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আটক আইনজীবীদের মুক্তির জন্য প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হস্তক্ষেপের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়
- 📌 পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠে
- 📌 সিজেপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান বলেছেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে বলে সংস্থাটি জোর দিয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভ করেন। তারা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে যন্তর মন্তরে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশের সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার পথে প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে প্রবেশ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পাশাপাশি যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন অম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা নেহা বোরা। তাদের পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও সিজেপির কর্মী অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং দলটির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিংকেও আটক করার খবর পাওয়া যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘দেশের তরুণ সমাজ জেগে উঠেছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনকারীদের দমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।’ অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাকে ও পাঁচ সংসদ সদস্যকে আটক করে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কারাগারে ব্যবহৃত একটি গাড়িতে ঘোরানো হয়েছে। পরে দিল্লি পুলিশ আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেয়। তবে সিজেপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
"শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।"
সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বিক্ষোভের সময় আটক আইনজীবীদের মুক্তির বিষয়েও হস্তক্ষেপ করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তার মৌখিক হস্তক্ষেপের পর আটক আইনজীবীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে আটক আইনজীবীদের মুক্তি নিশ্চিত করতে প্রধান বিচারপতির জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: থামিন আল-খিতান, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, নেহা বোরা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সূর্য কান্ত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ অক্টোবর, প্রায় এক হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!