📌 তিউনিসিয়া সরকার ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রচারের জন্য প্রথম দফায় জরিমানা (১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টিউনিসিয়ান দিনার) করার সিদ্ধান্ত নেয়। আগে এই অপরাধে পাঁচ বছর কারাবাসের শাস্তি ছিল। মানবাধিকার সংস্থা ও সাংবাদিকরা এই আইনকে ‘বিরোধী ও সাংবাদিকদের নির্যাতনের অস্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন
তিউনিসিয়ার সরকার ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রচারের জন্য প্রবর্তিত সাইবার অপরাধ আইন (ডিক্রি ৫৪) হালকা করেছে। শুক্রবার কার্যকর হওয়া এই সংশোধনী অনুযায়ী, প্রথমবারের অপরাধীকে কারাবাসের পরিবর্তে ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টিউনিসিয়ান দিনার (প্রায় ৩,৩৭০ থেকে ৬,৭৪০ মার্কিন ডলার) জরিমানা দিতে হবে। তবে পুনরাবৃত্তি করলে কারাবাসের শাস্তি অব্যাহত থাকবে। এই আইনটি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর ছিল এবং সাংবাদিক, কর্মী ও বিরোধী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **প্রথমবারের অপরাধে** ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টিউনিসিয়ান দিনার জরিমানা (৫ বছর কারাবাসের পরিবর্তে)
- 📌 **পুনরাবৃত্তি করলে** কারাবাসের শাস্তি অব্যাহত থাকবে
- 📌 **সাংবাদিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে** ২০২২ সাল থেকে ১৪ জন সাংবাদিককে মামলা করা হয়েছে, এর মধ্যে ৬ জনের বিরুদ্ধে ডিক্রি ৫৪-এর অধীনে মামলা
- 📌 **বিশেষ শাস্তি** পাবেন সরকারি কর্মকর্তা বা সমতুল্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচারকারী — ১০০,০০০ দিনার জরিমানা (৩২,০০০ মার্কিন ডলার) ও ১০ বছর কারাবাস
- 📌 **মানবাধিকার সংস্থা** ডিক্রি ৫৪কে “বিরোধী দমন ও সাংবাদিকতা স্বাধীনতার অবরোধের অস্ত্র” হিসেবে বর্ণনা করেছে
📰 বিস্তারিত
তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রপতি কাইস সাইয়েদ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরেই ডিক্রি ৫৪ জারি করেছিলেন, যা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অপরাধকে দণ্ডনীয় করে তুলেছিল। এই আইনের অধীনে, যেকোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা তথ্য প্রচার করে যা জনস্বাস্থ্য বা অন্যান্য ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘন করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে পাঁচ বছর কারাবাসের শাস্তি প্রদান করা হত। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা বা সমতুল্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে শাস্তি দ্বিগুণ হয়ে যেত — ১০ বছর কারাবাস ও ১০০,০০০ দিনার জরিমানা। পুনরাবৃত্তি করলে ৬ মাস কারাবাসের সাথে ৫০,০০০ দিনার জরিমানা (১৬,০০০ মার্কিন ডলার) যোগ হত।
তিউনিসিয়ার জাতীয় সাংবাদিক সংঘ (এসএনজেটি) জানিয়েছে, ২০২২ সাল থেকে এই আইনের অধীনে শতাধিক সাংবাদিক, ব্লগার, বিরোধী রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও কর্মীকে মামলা করা হয়েছে। সংঘটি এই অবস্থাকে “অবস্থানগত জরুরি” ঘোষণা করেছে। তাদের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ১২ মাসে ১৪ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, এর মধ্যে ৬ জনের বিরুদ্ধে ডিক্রি ৫৪-এর অধীনে মামলা করা হয়েছে।
প্রখ্যাত আইনজীবী ও কলামিস্ট সোনিয়া দাহমানি ২০২৬ সালের মে মাসে একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে তিউনিসিয়ার কারাগারের অবস্থা নিয়ে সমালোচনা করার পর দুই বছর কারাবাসের শাস্তি পেয়েছিলেন। তিনি এই আইনের অধীনে মোট পাঁচটি মামলায় অভিযুক্ত — প্রতিটি মামলায় তিনি বিভিন্ন মিডিয়া উপস্থিতিতে সাইয়েদের নীতির সমালোচনা করেছিলেন। আগে ২০২৪ সালে তিনি সাইয়েদের নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনা করার পর ১৮ মাস কারাবাসের শাস্তি পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, সাবের বেন চৌচানকে ফেসবুক পোস্টের জন্য ডিক্রি ৫৪সহ বিভিন্ন সেন্সরশিপ আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পেয়েছিলেন।
"এই ডিক্রি ছিল সরকারের বিরোধী দমন ও সাংবাদিকতা স্বাধীনতা অবরোধের একটি শক্তিশালী অস্ত্র। এটি সিভিল সোসাইটি ও ব্যক্তিগত বক্তব্য স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।"
— সাইদ বেনারবিয়া, ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অফ জুরিস্টসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা পরিচালক
তিউনিসিয়ার সাবেক বৈদেশিক মন্ত্রী (২০১১-২০১৩) ও ইসলামপন্থী দল এননাহদার সিনিয়র নেতা রাফিক আবদেসালেম বলেছেন, ডিক্রি ৫৪-এর মাধ্যমে “রাজনৈতিক বিরোধী সবাইকে নীরব করতে” ব্যবহৃত হয়েছে। এননাহদা ছিল সাইয়েদের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী দল, কিন্তু তিনি তাদের নেতৃত্বকে দমন করে দীর্ঘ কারাবাসের শাস্তি দিয়েছেন, যার মধ্যে আবদেসালেমেরও নাম ছিল।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তিউনিসিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাষ্ট্রপতি কাইস সাইয়েদ, সোনিয়া দাহমানি, সাবের বেন চৌচান, রাফিক আবদেসালেম, সাইদ বেনারবিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০,০০০-২০,০০০ টিউনিসিয়ান দিনার (৩,৩৭০-৬,৭৪০ মার্কিন ডলার), ৫ বছর কারাবাস (পূর্বে), ১০০,০০০ দিনার (৩২,০০০ মার্কিন ডলার) জরিমানা, ১৪ জন সাংবাদিক মামলা (২০২৫-২৬)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!