📌 উগান্ডার তোরো রাজ্যে সাবেক রাষ্ট্রীয় সংবাদ উপস্থাপক এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা রাজা হিসেবে মুকুট পরলেন। উত্তরাধিকার বিতর্কের মধ্যেই এই রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন হলো, যেখানে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মুখে তিনি সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। ৫৬ বছর বয়সী কিজানাঙ্গোমা দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন এবং রাজত্বের দায়িত্ব গ্রহণের সময় জনগণের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী তোরো রাজ্যে সাবেক রাষ্ট্রীয় সংবাদ উপস্থাপক এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা রাজা হিসেবে মুকুট পরলেন। ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি দীর্ঘ দুই দশক ধরে উগান্ডার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে সংবাদ উপস্থাপনা ও সাংবাদিকতা করেছেন। তবে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জোরালো বিতর্কের মধ্যেই তাঁর রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। গত মাসে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মারা যান তোরো রাজ্যের দীর্ঘদিনের শাসক রাজা ওইয়ো নিইম্বা কাবাম্বা ইগুর রুকিডি ৪র্থ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজা এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা নেয়াবোঙ্গো ১ম হিসেবে মুকুট পরান উগান্ডার তোরো রাজ্যে, তবে উত্তরাধিকার বিতর্কের মধ্যেই রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন হয়
- 📌 প্রয়াত রাজা ওইয়োর মা রানী বেস্ট কেমিগিসা দাবি করেন, তাঁর টেক্সাসে থাকা শিশু সন্তানকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করা হয়েছিল, কিন্তু বাবিটো কমিটি তা প্রত্যাখ্যান করে কিজানাঙ্গোমাকে নির্বাচন করেন
- 📌 রাজা ওইয়ো ১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন এবং ৩১ বছর শাসন করেন, বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাজা হিসেবে পরিচিতি পান
- 📌 রাজা কিজানাঙ্গোমা বলেন, ‘আমাকে রাজ উপাধি দেওয়া হয়েছে, তবে আমি একা কাজ করতে পারি না। আমাকে আপনাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে’
- 📌 উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওওয়ারি মুসেভেনি এবং সামরিক প্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা নতুন রাজাকে সমর্থন জানিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
তোরো রাজ্যের তথ্যমন্ত্রী চার্লস মুয়াঙ্গুহিয়া বিবিসিকে জানান, রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে নতুন রাজাকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে রাজপ্রাসাদে পৌঁছাতে হয়। ঐতিহ্য অনুযায়ী মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় রাজকীয় আচার-অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে একটি প্রতীকী যুদ্ধের আয়োজন করা হয়, যা বোঝায় যে রাজত্ব পরিচালনা করা সহজ নয়। এরপর রাজপরিবারের ‘বাবিটো’ গোত্রের সদস্যরা নতুন রাজাকে আশীর্বাদ করেন।
রাজা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সহজ ছিল না। তোরো রাজ্যের প্রথা অনুযায়ী, প্রয়াত রাজার কোনো স্বীকৃত ছেলে সন্তান থাকলে তিনিই হবেন পরবর্তী উত্তরাধিকারী। তবে রাজা ওইয়োর মা, রানী বেস্ট কেমিগিসা দাবি করেন, তাঁর ছেলে মৃত্যুর আগে একটি উইল রেখে গেছেন এবং টেক্সাসে থাকা তাঁর এক শিশু সন্তানকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করে গেছেন। রানী কেমিগিসার মতে, প্রয়াত রাজার ইচ্ছা মেনে চলা উচিত ছিল। তবে রাজার নির্বাচন পরিচালনাকারী ২১ সদস্যের বাবিটো গোত্রীয় কমিটি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁদের মতে, রাজবংশের সামনে তেমন কোনো সন্তানকে কখনোই উপস্থাপন করা হয়নি এবং তাঁরা ঐতিহ্য ও নিয়ম মেনে নতুন রাজা হিসেবে কিজানাঙ্গোমাকে নির্বাচন করেছেন।
রাজা কিজানাঙ্গোমা এবং প্রয়াত রাজা ওইয়ো সম্পর্কে চাচাতো ভাই। উভয়েই ১৯২৮ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তোরো রাজত্বকারী ১১তম রাজা রুকিডি ৩য়-এর নাতি। রাজা নির্বাচনের তালিকায় যুক্তরাজ্যের একটি অপেশাদার ফুটবল ক্লাবের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক যুবরাজ জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসির নামও বিবেচিত হয়েছিল। তবে তিনি ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে সিংহাসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন বলে জানা গেছে।
রাজা কিজানাঙ্গোমা ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৯ সালে উগান্ডার মাকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগে ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি প্রতিবেশী রুয়ান্ডা এবং উগান্ডার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ইউবিসি-তে দীর্ঘ দুই দশক সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। নতুন দায়িত্ব পেয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে রাজ উপাধি দেওয়া হয়েছে, তবে আমি একা কাজ করতে পারি না। আমাকে আপনাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে।’ তিনি আরও জানান, সাংবাদিকতার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গড়ে ওঠা পরিচিতি ও সম্পর্ককে তিনি তোরো জনগণের উন্নয়নে কাজে লাগাবেন। তাঁর মা আসিমওয়ে ইউস্তা কিজানাঙ্গোমা বিবিসিকে বলেন, ছোটবেলা থেকেই কঠোরভাবে ঐতিহ্য মেনে চলা ও অনুশাসনের মধ্য দিয়ে তিনি ছেলেকে বড় করেছেন। তিনি কিজানাঙ্গোমাকে একজন মার্জিত এবং শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন।
"আমাকে রাজ উপাধি দেওয়া হয়েছে, তবে আমি একা কাজ করতে পারি না। আমাকে আপনাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উগান্ডার তোরো রাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাজা এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা নেয়াবোঙ্গো ১ম, রানী বেস্ট কেমিগিসা, চার্লস মুয়াঙ্গুহিয়া, প্রেসিডেন্ট ইওওয়ারি মুসেভেনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৬ বছর (রাজা কিজানাঙ্গোমার বয়স), ৩৪ বছর (প্রয়াত রাজা ওইয়োর বয়স), ৩১ বছর (রাজা ওইয়োর শাসনকাল), ৪ কিলোমিটার (রাজা কিজানাঙ্গোমা হেঁটে যাওয়া পথ), ২১ সদস্য (বাবিটো কমিটি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!