📌 ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে জ্বালানি দাম বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তবে এই সিদ্ধান্তে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। রাশিয়া প্রথম দফায় ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা পরবর্তীতে ৩০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি দামের ক্রমাগত বৃদ্ধির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তবে এই সিদ্ধান্তে মার্কিন রাজনীতিতে উভয় প্রধান দলের আইনপ্রণেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। শুক্রবার ঘোষিত এই চুক্তির অধীনে রাশিয়া প্রথম দফায় ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা পরবর্তীতে মাসে ৩০ লাখ টন পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩ লাখ টন ডিজেলের প্রথম ডেলিভারি**: রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, পরবর্তীতে মাসে ৩০ লাখ টন পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
- 📌 **রাশিয়ার তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত**: ইউক্রেন যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর অবস্থা এই সরবরাহের উপর নির্ভরশীল।
- 📌 **মার্কিন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ**: ৭ জন মার্কিন সেনেটর (৪ রিপাবলিকান, ৩ ডেমোক্র্যাট) বলেছেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ২০২২ সালের রাশিয়া জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘন করছে।
- 📌 **ট্রাম্পের জ্বালানি দাম কমানোর দাবি**: তিনি বলেছেন, "আমেরিকানদের জন্য জ্বালানির দাম কমানো, বিশেষ করে আমাদের মহান কৃষক, পশুপালক ও ট্রাকচালকদের জন্য কম দাম নিশ্চিত করাই আমার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।"
- 📌 **ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা**: ইউক্রেনের ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এই চুক্তি পুতিনের জন্য 'একটি পুরষ্কার' — যা যুদ্ধ অব্যাহত রাখার অর্থ।
- 📌 **মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত**: যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ৭ই এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত রাখবে, কিন্তু রাশিয়ার মার্কিন ব্যাংকগুলিতে সম্পদসহ অন্যান্য সম্পদে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
📰 বিস্তারিত
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা পেট্রোল ও ডিজেলের দামকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তিন লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পরবর্তীতে নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন, তারপর ১০ লাখ টন এবং পরবর্তীতে ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। তবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর অবস্থা এই পরিকল্পনার উপর নির্ভরশীল, কারণ ইউক্রেন যুদ্ধে বেশ কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উভয় রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতারা তীব্র সমালোচনা করছেন। সাতজন মার্কিন সেনেটর (রিপাবলিকান সুসান কলিন্স, লিসা মারকাউস্কি, থম টিলিস, জন কার্টিস এবং ডেমোক্র্যাট জিন শাহিন, রিচার্ড ব্লুমেনথাল, রন ওয়াইডেন) এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, "রাশিয়া যখন ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা অব্যাহত রেখেছে, তখন পুতিনকে আর্থিকভাবে টিকে থাকার সুযোগ করে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নয়।" তারা উল্লেখ করেছেন, ২০২২ সালে কংগ্রেস স্পষ্টভাবে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই চুক্তিকে পুতিনের জন্য 'একটি পুরষ্কার' বলে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এটি এমন একটি যুদ্ধে বিনিয়োগ, যার অবসান ঘটাতে হবে। অন্যদিকে, রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক তাসকে বলেছেন, ভবিষ্যতে রপ্তানির পরিমাণ প্রতি মাসে ৩০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স নিউজকে বলেছেন, জ্বালানির দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান আইনি ব্যবস্থার মধ্যেই এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে।
"আমেরিকানদের জন্য জ্বালানির দাম কমানো, বিশেষ করে আমাদের মহান কৃষক, পশুপালক ও ট্রাকচালকদের জন্য কম দাম নিশ্চিত করাই আমার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউক্রেন, ইরান, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভ্লাদিমির পুতিন, ভলোদিমির জেলেনস্কি, আলেকজান্ডার নোভাক, স্কট বেসেন্ট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ লাখ টন (প্রথম ডেলিভারি), ৩০ লাখ টন (মাসিক সর্বোচ্চ), ৭ জন সেনেটর (সমালোচনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!