📌 টাইফুন চাম্পি তাইওয়ানে নিহত ১ জন, আহত ৫২৭ জন এবং ২ লাখ ৮৮ হাজার বাড়ির বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ঝড়ের কারণে পরিবহন ব্যাহত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সতর্কতা জারি করেছে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের আশঙ্কায়।
টাইফুন চাম্পির আঘাতে তাইওয়ানে নিহত হয়েছে একজন এবং অন্তত ৫২৭ জন আহত হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে দ্বীপটির ২ লাখ ৮৮ হাজার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শনিবার ও শুক্রবার তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূল দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ঝড়টি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তবে পরে দুর্বল হয়ে চীনের উপকূলের দিকে উত্তরমুখী হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টাইফুন চাম্পির আঘাতে তাইওয়ানে নিহত ১ জন, আহত ৫২৭ জন
- 📌 ঝড়ের কারণে ২ লাখ ৮৮ হাজার বাড়ির বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, অধিকাংশে আবার বিদ্যুৎ চালু
- 📌 শনিবার ২৫৯টি ফ্লাইট বাতিল, শুক্রবার বাতিল হয়েছিল প্রায় ১০০০টি ফ্লাইট
- 📌 ঝড়ের কারণে তাইওয়ানের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে
- 📌 চাম্পির প্রভাবে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত
- 📌 চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে ৪০০ জন উদ্ধারকর্মী ও ৬০০টি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
সুপার টাইফুন চাম্পি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূল দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। ঝড়ের কেন্দ্র শনিবার তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। ঝড়ের প্রভাবে তাইওয়ানের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। তাইওয়ানের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ঝড়ে নিহত ব্যক্তি লিউচিউ দ্বীপের বাসিন্দা। তিনি ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়েছিলেন।
কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ঝড়ের কারণে পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের (সিডব্লিউএ) তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের ঝাপটার গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১২৬ কিলোমিটার ছিল। তবে আগে উপকূলের কিছু এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। একপর্যায়ে ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটারও ছিল।
তাইওয়ানের দমকল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ে আহত হয়েছেন ৫২৭ জন। এছাড়া চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাইওয়ান পাওয়ার কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ে দুই লাখ ৮৮ হাজার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে অধিকাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার চালু করা হয়েছে। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে শনিবার ২৫৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার বাতিল হয়েছিল প্রায় এক হাজার ফ্লাইট। ফলে শনিবার ফ্লাইট চলাচলের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
তাইপেসহ তাইওয়ানের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কর্তৃপক্ষ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। সিডব্লিউএর পূর্বাভাসক লিন পিং-ইউ বলেছেন, ‘আজ রাত থেকে আগামীকাল সকাল পর্যন্ত সর্বত্র খুব ঝোড়ো বাতাস ও ঝড়ো আবহাওয়া থাকবে। দয়া করে ঘরের ভেতরে থাকার চেষ্টা করুন।’
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঝড়ের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সিডব্লিউএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে চাম্পির প্রভাবে তাইওয়ানে সর্বোচ্চ ৯০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দ্বীপটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। শুক্রবার ইলান কাউন্টিতে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
চাম্পির প্রভাবে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ওকিনাওয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সেখানে প্রায় আট হাজার ৪০০টি বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি ওকিনাওয়ার কাছে অবস্থান করার পর চীনের পূর্ব উপকূল ঘেঁষে এগোবে। পরে উত্তর-পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে দক্ষিণ জাপানের দিকে যেতে পারে।
চাম্পি চীনের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় দেশটির কর্তৃপক্ষও প্রস্তুতি জোরদার করেছে। চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশে একটি দল পাঠিয়েছে। রোববার পর্যন্ত সেখানে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা জানানো হয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য ৪০০ জন উদ্ধারকর্মী ও ৬০০টি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ৪১ হাজারের বেশি দমকলকর্মীকে জরুরি দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
"আজ রাত থেকে আগামীকাল সকাল পর্যন্ত সর্বত্র খুব ঝোড়ো বাতাস ও ঝড়ো আবহাওয়া থাকবে। দয়া করে ঘরের ভেতরে থাকার চেষ্টা করুন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তাইওয়ান, চীন, জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাইওয়ানের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসক লিন পিং-ইউ, লু কুও-চেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫২৭ জন আহত, ২ লাখ ৮৮ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন, ১৭০ কিলোমিটার দূরে ঝড়ের কেন্দ্র, ১২৬ কিলোমিটার বাতাসের গতি, ২৫৯টি ফ্লাইট বাতিল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!