📌 যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ৫৫ বছর বয়সী কর্মকর্তা কাশিম চৌধুরী একই সময়ে পাঁচটি পূর্ণকালীন চাকরি করে ৩ লাখ পাউন্ড আয়ের জালিয়াতি করছিলেন। মেকআপ মেখে অসুস্থতার অভিনয় করেও শেষ রক্ষা হলো না। আদালতে তার জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একই সময়ে পাঁচটি পূর্ণকালীন সরকারি চাকরি করে প্রায় সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড আয়ের জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে। ৫৫ বছর বয়সী কর্মকর্তা কাশিম চৌধুরী কোভিড মহামারীর সময়ের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সংস্কৃতিকে অপব্যবহার করে এই জালিয়াতি চালিয়েছিলেন। সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে এই মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটররা অভিযোগ উঠিয়েছেন যে, তিনি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট আটটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড উপার্জন করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৫ বছর বয়সী কর্মকর্তা কাশিম চৌধুরী একই সময়ে পাঁচটি পূর্ণকালীন চাকরি করে ১৮৩ ঘণ্টা সপ্তাহে কাজের খাতায় দেখিয়ে বেতন তুলছিলেন — অথচ একটি সপ্তাহে মোট ১৬৮ ঘণ্টা থাকলেও!
- 📌 ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি একসঙ্গে পাঁচটি চাকরি করছিলেন — টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল, পরিবেশ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, হোম অফিস, ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি এবং ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি
- 📌 মেকআপ মেখে অসুস্থতার অভিনয় করেও ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির ম্যানেজার অ্যালিশা অ্যাডামসের সাথে ভিডিও কলে তার মেকআপ সরে গিয়ে আসল চামড়া বেরিয়ে পড়ে — এতে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়
- 📌 ৯টি অভিযোগে জালিয়াতির দায়ে তিনি আদালতে অস্বীকার করেছেন, কিন্তু প্রমাণের মুখে তার জালিয়াতি ফাঁস হয়েছে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাজ্যের লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে এই মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, কাশিম চৌধুরী ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে চাকরি শুরু করেন। এরপর তিনি একের পর এক বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ, হোম অফিস, ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি এবং ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি পর্যন্ত তিনি একসঙ্গে কাজ করতেন। প্রতিটি নতুন চাকরিতে তিনি আগের চাকরির কথা সম্পূর্ণ গোপন রেখে যেতেন।
কাশিম চৌধুরী কোভিড মহামারীর সময়ের দূরবর্তী কাজের সুযোগকে পুরোপুরি অপব্যবহার করেছিলেন। তিনি ‘উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা’র অজুহাত দেখিয়ে অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার কথা বলে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি নিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের চাপ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে তিনি ধরা পড়েন। ২০২৩ সালের মে মাসে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির (ইউকেএইচএসএ) ম্যানেজার অ্যালিশা অ্যাডামস তার অনুপস্থিতি নিয়ে কথা বলতে একটি ভিডিও কলের আয়োজন করেন।
মিটিংয়ে কাশিমকে দেখতে অসুস্থ লাগানোর জন্য তিনি মুখে মেকআপ মেখে এসেছিলেন। কিন্তু মিটিং চলাকালীন তার কপালে মেকআপ সরে গিয়ে আসল চামড়া বেরিয়ে পড়ে এবং তার মুখ ও গলার রঙের ভিন্নতাও ধরা পড়ে যায়। প্রসিকিউটর লুসি অর্গান আদালতকে জানান, ম্যানেজারের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য তিনি কতটা হাস্যকর রকমের মিথ্যা আশ্রয় নিয়েছিলেন। এছাড়া ভুলবশত অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ইমেইল আইডি দিয়ে মিটিংয়ে যোগ দেওয়ায় তার একাধিক চাকরির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে এই মামলার বিচারকার্য চলছে।
"মেকআপ সরে গিয়ে আসল চামড়া বেরিয়ে পড়ার মাধ্যমে তার জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি ম্যানেজারের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য অসুস্থতার অভিনয় করছিলেন, কিন্তু তার অভিনয় ফাঁস হয়ে যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন, যুক্তরাজ্য (সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাশিম চৌধুরী (৫৫ বছর), ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির ম্যানেজার অ্যালিশা অ্যাডামস, প্রসিকিউটর লুসি অর্গান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ বছর বয়স, ৯টি অভিযোগ, ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড আয়ের জালিয়াতি, ১৮৩ ঘণ্টা সপ্তাহে কাজের খাতায়, ১৬৮ ঘণ্টা সপ্তাহে মোট সময়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!