📌 ইউক্রেনের একটি পদাতিক সেনা নিজের পা কাটে বেঁচে যান ৪৯১ দিনের যুদ্ধক্ষেত্রে। ড্রোনের মাধ্যমে নাটকীয়ভাবে উদ্ধার করা হয় ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে। রুশ ড্রোন হামলায় আহত হয়ে তিনি ৮ মাস ধরে বয়লারের নিচে আটকে ছিলেন
ইউক্রেনের একটি পদাতিক সেনা নিজের পা কাটে বেঁচে যান ৪৯১ দিনের যুদ্ধক্ষেত্রে। গত ৪ অক্টোবর মৃত্যুপুরীতে আটকে পড়া কোস্তিয়ান্তিন ভ্লাসেনকোকে একটি বিশাল ছয় পাখার ড্রোন দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করে উদ্ধার করা হয়। এই নাটকীয় উদ্ধারকাজে ড্রোনকে শূন্যে ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ১৫ কিলোমিটার দূরে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের মতে, এটি আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে কোনো সেনাকে উদ্ধারের প্রথম নজির।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউক্রেনীয় সেনা কোস্তিয়ান্তিন ভ্লাসেনকো নিজের পা কাটে বেঁচে যান ৪৯১ দিনের যুদ্ধক্ষেত্রে
- 📌 ড্রোনের মাধ্যমে নাটকীয়ভাবে উদ্ধার করা হয় ১৫ কিলোমিটার দূরে নিরাপদ আশ্রয়ে
- 📌 রুশ ড্রোন হামলায় আহত হয়ে তিনি ৮ মাস ধরে স্কুলের বয়লারের নিচে আটকে ছিলেন
- 📌 ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের হাসপাতালে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে কবর দিয়েই ফেলেছিলাম’
- 📌 ৪৯ বছর বয়সী সেনা ৩০তম মেকানাইজড ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন
- 📌 সহযোদ্ধা বাস্কি ৫০তম জন্মদিনে নিহত হন রুশ ড্রোন হামলায়
- 📌 গর্তের আকার ছিল প্রায় ৮০ বাই ৬০ সেন্টিমিটার
📰 বিস্তারিত
ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের ৩০তম মেকানাইজড ব্রিগেডের পদাতিক সেনা কোস্তিয়ান্তিন ভ্লাসেনকো নিজের পা কাটে বেঁচে যান। তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ ড্রোন হামলায় বাঁ পা হারান এবং ডান পা ভেঙে বেঁকে যান। এই দুর্ঘটনার পর তিনি হামাগুড়িও দিতে পারছিলেন না। প্রায় তিন মাস পর তিনি নিজের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে পা কাটে বেঁচে যান।
৪৯ বছর বয়সী ভ্লাসেনকো প্রায় আট মাস ধরে একটি স্কুলের বয়লারের নিচে আটকে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে কবর দিয়েই ফেলেছিলাম’। ব্যান্ডেজ মোড়ানো পায়ের দিকে তাকিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতাম, বেঁচে ফেরার আর কোনো আশা নেই’।
গত ৪ অক্টোবর তিনি নাটকীয়ভাবে উদ্ধার করা হয়। একটি বিশাল ছয় পাখার ড্রোনকে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করে তাঁকে শূন্যে ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাঁকে ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) দূরে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়। ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের মতে, এটি আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে কোনো সেনাকে উদ্ধারের প্রথম নজির।
ভ্লাসেনকো খারকিভ অঞ্চলে মোতায়েন ছিলেন। তিনি জানান, গত বছরের মে মাসে তাঁকে সামনের সারিতে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি সহযোদ্ধা বাস্কির সঙ্গে যোগ দেন। দুজন একসাথে একটি ছোট মাটির গর্তে আশ্রয় নেন। ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিদিন ওপর থেকে তাঁদের খাবার ও অন্যান্য জিনিসপত্র দেওয়া হতো। ভ্লাসেনকোর জন্মদিনে ড্রোন থেকে চকলেট ও দামি সিগারেটও ফেলা হয়েছিল।
গত বছরের শরৎকালে যখন সেনাদের বদলি করার সময় আসে, তখন দুজন নতুন সেনা তাঁদের জায়গায় আসার পথেই নিহত হন। তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য পাঠানো আরও দুই সেনাকেও হত্যা করা হয়। ভ্লাসেনকো বলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এটি নিশ্চিতভাবেই একটি বাঁকবদলের মুহূর্ত’।
একসঙ্গে ১০ মাস থাকার পর ভ্লাসেনকো ও বাস্কি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তাঁদের জায়গা ছাড়তে বাধ্য হন। কারণ, তাঁদের গর্তে পানি ঢুকে গিয়েছিল। এরপর তাঁরা একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত স্কুল ভবনে আশ্রয় নেন। কিন্তু সহযোদ্ধাদের ফেলা শুকনা কাপড় ও খাবারের প্যাকেট আনতে বের হওয়ার সময় রুশ ড্রোন তাঁদের দেখে ফেলে। এরপর আরেকটি রুশ ড্রোন তাঁদের ওপর বোমা ফেলে। এতে বাস্কি তাঁর ৫০তম জন্মদিনেই নিহত হন। বিস্ফোরণে ভ্লাসেনকোর বাঁ পা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং ডান পায়েও মারাত্মক আঘাত পান। তিনি নড়াচড়াই করতে পারছিলেন না। কোনোমতে একটি গর্তে আশ্রয় নেন, যা ছিল প্রায় ৮০ বাই ৬০ সেন্টিমিটার চওড়া।
"আমি নিজেকে কবর দিয়েই ফেলেছিলাম। আমি জানতাম, বেঁচে ফেরার আর কোনো আশা নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভ, মৃত্যুপুরী (কিল জোন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কোস্তিয়ান্তিন ভ্লাসেনকো (৪৯ বছর), সহযোদ্ধা বাস্কি (৫০ বছর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৯১ দিন (যুদ্ধক্ষেত্রে), ১৫ কিলোমিটার (উদ্ধার দূরত্ব), ৮০ বাই ৬০ সেন্টিমিটার (গর্তের আকার), ৩০তম মেকানাইজড ব্রিগেড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!