📌 ইরান হরমুজ নৌপথ খোলার সপ্তাহব্যাপী প্রস্তাব দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরানের প্রস্তাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের $১২ বিলিয়ন জমা পয়সা মুক্তি, ইরানি তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং নৌব্লকেড তুলে নেওয়ার দাবি ছিল। ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পর শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরান হরমুজ নৌপথ খোলার জন্য একটি সপ্তাহব্যাপী রোডম্যাপ প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু মার্কিন সরকার তা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের প্রস্তাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের $১২ বিলিয়ন জমা পয়সা মুক্তি, ইরানি তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং নৌব্লকেড তুলে নেওয়ার দাবি ছিল। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা এবং হরমুজ নৌপথের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা হরমুজ নৌপথ খোলার জন্য প্রস্তাবিত ছিল।
- 📌 ইরানের প্রস্তাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে $১২ বিলিয়ন জমা পয়সা মুক্তি, ইরানি তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের নৌব্লকেড তুলে নেওয়ার দাবি ছিল।
- 📌 ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘ্চি বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিগুলো পূরণ হলে সপ্তাহের শেষে হরমুজ নৌপথ খোলা যেতে পারে এবং শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে।
- 📌 ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পর মার্কিন সরকার বলেছে, তারা হরমুজ নৌপথের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় কোনো দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
- 📌 কাতার ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
📰 বিস্তারিত
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘ্চি শুক্রবার সংবাদকর্মীদের বলেছেন, ইরান হরমুজ নৌপথ খোলার জন্য একটি সপ্তাহব্যাপী রোডম্যাপ প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জুন ১৭ তারিখের ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) অনুসারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোতে $১২ বিলিয়ন জমা পয়সা মুক্তি, ইরানি তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের নৌব্লকেড তুলে নেওয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আরাঘ্চি বলেন, এই দাবিগুলো পূরণ হলে সপ্তাহের শেষে হরমুজ নৌপথ খোলা যেতে পারে এবং শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত এখন তাদের হাতে রয়েছে। ইরান কোনো বাধ্য, হুমকি বা ভীতির সম্মুখীন হতে চায় না।”
মার্কিন সরকার ইরানের প্রস্তাবের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে পারেনি। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প দ্রুতই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন সরকারের এক অজ্ঞাত সূত্র বলেছেন, ট্রাম্প ইরানের দাবিগুলো পূরণের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের প্রধান দাবিগুলো হলো ইরানের কাছে কোনো নाभিকীয় অস্ত্র না পৌঁছানো এবং হরমুজ নৌপথে স্বাধীন নৌযান চলাচল নিশ্চিত করা। ইরান বলেছে, তাদের নाभিকীয় কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে না যতক্ষণ না তাদের দাবিগুলো পূরণ হয় না।
মার্কিন সরকারের এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, ওয়াশিংটন হরমুজ নৌপথের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় কোনো দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুক্রবার রাতে ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশিয়ালে একটি মানচিত্র পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি তা “ট্রাম্প স্ট্রেইট” নামে উল্লেখ করেছেন। তিনি আগে বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ নৌপথের “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” রাখে এবং তা মার্কিন অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন। ইরান এই দাবিকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে, তারা হরমুজ নৌপথের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখে।
শান্তি আলোচনা এখনও চলছে, তবে তা বেশিরভাগই পরোক্ষভাবে। নিউ ইয়র্কে এই সপ্তাহে সংযুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিষদে কাতার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করছে। উভয় দেশই বলেছে, আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। মার্কিন সরকারের এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, চলমান মধ্যস্থতাকারী আলোচনা “স্বাগতযোগ্য এবং নির্মাণমূলক”। কাতার, এই সংঘাতের একটি মূল মধ্যস্থতাকারী, বলেছে, তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেশেকিয়ানের সাথে শান্তি ও আলোচনার শর্তাবলী নিয়ে কথা বলেছেন।
এই সপ্তাহের আগে, মার্কিন সরকারের বিশেষ দূত জেরেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে নিউ ইয়র্কে ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে মধ্যস্থতাকারী আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প এই আলোচনাকে “বহু ভাল” বলে বর্ণনা করেছেন। তবে ওয়াশিংটনে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একই পাতায় থাকার ব্যাপারে বিশাল সন্দেহ রয়েছে, যেমনটি জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো থমাস ওয়্যারিক বলেছেন।
"আমার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত এখন তাদের হাতে রয়েছে। ইরান কোনো বাধ্য, হুমকি বা ভীতির সম্মুখীন হতে চায় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউ ইয়র্ক (সংযুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিষদ), ওয়াশিংটন ডিসি, হরমুজ নৌপথ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘ্চি, ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেশেকিয়ান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: $১২ বিলিয়ন, ৭ দিন, ১৭ জুন (ইসলামাবাদ এমওইউ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!