📌 জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অন্যরা শান্তির কথা বললেও তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তিনি ইরানকে বিশ্বের বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে পারমাণবিক শক্তি অর্জনের সুযোগ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিউবা সরকারের পতনের সম্ভাবনা ও আইসিসিকে 'দুর্বৃত্ত আদালত' বলে সমালোচনা করেছেন তিনি
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন যে, অন্য দেশগুলো শান্তির কথা বললেও তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ইরানকে বিশ্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দেশটিকে কখনো পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি ইতিহাসের সবচেয়ে অসাধারণ দেশের নেতা হিসেবে বিপজ্জনক শক্তিদের আর বেড়ে উঠতে দেব না। অন্যরা শুধু কথা বলেছে, আমি কাজ করে দেখিয়েছি। অন্যরা শান্তির কথা বলেছে, আমি শান্তি স্থাপন করেছি। অন্যরা হুমকিকে উপেক্ষা করেছে, আমি তাদের মোকাবিলা করেছি।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতিসংঘে ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছেন, অন্যরা শান্তির কথা বলে থাকলেও তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
- 📌 ইরানকে বিশ্বের বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাম্প বলেছেন, দেশটিকে কখনো পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।
- 📌 ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার সম্ভাবনা দেখিয়েছেন তিনি।
- 📌 কিউবা সরকারের পতন ঘটবে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি তীব্র সংকটে পড়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
- 📌 আইসিসিকে 'দুর্বৃত্ত আদালত' বলে সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো এই আদালতের বিচারের অধীনে থাকবে না।
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশে পরিণত করেছি। অন্যরা সাহসের কথা বললেও আমেরিকা সেটি দেখিয়েছে। অন্যরা শক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমি সেই শক্তি ব্যবহার করে দেশটিকে বিশ্বের শীর্ষে নিয়ে এসেছি।’ ইরানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ইরান বিশ্বকে বিপন্ন করে বেড়ে উঠছিল। কিন্তু আমি আর তাদেরকে সেই সুযোগ দেব না। ইরানকে কখনো পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কি তাদেরকে এমন এক নরকে ঠেলে দেব, যেখানে তাদের বেঁচে ফেরার কোনো সুযোগ থাকবে না?’
৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার সম্ভাবনা দেখিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, নির্বাচনের পরপরই আমাদের একটি চুক্তি হবে। কারণ চুক্তি না করা তাদের জন্য কোনো কাজের কথা নয়। তারা মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমার ফলাফল কী হবে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।’
কিউবা সরকারের অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবা তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও খাদ্য সংকটে পড়েছে। দেশটির সরকার চাপের মধ্যে রয়েছে এবং যেকোনো সময় পতন হতে পারে। কিউবা একদমই একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। আমি বলতে চাই, সমাজতন্ত্র কখনো যুক্তরাষ্ট্রে আসবে না, কিন্তু কিউবায় স্বাধীনতা যাবে।’ ভাষণে কিউবার প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ হিসেবে অধিবেশন কক্ষে থেকে বেরিয়ে যান।
আইসিসি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়ন্ত্রণের বাইরে ও দুর্বৃত্ত একটি সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের কখনো এই আদালতের বিচারের অধীনে থাকতে দেব না। আমরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী এই আদালতের কোনো সম্মান করব না।’ তিনি অন্যান্য দেশকে আইসিসির সদস্যপদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এখনই এই দুর্বৃত্ত আদালত থেকে বেরিয়ে যান।’
"আমি ইতিহাসের সবচেয়ে অসাধারণ দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিপজ্জনক ব্যক্তিদের আর একদিনও বেড়ে উঠতে দিতে রাজি নই। যেখানে অন্যরা শান্তির কথা বলেছে, আমি শান্তি স্থাপন করেছি। যেখানে অন্যরা হুমকিকে উপেক্ষা করেছে, আমি তাদের মোকাবিলা করেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, নিউ ইয়র্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ সেপ্টেম্বর (ভাষণ তারিখ), ৩ নভেম্বর (মধ্যবর্তী নির্বাচন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!