📌 বিশ্ব পর্যটনে দুটি বিপরীতধর্মী জাদুঘর যুক্ত হয়েছে: ফিলিপাইনের 'মুসেও দেল গালিওন' ৪০০ বছরের পুরোনো সমুদ্রবাণিজ্যের ইতিহাসকে জীবন্ত করেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের 'লুকাস মিউজিয়াম অব ন্যারেটিভ আর্ট' ১.৫ বিলিয়ন ডলারে নির্মিত পপ-আর্টের মহাকাব্য উপস্থাপন করছে
বিশ্ব পর্যটনকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে দুটি বিপরীতধর্মী জাদুঘর। একটি জাদুঘর ৪০০ বছরের পুরোনো সমুদ্রবাণিজ্যের রোমাঞ্চকর ইতিহাসকে জীবন্ত করেছে, অন্যটি পপ-আর্ট ও চলচ্চিত্রের কল্পনার বিশ্বকে আধুনিক স্থাপত্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছে। এই দুটি জাদুঘর বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফিলিপাইনের ম্যানিলায় 'মুসেও দেল গালিওন' জাদুঘরে ১৬০৩-১৬১৮ সালের 'এস্পিরিতু সান্তো' জাহাজের ১০০ ফুট উঁচু ও ১৩০ ফুট দীর্ঘ ফাইবারগ্লাস রেপ্লিকা প্রদর্শিত হচ্ছে, যেখানে নাবিকদের রাতের প্রশান্ত মহাসাগরের অভিজ্ঞতা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে উপস্থাপিত
- 📌 জাদুঘরে ছয়টি মসলার বয়াম থেকে স্পর্শ ও ঘ্রাণের মাধ্যমে এশিয়ার মসলার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়, এবং টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে প্রাচীন নক্ষত্র ও সূর্য দেখে দিকনির্ণয় কৌশল শেখানো হয়
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নির্মিত 'লুকাস মিউজিয়াম অব ন্যারেটিভ আর্ট' ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ২০ বছরের মধ্যে নির্মিত, যেখানে স্টার ওয়ার্সের প্রপস, ফ্রিদা কাহলোর স্বপ্রতিকৃতি এবং কমিকসের অঙ্কিত প্যানেল প্রদর্শিত
- 📌 জাদুঘরটি দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের এক্সপোজিশন পার্কে অবস্থিত, যেখানে ২০০টির বেশি গাছ ও সবুজ পার্কের সাথে একত্রিত করা হয়েছে
- 📌 'মুসেও দেল গালিওন' জাদুঘরে বিশ্বের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ক্রু ফিলিপাইনের নাবিকদের অবদানকে স্মরণীয় করেছে
📰 বিস্তারিত
শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস জানার অন্যতম মাধ্যম হলো জাদুঘর। বিশ্ব পর্যটনে সম্প্রতি যুক্ত হওয়া দুটি জাদুঘর তাদের সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ধারণার কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অবস্থিত 'মুসেও দেল গালিওন' জাদুঘরটি ঐতিহাসিক গালিওন জাহাজ ও ফিলিপাইনের নাবিকদের সাহসিকতার গল্পকে জীবন্ত করেছে। ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনী ও বিশালাকার জাহাজের রেপ্লিকার মাধ্যমে সেখানে প্রাচীনকালের সমুদ্রবাণিজ্যের রোমাঞ্চকর ইতিহাসের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নির্মিত 'লুকাস মিউজিয়াম অব ন্যারেটিভ আর্ট' ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগে নির্মিত। এই জাদুঘরটি পপ কালচার ও চলচ্চিত্রের কল্পনার বিশ্বকে নতুন মর্যাদায় নিয়ে এসেছে। জাদুঘরটিতে প্রায় ৪০ হাজার শিল্পকর্মের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে, যা পাঁচটি থিমভিত্তিক অঞ্চলে বিভক্ত: কমিকস, শিশুদের গল্প, ফ্যান্টাসি, ইতিহাস এবং কমিউনিটি।
মুসেও দেল গালিওন জাদুঘরে ১৬০৩ থেকে ১৬১৮ সালের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরে চলাচলকারী 'এস্পিরিতু সান্তো' জাহাজের ফাইবারগ্লাস রেপ্লিকা প্রদর্শিত হয়েছে। এই রেপ্লিকাটি ১০০ ফুট উঁচু ও ১৩০ ফুট দীর্ঘ। জাহাজের ওপরে তারায় ভরা ছাদ এবং চারপাশে উচ্চমানের এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে নাবিকদের রাতের প্রশান্ত মহাসাগরের অভিজ্ঞতা উপস্থাপিত হয়েছে। জাদুঘরে ছয়টি মসলার বয়াম থেকে এশিয়ার মসলার ঘ্রাণ নেওয়া যায় এবং টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে প্রাচীনকালের নক্ষত্র ও সূর্য দেখে দিকনির্ণয় কৌশল জানা যায়।
লুকাস মিউজিয়াম অব ন্যারেটিভ আর্টের প্রতিষ্ঠাতা হলেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা জর্জ লুকাস এবং তাঁর স্ত্রী মেলোডি হবসন। এই জাদুঘরটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে নির্মিত এবং নির্মাণে প্রায় ২০ বছর সময় লেগেছে। ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চোখধাঁধানো গালার মাধ্যমে এর উদ্বোধন হয় এবং ২২ সেপ্টেম্বর জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। জাদুঘরটি দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের এক্সপোজিশন পার্কের ৩৮০০ সাউথ ভারমন্ট অ্যাভিনিউতে অবস্থিত। চীনা স্থপতি মা ইয়ানসোং এর নকশা করেছেন এবং এটি দেখতে একটি ফিউচারিস্টিক স্পেসশিপের মতো।
"এই জাদুঘরগুলো পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার দরজা খুলেছে। একটি জাদুঘর ইতিহাসকে জীবন্ত করেছে, অন্যটি আধুনিক কল্পনার বিশ্বকে উপস্থাপন করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফিলিপাইনের ম্যানিলা (মুসেও দেল গালিওন), যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস (লুকাস মিউজিয়াম অব ন্যারেটিভ আর্ট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জর্জ লুকাস, মেলোডি হবসন (লুকাস মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা), ফিলিপাইনের নাবিকদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (লুকাস মিউজিয়ামের নির্মাণ খরচ), ৪০০ বছর (সমুদ্রবাণিজ্যের ইতিহাস), ২৫-৩০ শতাংশ (ফিলিপাইনের নাবিকদের অবদান), ১০০ ফুট (জাহাজের উচ্চতা), ১৩০ ফুট (জাহাজের দৈর্ঘ্য), ২০ বছর (লুকাস মিউজিয়ামের নির্মাণ সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!