📌 যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইরানের জড়িতপনাকে নিশ্চিত করে বলেছেন, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ঘটা ঘটনায় বিদেশি শক্তির হাতের সন্দেহ রয়েছে। পাঁচজন সন্দেহভাজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র সমালোচনা করেছেন
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইরানের জড়িতপনাকে নিশ্চিত করে বলেছেন, গ্লস্টারশায়ারের মার্কিন বিমানঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে ঘটা ঘটনায় ইরানের ভূমিকা ছিল বলে তাঁর সরকারের বিশ্বাস। গত রোববার রাতে পুলিশ সন্দেহজনক তিনটি ভ্যানকে বিমানঘাঁটির দিকে যাওয়ার খবর পেয়েছিল। পরে প্রায় ৩.২ কিলোমিটার দূরের উইলফোর্ড এলাকায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইরানের জড়িতপনাকে নিশ্চিত করে বলেছেন, ফেয়ারফোর্ড ঘটনায় বিদেশি শক্তির হাতের সন্দেহ রয়েছে
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জামিনে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন, বলেছেন 'আমি হলে এমনটা করতাম না'
- 📌 মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের হুমকির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইরান বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থে হামলার হুমকি দিচ্ছে
- 📌 পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের আগে একজন নিজেই ৯৯৯ নম্বরে জরুরি সেবা চেয়েছিলেন
- 📌 যুক্তরাজ্য সরকার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন বোমারু বিমান ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, যা ইরানের আইআরজি সতর্কবার্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে ঘটা ঘটনায় ইরান কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল বলে জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে’। তবে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাজ্যের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা কথিত সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি সবকিছুই বলে দেয়’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি হলে বলতাম, তাঁদের জামিন দেওয়া যাবে না। তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় আমি বিস্মিত। আমি হলে এমনটা করতাম না’। ট্রাম্পের এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর জামিন শর্তের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বার্নহ্যাম বলেছেন, ‘মুক্তি দেওয়া হয়েছে’ কথাটি শুনে মানুষ যা ভাবছে, বিষয়টি তা নয়। তাঁদের কঠোর শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খুব শক্তভাবে তদারকি করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে বলেছেন, ‘ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় স্পষ্টভাবেই কোনো বিদেশি শক্তির হাত থাকার ইঙ্গিত আছে। ইরান বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থে হামলার প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে আসছে’। যুক্তরাজ্য সরকার সপ্তাহ ধরে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং ঘটনাটি কীভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে তা জানিয়েছে। বার্নহ্যাম বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি, এ ঘটনায় ইরান কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল বলে আমাদের বিশ্বাস’।
গ্লস্টারশায়ারের কটসওল্ডসে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে আসছে। ঘাঁটিটি ফেয়ারফোর্ড শহর থেকে প্রায় ৬.৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। ২০০৩ সালে ইরাকে হামলার সময় এখান থেকে বি-৫২ বোমারু বিমান দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়েও ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ যুক্তরাজ্য ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন বোমারু বিমান ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজি) সতর্কবার্তা দিয়েছিল, ফেয়ারফোর্ড থেকে মার্কিন বোমারু বিমান উড়তে দেওয়া যাবে না, বরং পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছিল।
"আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে যা ঘটেছে, তাতে ইরান কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল বলে জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গ্লস্টারশায়ার, যুক্তরাজ্য (আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যান্ডি বার্নহ্যাম (যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী), ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট), মার্কো রুবিও (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী), আব্বাস আরাগচি (ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩.২ কিলোমিটার (ঘটনাস্থল থেকে বিমানঘাঁটি), ৬.৪ কিলোমিটার (ফেয়ারফোর্ড শহর থেকে বিমানঘাঁটি), ৫ জন (সন্দেহভাজন), ৯৯৯ (জরুরি সেবা নম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!