📌 ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড গাজায় ‘সেইফফায়ার’ ঘোষণার এক বছর পরও প্যালেস্টাইনিদের জন্য কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। হামাসের বন্দীদের মুক্তি ও কিছু আর্থিক প্রতিশ্রুতি হলো প্রধান অর্জন, কিন্তু গাজায় শাসন, সাহায্য ও পুনর্গঠনের কাজে বড় বড় বাধা রয়ে গেছে
গাজায় ‘সেইফফায়ার’ ঘোষণার এক বছর পরও ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড (BoP) প্যালেস্টাইনিদের জন্য কোনো স্থায়ী শান্তি ও পুনর্গঠনের পথ খুলতে ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বোর্ড গাজায় ‘অস্থায়ী প্রশাসন’ হিসেবে স্বীকৃত হলেও, বাস্তবে ইসরায়েলি হামলা, সাহায্য বাধা ও শাসনতন্ত্রের অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হামাসের ১৬৮ বন্দী মুক্ত হলেও গাজায় শাসনতন্ত্র অস্থির** — প্যালেস্টাইনিদের জন্য গঠিত ‘জাতীয় প্রশাসন কমিটি’ (NCAG) গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি ইসরায়েলের বাধার কারণে।
- 📌 **সাহায্য বাধা: দৈনিক ২২৭ ট্রাক সাহায্য আসছে, কিন্তু প্রয়োজন ৬০০ ট্রাক** — ইসরায়েল ‘ডুয়াল ইউজ’ আইটেমস (যেমন টেন্ট, ভেন্টিলেটর) ব্লক করে রেখেছে।
- 📌 **৭ বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি, কিন্তু পুনর্গঠনের খরচ ৭০ বিলিয়ন ডলার** — শান্তি বোর্ডের সদস্যরা ওয়াশিংটনে ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু সংস্থাগুলো বলেছে গাজা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন ৭০ বিলিয়ন ডলার।
- 📌 **৬৬টি প্রকল্পের ২.৪ বিলিয়ন ডলার পরিকল্পনা** — জাতিসংঘের সাধারণ সভায় বোর্ড ঘোষণা করে ৬৬টি পুনর্গঠন প্রকল্পের জন্য ২.৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের পরিকল্পনা।
- 📌 **হামাসের সরকার ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা, কিন্তু ইসরায়েল তা ‘প্রদর্শনী’ বলে দাবি** — হামাসের সরকারের অবসান ঘোষণা হলেও ইসরায়েল তা ‘প্রদর্শনী’ হিসেবে দেখছে।
📰 বিস্তারিত
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড (BoP) ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গঠিত হয়েছিল গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। ট্রাম্পের ২০-পয়েন্ট গাজা শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, বোর্ডের উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ‘ক্রেডিবল পথ’ খুলে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করা। পরিকল্পনায় ছিল ইসরায়েলের গাজা থেকে ৫০% এলাকা প্রত্যাহার, বিমান হামলা বন্ধ, ২৫০ প্যালেস্টাইনী বন্দী ও ১৭০০ জন গাজা বন্দী মুক্তি, সীমান্ত খোলা রাখা, হামাসের বন্দীদের মুক্তি ও পরবর্তীতে তাদের অস্ত্রহীনকরণ।
বোর্ডের সদস্যরা প্রতি বছর ১ বিলিয়ন ডলার ভাতা পেয়ে থাকে। ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়াশিংটনে তাদের প্রথম সভায় ৭ বিলিয়ন ডলার সাহায্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে সংস্থাগুলো বলেছে, গাজা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন ৭০ বিলিয়ন ডলার। জাতিসংঘের সাধারণ সভায় বোর্ড ঘোষণা করে ৬৬টি প্রকল্পের জন্য ২.৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের পরিকল্পনা।
বোর্ডের প্রধান অর্জন হলো হামাসের ১৬৮ বন্দী মুক্তি ও ইসরায়েলের ২৫০ প্যালেস্টাইনী বন্দী মুক্তি। তবে গাজায় শাসনতন্ত্রের কাজে বড় বাধা রয়েছে। প্যালেস্টাইনিদের জন্য গঠিত ‘জাতীয় প্রশাসন কমিটি’ (NCAG) গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি ইসরায়েলের বাধার কারণে। কমিটির প্রধান আলি শাথ ও অন্যান্য প্যালেস্টাইনী প্রযুক্তিবিদরা কায়রো থেকে পরিচালনা করছেন।
সাহায্য বাধা অব্যাহত রয়েছে। দৈনিক ২২৭ ট্রাক সাহায্য গাজায় প্রবেশ করছে, কিন্তু প্রয়োজন ৬০০ ট্রাক। ইসরায়েল ‘ডুয়াল ইউজ’ আইটেমস (যেমন টেন্ট, ভেন্টিলেটর) ব্লক করে রেখেছে। জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা মনিটরিং সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, এই বাধা গাজার মানুষের জীবনযাপনকে আরও কঠিন করছে।
"গাজার মানুষ ‘কফ enough’ — তারা যথেষ্ট ভোগেছেন"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা, ইসরায়েল, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক, কায়রো
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, আলি শাথ (NCAG প্রধান), হামাস, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৮ (হামাসের মুক্ত বন্দী), ২৫০ (প্যালেস্টাইনী বন্দী), ২২৭ (সাহায্য ট্রাক), ৬০০ (প্রয়োজনীয় সাহায্য ট্রাক), ৭ (বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি), ৭০ (বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন), ৬৬ (পুনর্গঠন প্রকল্প)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!