📌 মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নি সংঘাতের নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নীতি। সিরিয়া ও ইরাকের গণকবর আবিষ্কার, সাম্প্রদায়িক হামলা এবং ইরান-বিরোধী পদক্ষেপগুলো অঞ্চলটিকে আরও অস্থির করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯১৬ সালের সাইকস-পিকো চুক্তির কৃত্রিম সীমান্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ফলে এই সংঘাতের জন্ম হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নি সংঘাতের নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নীতিগুলো। ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর থেকে চলমান সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ক্ষত এখনও তাজা, এবং সিরিয়া ও ইরাকের গণকবর আবিষ্কার নতুন করে এই অঞ্চলের অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে সাইকস-পিকো চুক্তির কৃত্রিম সীমান্ত ব্যবস্থার ভাঙনের কারণে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩০টিরও বেশি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে ইরাকের মসুলের কাছে আইএসের গণকবর থেকে, যেখানে ইয়াজিদি নারী, শিশু ও কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধাদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে।
- 📌 সিরিয়ায় ২০২৬ সালে ১৮টি গণকবর আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মধ্যে একটি দেইরি আল-জোরে। গত বছর সিরিয়ায় আলউই সম্প্রদায়ের ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।
- 📌 সিরিয়া-বিশারদ জোশুয়া ল্যান্ডিস মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রদায়িক সংঘাতকে ‘বড় ধরনের বিভাজনপ্রক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা সাইকস-পিকো চুক্তির কৃত্রিম সীমান্ত ব্যবস্থার ভাঙনের ফলস্বরূপ।
- 📌 ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও শিয়া রাজনীতির বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা নেট সোয়ানসনকে বরখাস্ত করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক বিপজ্জনক নীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
- 📌 সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার (সাবেক আল-কায়েদা কমান্ডার) বাহিনীকে ‘হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রণ’ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা অঞ্চলটিকে আরও অস্থির করছে।
- 📌 ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবার নতুন করে জ্বলে উঠেছে, হুতি ও সৌদি-সমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় সরকারের মধ্যে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে।
- 📌 মার্কিন প্রশাসন ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ করার সময় সাদ্দাম আমলের সুন্নি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে অধিকারহীন করে ফেলে, যা পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িক গৃহযুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ইরান-বিরোধী নীতি মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নি সংঘাতকে আরও জোরদার করছে, যেখানে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অঞ্চলটিকে অস্থির করে রেখেছে।
📰 বিস্তারিত
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নীতিগুলোর কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে সাইকস-পিকো চুক্তির কৃত্রিম সীমান্ত ব্যবস্থার ভাঙনের কারণে। ১৯১৬ সালের এই চুক্তিতে পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো সুন্নি ও শিয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে জোরপূর্বক নতুন রাষ্ট্রগুলোয় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এখন প্রতিটি জনগোষ্ঠী নিজ নিজ জাতিগত ও ধর্মীয় সুরক্ষাবলয়ে ফিরে যাওয়ায় শতবর্ষী সেই কৃত্রিম ব্যবস্থা চরম সহিংসতার মধ্য দিয়ে ভেঙে পড়ছে।
সিরিয়া ও ইরাকের গণকবর আবিষ্কার নতুন করে এই অঞ্চলের অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ইরাকের মসুলের কাছে আইএসের গণকবর থেকে ৩০টিরও বেশি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে ইয়াজিদি নারী, শিশু ও কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধাদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। সিরিয়ায় ২০২৬ সালে ১৮টি গণকবর আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মধ্যে একটি দেইরি আল-জোরে। গত বছর সিরিয়ায় আলউই সম্প্রদায়ের ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়াও, সিরিয়ার সুওয়ায়দায় দ্রুজদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা নতুন গঠিত সিরিয়া রাষ্ট্রকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও শিয়া রাজনীতির বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা নেট সোয়ানসনকে বরখাস্ত করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক বিপজ্জনক নীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ও সাবেক আল-কায়েদা কমান্ডার আহমেদ আল-শারার বাহিনীকে ‘হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রণের’ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা অঞ্চলটিকে আরও অস্থির করছে। মার্কিন নীতিনির্ধারকরা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতা না বুঝেই এমন এক বিপজ্জনক খেলায় মেতে উঠেছেন, যার পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবার নতুন করে জ্বলে উঠেছে। হুতি ও সৌদি-সমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় সরকারের মধ্যে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে সুন্নি আলেমরা হুতিদের বিরুদ্ধে মক্কায় হামলার অভিযোগ এনেছেন। যদিও দলটি জানিয়েছে, তারা মক্কায় নয়, বরং আরামকোর তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
“মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রদায়িক সংঘাতকে ‘বড় ধরনের বিভাজনপ্রক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সিরিয়া-বিশারদ জোশুয়া ল্যান্ডিস। তিনি বলেছেন, সাইকস-পিকো চুক্তির কৃত্রিম সীমান্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ফলে এই অঞ্চলে চরম সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মধ্যপ্রাচ্য (ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন, সৌদি আরব)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, জোশুয়া ল্যান্ডিস, আহমেদ আল-শারার, নেট সোয়ানসন, ইয়াজিদি নারী ও শিশু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০টি গণকবর, ১৮টি গণকবর, ১ হাজার ৪০০ জন হতাহত, ৪০০ জন হতাহত (আলউই সম্প্রদায়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!